kolkata taxi
প্রতীকী ছবি
শ্রয়ণ সেন

“দাদা, কোথায় যাবেন?” বুক করার পর মুহূর্তেই ফোন করে আমায় জিজ্ঞেস করলেন উবের চালক। আমি অতশত না ভেবেই বলে দিলাম আমার গন্তব্য। দক্ষিণ শহরতলি পাটুলি। উবের চালক খুব ভালোভাবে আমায় বললেন, “আচ্ছা দাদা, আমি এখুনি আসছি।” এই কথোপকথনের কয়েক সেকেন্ড পরেই দেখলাম বুকিং বাতিল করে দিয়েছেন ওই চালক।

শুক্রবার ভর সন্ধ্যায় পার্কস্ট্রিট থেকে বাড়ি ফেরার জন্য এ ভাবেই বাতিল হল উবেরে আমার তিনটে বুকিং। উবেরের একটা সুবিধা আছে, চালক যদি নিজে থেকে বুকিং বাতিল করে দেন, তা হলে অন্য এক গাড়ির বুকিং তৎক্ষণাৎ দিয়ে দেয় উবের। কিন্তু পর পর তিনটে বুকিং বাতিল করে দেওয়ার পর, চার নম্বর গাড়িটা যখন দেখলাম ১১ মিনিট দূরে, তখন আমি নিজেই ওই বুকিং বাতিল করলাম। ভিড় মিনি বাসেই ফেরার সিদ্ধান্ত নিলাম।

এই হল অ্যাপ ক্যাবের সংস্কৃতি! ট্যাক্সির ‘রিফিউজাল’-এ অতিষ্ঠ হয়ে যখন সাধারণ মানুষ অ্যাপনির্ভর গাড়িগুলির ওপরে ভরসা করতে চাইছেন, তখনই রোগটা একা ট্যাক্সির নয়, সবারই ধরেছে।

আরও পড়ুন মোমোর পর গ্র্যানি, আতঙ্ক তাড়া করছে মোবাইলে

এটা অবশ্য আমার প্রথম ঘটনা নয়, এর আগেও এ রকম ভাবে ‘রিফিউজাল’-এর শিকার আমি হয়েছি। সেটা ছিল ওলা। গত মার্চেই বাড়ি থেকে বেহালা যাওয়ার জন্য ওলা বুক করেছিলাম। চালক ফোন করে জানতে চাইলেন কোথায় যাব, আমি ভালো মানুষের মতো জায়গাও বলে দিলাম। কিছুক্ষণের মধ্যেই দেখলাম বুকিং বাতিল। উবেরের সুবিধাটা ওলার নেই। তাই বুকিং বাতিল হতেই মহা বিপদে পড়লাম। তাই চালককে ফোন করে জানতে চাইলাম তিনি বুকিং বাতিল কেন করলেন।

“আমি যাব না।” সরাসরি আমার মুখের ওপরে জানিয়ে দিলেন ওলা চালক। কেন যাবেন না, এটা জিজ্ঞেস করাতে বেশ রুষ্ট হলেন তিনি। জানিয়ে দিলেন, “আমার ইচ্ছে আমি যাব না।”

ব্যাপারটা হল, আমরা সাধারণত ট্যাক্সিরই দোষ দেখি, কিন্ত এই অ্যাপ ক্যাবগুলো যে কী করছে আমরা কিন্তু খবর রাখি না।

ট্যাক্সি চালক যদি মিটারের থেকে ৫০ বা ১০০ টাকাও বেশি চান, আমরা তাঁদের জুলুমের কথা তুলে ধরি, অথচ হিসেব করলে দেখা যাবে সার্জ প্রাইসিং-এর দোহাই দিয়ে আরও অনেক বেশি টাকা আমাদের থেকে নিয়ে নিচ্ছে এই ক্যাবগুলো। শুক্রবার সন্ধ্যার ঘটনাটাই বলি।

আরও পড়ুন মুকুটমণিপুরে পাখির মৃত্যুমিছিল কেন, উত্তর চান এলাকাবাসীরা

পার্ক স্ট্রিট থেকে পাটুলি, এই ১৭ কিলোমিটার রাস্তার জন্য উবেরে দেখাচ্ছিল ৫২৩ টাকা। তখন নাকি সার্জ প্রাইসিং চলছে। এই হচ্ছে এই ক্যাবগুলোর ছলচাতুরি। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে এই সার্জ প্রাইসিং নিয়ে সতর্ক করা হলেও সংস্থাগুলো যে তাতে আমল দেয়নি, সেটা বোঝা গেল এই ভাড়া দেখে। অথচ এই দূরত্ব, ট্যাক্সির মিটারে আড়াইশো টাকার বেশি ওঠে না। এর ওপরেও যদি ট্যাক্সিচালক আমার থেকে একশো টাকা বাড়তি চান, আমি কোন যুক্তিতে তাঁকে ফেরাতে পারি? আমার তো সাশ্রয়ই হল।

সুতরাং পরিস্থিতি এখন এমন যে শুধু ট্যাক্সি নয়, রিফিউজালের রোগ গ্রাস করে ফেলেছে অ্যাপনির্ভর ক্যাবগুলোকেও। বলতে দ্বিধা নেই মানুষের ভোগান্তির সুযোগ নিচ্ছে এক সময়ে মানুষের মুশকিল আসান হয়ে পথে নামা এই গাড়িগুলি।

কলকাতায় এমনিতে যান পরিষেবার অসুবিধা নেই। যথেচ্ছ বাস, মেট্রো, অটো। হলুদ ট্যাক্সি তো আছেই। সুতরাং এই অ্যাপ ক্যাবগুলো নিজেদের না শুধরলে কলকাতায় এঁদের জনপ্রিয়তা যে ক্রমশ কমবে সেটা বলাই বাহুল্য।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন