Connect with us

কলকাতা

উত্তর কলকাতার অলিতেগলিতে লুকিয়ে রয়েছে ইতিহাস, সাধারণতন্ত্র দিবসে হেঁটে দেখা

‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর উদ্যোগে হল এই হাঁটা।

Published

on

শ্রয়ণ সেন

কলকাতার মধ্যেই রয়েছে আরও একটা কলকাতা। উত্তর কলকাতার অলিতে গলিতে রন্ধ্রে রন্ধ্রে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। যাকে চেনার জন্য হাঁটতে হয়। শহরের সেই ইতিহাস জানতেই মঙ্গলবার সক্কালে বেরিয়ে পড়েছিলাম ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর সঙ্গে। সাধারণতন্ত্র দিবসের সকালে কলকাতার বহু অজানা ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হতে।

Loading videos...

কলকাতাপ্রেমিক দুই বন্ধু অয়ন মণ্ডল আর দীপ ভট্টাচার্য। কলকাতার অলিতেগলিতে হেঁটে শহরকে নতুন করে চেনার তাগিদ দুই জনেরই। ২০১৯ সালে এই দু’ জনের উদ্যোগে জন্ম ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর। উদ্দেশ্য ছিল, নিজেরা যেমন কলকাতার সঙ্গে পরিচিত হবেন, তেমনই অন্যদেরও শহরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন।

কোভিডের কারণে প্রায় এক বছর বন্ধ থাকার পর ফের নতুন ভাবে হাঁটার পরিকল্পনা করল ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’। সাধারণতন্ত্র দিবসের সক্কালে। উত্তর কলকাতার গলি এবং রাজপথে লুকিয়ে থাকা কিছু ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হতে যোগ দিলাম সেই ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এ।

আমাদের প্রথম গন্তব্য ছিল ১০৮ অরবিন্দ সরণি। এক কালে এই বাড়ির ঠিকানা ছিল ৪৮ নম্বর গ্রে স্ট্রিট। আলিপুর বোমা মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে ১৯০৮ সালের ২ মে এই বাড়ি থেকেই গ্রেফতার হন বিপ্লবী অরবিন্দ ঘোষ, যিনি পরিবর্তী কালে ঋষি অরবিন্দ হন। বাড়িটার রক্ষণাবেক্ষণ এত বেশি মাত্রায় হয়েছে যে ইতিহাসের সঙ্গে মেলাতেই কষ্ট হয় এখন। তবে বাড়িটির সামনে থাকা একটি ফলকই তার ঐতিহাসিক গুরুত্বের কথা জানান দেয়।

অরবিন্দ সংক্রান্ত তথ্যসমৃদ্ধ ফলক।

ফের বিধান সরণি দিয়ে হাঁটা। অভিমুখ শ্যামবাজার। এই রাস্তাটার ঐতিহাসিক গুরুত্বও অপরিসীম। এর ধারেই তো একাধিক ঐতিহাসিক বাড়ি রয়েছে। রাস্তা দিয়ে যে কত স্বাধীনতাসংগ্রামী, বিপ্লবী, ঐতিহাসিক ব্যক্তিত্ব হেঁটে গিয়েছেন, তার কোনো হিসেব নেই।

অরবিন্দ ঘোষের পর এ বার গন্তব্য যতীন দাস। বিপ্লবী ভগৎ সিংয়ের সহকর্মী যতীন্দ্রনাথ দাস লাহোর ষড়যন্ত্র মামলায় অভিযুক্ত হয়ে ১৯২৯ সালের ১৪ জুন গ্রেফতার হন। জেলবন্দিদের অধিকারের দাবিতে ওই বছরই ১৩ জুলাই অনশন শুরু করেন তিনি। ৬৩ দিন অনশনের পর ১৩ সেপ্টেম্বর মাত্র ২৪ বছর বয়সে জেলেই মৃত্যু হয় তাঁর।

যতীন দাসের পুর্ণাবয়ব মূর্তি।

‘১বি গনেন্দ্র মিত্র লেন’-এর বাড়িতে জন্মেছিলেন যতীন দাস। বাড়িটির অস্তিত্ব এখন আর নেই বললেই চলে। তবে তার সামনে যতীন দাসের একটি মূর্তি বসানো হয়েছে।

এর পর মোহনবাগান লেনে ঢুঁ মারলাম। ১৯১১ সালে সবুজমেরুনের সেই বিখ্যাত আইএফএ শিল্ড জয় স্মরণে এখানে সেই দলের ১১ জনেরই মূর্তি রয়েছে। মোহনবাগান ক্লাবের বীজ বপন হয়েছিল এই সব অলিগলির মধ্যেই। বিধান সরণিতে এসে ফের হাঁটা শুরু। তবে এ বার উলটো পথে।

‘১১-এর সেই দল।

থমকালাম ‘লক্ষ্মীনারায়ণ সাউ অ্যান্ড সন্স’-এর সামনে। দোকানকে ঘিরে রেখেছেন নেতাজি। জানা যায়, কলেজে পড়াকালীন, সুভাষচন্দ্র বসু এই দোকানটিতে নিয়মিত আসতেন বিকেলবেলা। পেঁয়াজি আর আলুর চপ, সঙ্গে অল্প মুড়ি নাকি তাঁর খুব প্রিয় ছিল। প্রতি বছর নেতাজির জন্মদিনে বিনামূল্যে সবাইকে তেলেভাজা খাওয়ানো হয় এখানে। কোভিডের আবহেও সেই ধারা এ বারও বহাল ছিল এখানে।

এ বার গন্তব্য ২২ নম্বর ঈশ্বর মিল লেন। এই বাড়িতেই জন্মেছিলেন বিশ্বখ্যাত এক বিজ্ঞানী। আলবার্ট আইনস্টাইনের সঙ্গে যৌথ ভাবে যিনি কাজ করেছিলেন, যা পরবর্তী কালে পদার্থবিজ্ঞানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আবিষ্কার বলে বিবেচিত হয়। হ্যাঁ, উত্তর কলকাতার এই বিখ্যাত গলিতে এই বাড়িতেই থাকতেন বিজ্ঞানী সত্যেন্দ্রনাথ বসু।

যে হেতু এক বছর পর নতুন করে হাঁটার এই ব্যাপারটা চালু করা হয়েছে, আর এখনও কোভিডের চোখরাঙানি যথেষ্টই রয়েছে, তাই সংগঠকরা বলেই দিয়েছিলেন দেড়-দু’ ঘণ্টার বেশি হাঁটা হবে না। অলিগলি দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে কখন যে সময় পেরিয়ে গেল তা বুঝতেই পারিনি। তবে শেষ মুহূর্তে আরও একটি চমক অপেক্ষা করছিল।

আর্যসমাজ মন্দির। আজকের ঠিকানা ১৯ নম্বর বিধান সরণি। এক দিকে আর্যকন্যা উচ্চ বিদ্যালয়। অন্য পাশে হার্ডিঞ্জ হল। এই বাড়িটা আজও যে কোনো ভারতীয়ের কাছে আবেগের, শ্রদ্ধার। ১৯২৭-এর ১৭ ডিসেম্বর ব্রিটিশ পুলিশ অফিসার জন স্যান্ডারসকে হত্যা করে ছদ্মবেশে কলকাতায় পালিয়ে আসেন ভগৎ সিং। উঠেছিলেন এই আর্যসমাজ মন্দিরে।

কলকাতা ছাড়ার আগে আর্য সমাজ মন্দিরের প্রহরী তুলসীরামকে নিজের থালা এবং লোটা দিয়ে যান ভগৎ সিং।জানা যায় যে তুলসীরাম সম্ভবত ওই অসামান্য সামগ্রীর মর্মই বোঝেননি। তিনি সেটা নিজের কাছেই রেখে দিয়েছিলেন এবং পরে সেগুলোর আর কোনো হদিশ পাওয়া যায়নি।

ভগৎ সিং খ্যাত এই বাড়িতে এসেই আজকের মতো শেষ হল ‘রিপাবলিক ডে ওয়াক।’ একটা গ্রুপ ছবির মধ্যে দিয়ে শেষ হল ইভেন্ট। সেই সঙ্গে স্লোগান উঠল, “শহর চিনতে হলে, হেঁটে দেখো বন্ধু।”

তাঁদের নানা রকম উদ্যোগের কথা বলছিলেন দীপ এবং অয়ন। ভবিষ্যতে এই ধরনের আরও উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান দু’জনেই। ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর ফেসবুক পেজে নজর রাখলেই সব তথ্য পাওয়া যাবে। তবে একটা ব্যাপারে নিশ্চিত, আমি কিন্তু এই সঙ্গ আর ছাড়ছি না।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

একাধিক জায়গায় পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, ট্র্যাক্টর নিয়ে লালকেল্লায় ঢুকে পড়লেন কৃষকরা

Advertisement
Click to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

কলকাতা

শুধু দড়ি বেঁধে ম্যানহোলের কাজ করতে নেমে কুঁদঘাটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মৃত ৪ শ্রমিক

বেশ কিছুদিন ধরেই কুঁদঘাট এলাকায় ম্যানহোল পরিষ্কারের কাজ চলছিল।

Published

on

ম্যানহোলে শ্রমিকের মৃত্যু
চলেছে উদ্ধার কাজ

কলকাতা : উপযুক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়া শুধুমাত্র দড়ি বেঁধে ম্যানহোল পরিষ্কার করতে গিয়ে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটল খাস কলকাতায়। মারা গেলেন চার শ্রমিক।

বেশ কিছুদিন ধরেই কুঁদঘাট এলাকায় ম্যানহোল পরিষ্কারের কাজ চলছিল। বৃহস্পতিবারও ওই এলাকায় কাজের জন্য ম্যানহোলের ভিতর নেমেছিলেন ওই চার শ্রমিক। বেশ খানিকক্ষণ ধরে তাঁরা কাজও করছিলেন। কিন্তু হঠাৎ জল চলে আসায় তোড়ে ভেসে যান ওই শ্রমিকরা।

Loading videos...

এ দিন বেলা ১২টা নাগাদ শ্রমিকদের চিৎকার শুনতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা খবর দেন দমকল ও পুলিশে।

দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছান দমকল আধিকারিকরা। চারজনকে উদ্ধার করা গেলেও উদ্ধারের সময় তারা অচৈতন্য ছিলেন। তড়িঘড়ি তাদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানেই শ্রমিকদের মৃত্যু হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, শুধুমাত্র দড়ি বেঁধে শ্রমিকরা ম্যানহোলের নিচে নেমেছিলেন। তাদের কাছে ছিল না কোন নিরাপত্তার সরঞ্জাম।

অভিযোগ উঠছে জল সরবরাহ বন্ধ না কারণে এই বিপত্তি ঘটেছে।

আরও পড়ুন : ব্যয় বেড়েছে পরিবহণে, এক ধাক্কায় অনেকটাই বাড়ছে প্রয়োজনীয় সামগ্রীর দাম

Continue Reading

কলকাতা

কলকাতায় আসছে তিন কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী, টহল শুরু এ সপ্তাহেই

শনিবার রাজ্যে ১২ কোম্পানি বাহিনী এসে পৌঁছেছে

Published

on

বিরোধীদের মতে, কেন্দ্রীয় বাহিনীর পাহারা থাকলে ভোটে হিংসার আশঙ্কা অনেকটাই কম থাকে।

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের কথা মাথায় রেখে আর কিছু দিনের মধ্যেই কলকাতায় এসে পৌঁছোবে তিন কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। এই সপ্তাহ থেকেই শহরের বিভিন্ন এলাকায় টহল দেওয়া শুরু করার কথা তাদের।

লালবাজার সূত্রের খবর, এসএসবি-র তিন কোম্পানি কলকাতায় আসবে বিভিন্ন এলাকায় টহল দেওয়ার জন্য। শহরে আসার পরে তাদের রাখা হবে কাশীপুরের সেকেন্ড ব্যাটালিয়নের অফিসে এবং এ জে সি বসু রোডের পুলিশ ট্রেনিং স্কুলে।

Loading videos...

সেখান থেকেই তাদের মোতায়েন করা হবে কলকাতা পুলিশের ন’টি ডিভিশনে। এক পুলিশকর্তা জানান, ৭২টি থানা এলাকার কোথায় কত বাহিনী সকালে ও বিকেলে রুট মার্চ করবে, তা ঠিক করবেন ডিভিশনাল ডেপুটি কমিশনারেরা।

উল্লেখ্য, শনিবার প্রথম দফায় রাজ্যে এসেছে ১২ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী। বিধাননগর-সহ বিভিন্ন এলাকায় ইতিমধ্যেই রুট মার্চ বা টহলদারি শুরু করেছে তারা। বীরভূমের নলহাটিতেও টহল দেওয়া শুরু হয়েছে। বিভিন্ন এলাকায় ওই আধাসেনার টহলদারি শুরু হতেই ভোটের দামামা কার্যত বেজে গিয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী, কেন্দ্রীয় বাহিনী এলেও তাদের রাশ থাকবে পুলিশের হাতে। পুলিশই ঠিক করবে, কোথায় কোথায় রুট মার্চ করানো হবে। ভোট ঘোষণা না হলেও রাজনৈতিক হিংসা শহরের বিভিন্ন জায়গায় অল্পবিস্তর চলছে। গত সপ্তাহেই বেলেঘাটা এবং ফুলবাগান থানা এলাকা উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল দুই যুযুধান পক্ষের সংঘর্ষে। যাতে জখম হন এক পুলিশ অফিসারও।

আগামী বৃহস্পতিবার উপ নির্বাচন কমিশনার সুদীপ জৈনের কলকাতায় আসার কথা। রাজ্যের এবং কলকাতার পুলিশকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক হবে তাঁর। লালবাজারের আশা, সেখানেই কেন্দ্রীয় বাহিনী নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ ঠিক হবে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়তে পারেন

তিন দিন পর মহারাষ্ট্রে দৈনিক সংক্রমণ ছ’হাজারের নীচে, ব্যাপক পতন সংক্রমণের হারেও

Continue Reading

কলকাতা

ভাষা দিবসে উত্তর কলকাতার অলিতেগলিতে ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক’

‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর উদ্যোগে হাটা।

Published

on

শ্রয়ণ সেন

চমৎকার একটি বাড়ি। সাবেকি। লম্বা টানা রক। সবুজ খড়খড়ি আর দরজা। নামটাও তার চমৎকার– ‘চমৎকার বাড়ি।’

Loading videos...

হাঁদাভোঁদা, বাঁটুল দি গ্রেট, ছবিতে রামায়ণ, মহাভারত, সব কিছুই এই বাড়ি থেকেই প্রকাশিত হয়। কারণ এই বাড়িতেই যে রয়েছে দেব সাহিত্য কুটিরের প্রেস। উত্তর কলকাতার ঝামাপুকুর লেনের এই বাড়িটায় এক সময়ে বরেণ্য সব মানুষের যাতায়াত লেগে থাকত। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মহাশয়ের সেই গোলাপি মলাটের ‘বর্ণপরিচয়’ও তো পরবর্তী কালে এই বাড়ি থেকেই প্রকাশিত হয়।

‘বর্ণপরিচয়’-এর মধ্যে দিয়ে সংস্কৃত ভাষার অযৌক্তিক শাসনজাল থেকে বাংলা ভাষাকে মুক্ত করেন বিদ্যাসাগর। সেই সঙ্গে যুক্তি ও বাস্তবতাবোধের প্রয়োগ করে বর্ণমালাকে সংস্কার করেন তিনি। সেই কারণেই রবিবার উত্তর কলকাতা অলিতে গলিতে ঘুরিয়ে দেখার বিশেষ যে পরিকল্পনা ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’ করেছিল, তার নামকরণ হয়েছিল ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক’।

সংগঠনের দুই কান্ডারি – দীপ ভট্টাচার্য আর অয়ন মণ্ডল। ২০১৯ সালে এই দু’ জনের উদ্যোগে জন্ম ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর। উদ্দেশ্য ছিল, নিজেরা যেমন কলকাতার সঙ্গে পরিচিত হবেন, তেমনই অন্যদেরও শহরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেবেন। আমার সঙ্গে দু’ জনেরই পরিচয় হল গত মাসে। ২৬ জানুয়ারিও এমনই একটা হাঁটা হেঁটেছিলাম আমরা। তেমনই আজ আবার পথে। আগের বারের মতো এ বারও কোভিডের সব রকম বিধি কঠোর ভাবে মেনেই হাঁটা হয়েছে।

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে মিলিত হয়ে হাঁটা শুরু। প্রথমে দাঁড়ানো হল সংস্কৃত কলেজের সামনে। বিদ্যাসাগর মহাশয় এই কলেজের অধ্যক্ষ থাকাকালীন এই কলেজের পরিচিতি বাড়ে। এই কলেজের নিয়মনীতি সংস্কার করে ১৮৫১-এর জানুয়ারিতে কায়স্থদের এবং ১৮৫৪-এর ডিসেম্বরে সব বর্ণের হিন্দুদের জন্য কলেজের দরজা খুলে দেওয়া হয়।

এ দিনের হাঁটায় মাঝেমধ্যেই ফিরে এসেছেন বাঙালির সমাজসংস্কারের অন্যতম কান্ডারি বিদ্যাসাগর। তবে সংস্কৃত কলেজের পর আমাদের গন্তব্য ছিল উত্তর কলকাতার এক বিখ্যাত মিষ্টির দোকান, পুঁটীরাম (দোকানের সাইনবোর্ডে এই বানানই লেখা)। উদ্দেশ্য প্রাতরাশ করা। আলুর তরকারি-সহ চারটে কচুরি, নতুন গুড়ের রসগোল্লা এবং ১০০ গ্রামের এক ভাঁড় মিষ্টি দই খেয়ে ফের হাঁটা শুরু।

কলেজ স্কোয়ারে ডেভিড হেয়ারের সমাধিস্থল, প্রথম বিশ্বযুদ্ধে মৃত্যু বরণ করা বাঙালি সেনাদের সৌধটি দেখে চলে এলাম উত্তর কলকাতার বিখ্যাত গলিগুলিতে। এই রাস্তাগুলোর পরতে পরতে ছড়িয়ে রয়েছে ইতিহাস। এখান দিয়ে হাঁটলে এবং বাড়িগুলোর দিকে তাকালে সময় যে কয়েক দশক পিছিয়ে যাবে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

হাঁটতে হাঁটতেই এগিয়ে চলা। ঝামাপুকুর লেন দিয়ে হাঁটতে হাঁটতেই চলে এল রামকৃষ্ণ সংঘ। এটা আদতে দিগম্বর মিত্রের বাড়ি, যা পরিচিত ছিল ঝামাপুকুর রাজবাড়ি হিসেবে। দাদা রামকুমারের হাত ধরে কলকাতায় পৌঁছে ঝামাপুকুর লেনের এই বাড়িতেই উঠেছিলেন গদাধর চট্টোপাধ্যায় তথা শ্রীরামকৃষ্ণ। বাড়িটি খুব ভালো ভাবে সংস্কার করা হয়েছে। ঠাকুর দালানে শ্রীরামকৃষ্ণ, জগজ্জননী সারদা দেবী এবং স্বামী বিবেকানন্দের ছবি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। নিত্য পুজো হয় সেখানে।

ঝামাপুকুর লেনের রামকৃষ্ণ সংঘের সেই বাড়ি।

বাড়ির দালানে বেশ কিছুটা সময় জিরিয়ে নেওয়া গেল। ফের হাঁটা শুরু। এসে পৌঁছোলাম সেই চমৎকার বাড়িতে।

দেব সাহিত্য কুটির-এর বীজ বুনেছিলেন বরদাপ্রসাদ মজুমদার। কলকাতার বটতলা অঞ্চলে থাকতেন তিনি। বটতলা তখন ছিল কলকাতার প্রকাশনার এক কেন্দ্র। তাঁর যে স্বল্প সঞ্চয় ছিল তা-ই নিয়ে তিনি আবির্ভূত হলেন পুস্তকবিক্রেতা হিসাবে। এই কাজে আয়‌ও হচ্ছিল ভালোই।

বরদাপ্রসাদ শীঘ্র‌ই বেশ কিছু টাকা জমিয়ে নিজের একটা ছোটো প্রেস খুললেন।বরদাপ্রসাদের সেজো ছেলে আশুতোষ উত্তরাধিকারসূত্রে বাবার ব্যবসার অধিকারী হলেন। সেই সময় থেকেই তিনি ডিকশনারি প্রকাশের পরিকল্পনা করেন। শীঘ্র‌ই এই ডিকশনারি প্রকাশিত হল।

এর পর ১৯২৪ সালে তিনি বিদ্যাসাগর মহাশয়ের অনেক পাঠ্যপুস্তকের স্বত্বও কিনে নেন। তার মধ্যে অবশ্যই ছিল বর্ণপরিচয়। ওই বছর‌ই প্রতিষ্ঠিত হল ‘দেব সাহিত্য কুটির’। ব্যবসায় লক্ষ্মী মুখ তুলে চাইলেন। প্রচুর সম্পত্তি হল আশুতোষ দেবের।

চমৎকার বাড়ি ও ‘নন্টে ফন্টে’

প্রায় ৩০টি বাড়ির মালিক হলেন তিনি। ঝামাপুকুর লেনে ৫টি বাড়ি কেনেন তিনি। ২১ নম্বর লেনের বাড়ির নাম রাখলেন নিজের স্ত্রী, চমৎকার সুন্দরী দাসীর নামে – চমৎকার বাড়ি। আর তার পাশে ২১/১-এর নাম – বরদাকুটীর।

পথ চলতে চলতে ফের বিদ্যাসাগর মশাই এসে গেলেন। সেই সূত্র ধরেই এ বার তাঁর বাড়িতে পৌঁছে যাওয়া। ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর প্রথম জীবনে নিজে কোনো বাড়ি তৈরি না করলেও পরে তাঁর বিপুল গ্রন্থসম্ভার রাখার জন্য ১৮৭৬-এ মধ্য কলকাতায় ২৫ বৃন্দাবন মল্লিক লেনে, অধুনা ৩৬ বিদ্যাসাগর স্ট্রিটে এক খণ্ড জমির ওপরে একটি দোতলা বাড়ি তৈরি করেন৷ জীবনের শেষ চোদ্দো বছর মাঝেমধ্যে তিনি কাটিয়েছেন এই বাড়িতে৷ এই বাড়িতেই মারা যান তিনি।

বিদ্যাসাগরের বাড়ি।

বাড়িটিতে এখন সংস্কারের কাজ চলছে। তাই সামনের বাগানটার বেশি এগোতে পারলাম না। সংস্কারের কাজ শেষ হলে একদিন সবাই আসব, এই প্রতিজ্ঞা করে শেষ দফার হাঁটা শুরু হল। এ বার আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রোড পেরিয়ে ঢুকলাম গড়পাড় রোডে। কিছুটা এগোতেই ডান দিকে দেখলাম এক বিদ্যালয় ভবন।

ঢোকার দরজার ওপরে একটি ফলকে লেখা এথেনিয়াম ইনস্টিটিউশন। পাশেই রয়েছে তিন মহাপুরুষের মূর্তি। উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী, সুকুমার রায় এবং সত্যজিৎ রায়। ১৯১৪ সালে উপেন্দ্রকিশোর ১০০এ গড়পাড় রোডের ওপর এই বাড়িটি তৈরি করেন। এখানেই ১৯২১ সালের ২ মে জন্মগ্রহণ করেন সত্যজিৎ রায়। ঐতিহাসিক এই বাড়িটি এথেনিয়াম বিদ্যালয় কিনে নেয় ১৯৩১ সালে।

প্রতিবেদক-সহ ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক’-এর অন্য সদস্যরা।

এখানেই শেষ হল রবিবারের ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক।’ শেষ করার আগে ফের একবার স্লোগান উঠল, ‘শহর চিনতে হলে হেঁটে দেখো বন্ধু।’ সেই সঙ্গে আওয়াজ উঠল “আসছে মাসে আবার হবে।” ‘বর্ণপরিচয় ওয়াক’ হয়তো শেষ, কিন্তু হাঁটা শেষ করছে না ‘ওয়াক ক্যালকাটা ওয়াক।’ ফের রাস্তায় নামবে তারা, হয়তো সামনের মাসেই।

Continue Reading
Advertisement
Advertisement
election commission of india
দেশ1 hour ago

শুক্রবার পশ্চিমবঙ্গ-সহ ৫ রাজ্যের ভোটের দিনক্ষণ প্রকাশ করবে নির্বাচন কমিশন

প্রযুক্তি2 hours ago

আরবিআই-এর নতুন নির্দেশিকা, ঝক্কি বাড়বে ডেবিট, ক্রেডিট কার্ড লেনদেনে!

বিদেশ2 hours ago

ভ্যাকসিন নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর প্রশংসায় পঞ্চমুখ বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা

দেশ3 hours ago

এক দিনে প্রায় ৫ হাজার সক্রিয় রোগী বাড়ল মহারাষ্ট্রে

দেশ4 hours ago

ভারত বন্‌ধে শামিল ব্যবসায়ী, কৃষক সংগঠন, প্রভাব কলকাতায়

দেশ5 hours ago

দৈনিক আক্রান্ত ফের ১৬ হাজারের বেশি, ১০টি রাজ্যে বাড়ল সক্রিয় রোগী

বাংলাদেশ13 hours ago

ঢাকার পিলখানায় বিজিবি সদর দফতরে হত্যাকাণ্ডের ১২তম বার্ষিকী পালন

ফুটবল14 hours ago

প্রথমার্ধে বেঙ্গালুরুকে ৩ গোল দিয়ে দ্বিতীয়ার্ধে ২ গোল হজম করল জামশেদপুর

LPG
প্রযুক্তি2 days ago

রান্নার গ্যাসের ভরতুকির টাকা অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে কি না, কী ভাবে দেখবেন

ক্রিকেট3 days ago

অমদাবাদ টেস্টের প্রথম একাদশে চমকপ্রদ পরিবর্তন করবে ভারত? জোর জল্পনা

ক্রিকেট3 days ago

কপিল দেবের পর প্রথম ভারতীয় পেসার হিসেবে শততম টেস্ট খেলতে চলেছেন ইশান্ত শর্মা

দেশ2 days ago

বঙ্গবন্ধুর ফাঁসি আটকাতে ৩০টি দেশে ছুটে গেছিলেন ইন্দিরা গান্ধী, ভারতের এই ঋণ মনে রেখেছে বাংলাদেশ: তথ্যমন্ত্রী

ক্রিকেট2 days ago

বিশ্বের সর্ববৃহৎ ক্রিকেট স্টেডিয়াম নামাঙ্কিত নরেন্দ্র মোদীর নামে

প্রযুক্তি22 hours ago

সোশ্যাল, ডিজিটাল মিডিয়া নিয়ন্ত্রণে কড়া পদক্ষেপ কেন্দ্রের

দেশ2 days ago

১ মার্চ থেকে প্রবীণদের জন্য শুরু হচ্ছে বিনামূল্যে করোনা টিকাকরণ

ফুটবল2 days ago

গাড়ি দুর্ঘটনায় মারাত্মক জখম কিংবদন্তি টাইগার উডস, হয়েছে অস্ত্রোপচার

কেনাকাটা

কেনাকাটা3 weeks ago

সরস্বতী পুজোর পোশাক, ছোটোদের জন্য কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সরস্বতী পুজোয় প্রায় সব ছোটো ছেলেমেয়েই হলুদ লাল ও অন্যান্য রঙের শাড়ি, পাঞ্জাবিতে সেজে ওঠে। তাই ছোটোদের জন্য...

কেনাকাটা3 weeks ago

সরস্বতী পুজো স্পেশাল হলুদ শাড়ির নতুন কালেকশন

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই সরস্বতী পুজো। এই দিন বয়স নির্বিশেষে সবাই হলুদ রঙের পোশাকের প্রতি বেশি আকর্ষিত হয়। তাই হলুদ রঙের...

কেনাকাটা1 month ago

বাসন্তী রঙের পোশাক খুঁজছেন?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: সামনেই আসছে সরস্বতী পুজো। সেই দিন হলুদ বা বাসন্তী রঙের পোশাক পরার একটা চল রয়েছে অনেকের মধ্যেই। ওই...

কেনাকাটা1 month ago

ঘরদোরের মেকওভার করতে চান? এগুলি খুবই উপযুক্ত

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ঘরদোর সব একঘেয়ে লাগছে? মেকওভার করুন সাধ্যের মধ্যে। নাগালের মধ্যে থাকা কয়েকটি আইটেম রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার...

কেনাকাটা1 month ago

সিলিকন প্রোডাক্ট রোজের ব্যবহারের জন্য খুবই সুবিধেজনক

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী এখন সিলিকনের। এগুলির ব্যবহার যেমন সুবিধের তেমনই পরিষ্কার করাও সহজ। তেমনই কয়েকটি কাজের সামগ্রীর খোঁজ...

কেনাকাটা1 month ago

আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: আজ রইল আরও কয়েকটি ব্র্যান্ডেড মেকআপ সামগ্রী ৯৯ টাকার মধ্যে অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন লেখার সময় যে দাম ছিল...

কেনাকাটা1 month ago

রান্নাঘরের এই সামগ্রীগুলি কি আপনার সংগ্রহে আছে?

খবরঅনলাইন ডেস্ক: রান্নাঘরে বাসনপত্রের এমন অনেক সুবিধেজনক কালেকশন আছে যেগুলি থাকলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যেতে পারে। এমনকি দেখতেও সুন্দর।...

কেনাকাটা1 month ago

৫০% পর্যন্ত ছাড় রয়েছে এই প্যান্ট্রি আইটেমগুলিতে

খবরঅনলাইন ডেস্ক: দৈনন্দিন জীবনের নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলির মধ্যে বেশ কিছু এখন পাওয়া যাচ্ছে প্রায় ৫০% বা তার বেশি ছাড়ে। তার মধ্যে...

কেনাকাটা1 month ago

ঘরের জন্য কয়েকটি খুবই প্রয়োজনীয় সামগ্রী

খবরঅনলাইন ডেস্ক: নিত্যদিনের প্রয়োজনীয় ও সুবিধাজনক বেশ কয়েকটি সামগ্রীর খোঁজ রইল অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদনটি লেখার সময় যে দাম ছিল তা-ই...

কেনাকাটা1 month ago

৯৯ টাকার মধ্যে ব্র্যান্ডেড মেকআপের সামগ্রী

খবর অনলাইন ডেস্ক : ব্র্যান্ডেড সামগ্রী যদি নাগালের মধ্যে এসে যায় তা হলে তো কোনো কথাই নেই। তেমনই বেশ কিছু...

নজরে