কলকাতার বুকে 'অনুভব'-এর মিছিল।

নিজস্ব প্রতিনিধি: “ঘন সবুজ দিচ্ছে ডাক, বিষ-বাষ্প নিপাত যাক”, “সবুজ পৃথিবী দিচ্ছে ডাক, বিষ-বাষ্প নিপাত যাক” – স্লোগানে স্লোগানে মুখরিত মিছিল এগিয়ে চলল শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জি রোড, রাসবিহারী অ্যাভিনিউ নিয়ে। বিশাল সেই মিছিলে শামিল ৮ থেকে ৮০, সব বয়সের মানুষ। রবিবার এক অভূতপূর্ব মিছিলের সাক্ষী থাকল কলকাতা।    

এ-ও এক যুদ্ধ। কলকাতার বুকে আর এক যুদ্ধ। এই যুদ্ধ সবুজ আর বন্যপ্রাণকে রক্ষা করতে। নাম তার ‘ওয়ার ২০২২’ (WAR 2022)। পুরো নাম ‘ওয়াইল্ডলাইফ অ্যাওয়ারনেস র‍্যালি ২০২২’, অর্থাৎ বন্যপ্রাণ সচেতনতা মিছিল ২০২২’। মূল উদ্দেশ্য, শহরবাসীর মধ্যে বন্যপ্রাণ-সহ পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা তৈরি করা।

রবিবার, ১৩ নভেম্বর, আশুতোষ কলেজ থেকে প্রিয়া সিনেমা পর্যন্ত একটি বিশেষ মিছিলের মধ্যে দিয়ে এই সচেতনতা গড়ে তোলার চেষ্টা হয়। এই মিছিলের মূল উদ্যোক্তা ছিল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘অনুভব’, যাদের মূল উদ্দেশ্যই হল ‘আরও ভালো আগামীকালের জন্য অভিযান’ (এক্সপেডিশন ফর বেটার টুমরো, Expedition for Bettar Tomorrow)।  

পোস্টার-ব্যানার-ফ্লেক্সে ছয়লাপ ছিল মিছিল। সবুজ কী ভাবে ধ্বংস হচ্ছে, কী ভাবে হারিয়ে যাচ্ছে বন্যপ্রাণ, কী ভাবে বিষ-বাষ্পে ভরে যাচ্ছে সারা পৃথিবী, কী ভাবে এক অমোঘ ধ্বংসের দিকে এগিয়ে চলেছে আমাদের পরিবেশ, সে সবই বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে ওই সব পোস্টার-ব্যানার-ফ্লেক্সে। এই ধ্বংস রোখার জন্য, এক সুস্থ পৃথিবী গড়ে তোলার জন্য ডাক দেওয়া হল ওই মিছিল থেকে।  

ওই সব পোস্টার-ব্যানার-ফ্লেক্সের অনেকগুলিই কমবয়সিদের বানানো। পরিবেশ নিয়ে তাদের সচেতনতা মুগ্ধ করেছে বয়স্কদের। এ দিনের মিছিলে তাদের যোগদানের বহর দেখে বয়স্করা স্পষ্টই বুঝেছেন আশার আলো রয়েছে, সব কিছু যে শেষ হয়ে যায়নি।

উল্লেখযোগ্য বিষয়, এই মিছিলে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে ‘অনুভব’ যে আমন্ত্রণী কার্ডটি তৈরি করেছে, তার মূল আঁকাটা এঁকেছে দশম শ্রেণির ছাত্র অনমিত্র বসু। এর থেকে বোঝা যায় যে পরিবেশ নিয়ে সচেতনতা ধীরে ধীরে নতুন প্রজন্মের মধ্যেই সঞ্চারিত হচ্ছে।

রবিবার সকালেই সবাই সমবেত হন আশুতোষ কলেজের পাশে বসন্ত বোস রোডে। প্রায় সাড়ে ১০টা পর্যন্ত চলে নাম নথিভুক্তকরণ পর্ব। ১১টা নাগাদ শুরু হয় মিছিল। ১২টা নাগাদ মিছিল শেষ হবে প্রিয়া সিনেমায়। তার পর কমবয়সিদের বানানো পোস্টার-ব্যানার নিয়ে একটি প্রতিযোগিতারও আয়োজন করা হয়।

‘অনুভব’-এর সম্পাদক নীলাঞ্জন রায় চৌধুরী জানান, মিছিলে আড়াই হাজারেরও বেশি প্রকৃতিপ্রেমী মানুষ যোগ দিয়েছিলেন। ছিলেন ৫৫টি স্কুল-কলেজ ও ৬টি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা। ছিলেন বিভিন্ন ক্ষেত্রে কলকাতার বিশিষ্ট মানুষেরা। ছিলেন বিখ্যাত পর্বতারোহী দেবাশিস বিশ্বাস ও পিয়ালি বসাক। তা ছাড়াও এই মিছিলে যোগ দেন কিংবদন্তি ফুটবলার জামশেদ নাসিরি, প্রখ্যাত অভিনেতা চন্দন সেন, বাদশা মৈত্র, তথাগত মুখোপাধ্যায় প্রমুখ।

সাহিত্য পরিবার ‘বনপলাশি’ও এই মিছিলে যোগ দেয়। ‘বনপলাশির’ সম্পাদক ভার্গবী বলেন, “শহরে শ্বাস নিয়ে আজকাল স্বস্তি পাই না। নাক জ্বলে। চোখ জ্বলে। দেখলাম কিছু শুভবুদ্ধিসম্পন্ন মানুষ এ ব্যাপারে সকলকে সচেতন করতে চাইছে। তাই ‘অনুভব’-এর ডাক উপেক্ষা করতে পারলাম না।” ‘বনপলাশি’র উপদেষ্টা সুশান্ত রায় কর্মকার বলেন, “নিজেদের জন্যই না হয় হাঁটি আজ।”

এই মিছিল সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণ ভাবে শেষ হওয়ার জন্য ‘অনুভব’-এর পক্ষ থেকে কলকাতা পুলিশ, কলকাতা পুরসভা, কলকাতার মেয়র পারিষদ দেবাশিস কুমার এবং সকল শুভানুধ্যায়ীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

(ছবি তুলেছেন দেব্ব্রত মুখার্জি) 

আরও পড়তে পারেন  

দেড় লক্ষ শিক্ষক নিয়োগ করেছে রাজ্য… ভুল হলে শুধরে নিতে হবে, স্মার্টফোন বিতরণ অনুষ্ঠানে বললেন মমতা

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন