আলমারি পরিষ্কার করতে গিয়ে পুরনো কাপড় বিতরণের পরিকল্পনা, অনন্য কর্মকাণ্ডে এগিয়ে চলেছে ‘আরাকান’

0

ওয়েবডেস্ক: পূর্ব বর্ধমানের রসুলপুরের গরিব-দুঃস্থ বাসিন্দাদের কাছে গত রবিবার দিনটা একটু অন্য রকম ছিল। তাঁরা নতুন জামাকাপড় পেয়েছেন যে। হোক না শহুরে মানুষের ব্যবহৃত জামাকাপড়, তবুও চিরাচরিত পুরোনো জামা ছেড়ে নতুন জামার পরার অনুভূতিটাই আলাদা।

কলকাতায় অবস্থিত এবং নবগঠিত স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘আরাকান’-এর উদ্যোগে রবিবার এই শিবির করা হয়েছিল রসুলপুরে। সংস্থাটি অবস্থাপন্ন বাসিন্দাদের ব্যবহৃত জামাকাপড় সংগ্রহ করে সেগুলি গরিব আর দুঃস্থ মানুষদের মধ্যে বিতরণ করে।

তিরিশ ছুঁই ছুঁই তরুণী অস্মিতা মজুমদারের প্রচেষ্টায় এই কর্মকাণ্ড শুরু করেছে ‘আরাকান।’ সেই কাজে তাঁকে সাহায্য করছেন বাবা খোকন মজুমদার। ব্যবহার হয়ে যাওয়া জামাকাপড়ের একটি ব্যাঙ্ক তৈরি করেছেন অস্মিতা। এই পরিকল্পনাটি মাথায় এসেছিল আলমারি পরিষ্কার করতে গিয়ে।

অস্মিতার কথায়, “গত মাসে একদিন আলমারি পরিষ্কার করতে গিয়ে দেখি ব্যবহার হয়ে যাওয়া প্রচুর জামাকাপড় এমনি এমনি পড়ে রয়েছে। ওই জামাকাপড় কী ভাবে কাজে লাগানো যায় সেটা ভাবতে গিয়েই এই ব্যাঙ্ক তৈরি করার কথা মাথায় এল।”

অস্মিতার বাবা খোকনবাবু কর্মজীবনে বেশ কিছু স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। সদ্য অবসর নিয়েছেন তিনি। অস্মিতা বলেন, “পুরোনো জামাকাপড়ের ব্যাঙ্ক তৈরি করার ব্যাপারটা বাবাকে বলতেই উনি রাজি হয়ে গেলেন।”

Happy donating!#ARAKAN

Posted by Arakan – the used cloth bank on Wednesday, January 15, 2020

বাবা খোকন আর মা আরতির নাম থেকেই সংস্থার নাম ‘আরাকান’ দিলেন অস্মিতা। প্রথমে ফেসবুকে এই সংস্থাটির নামে একটি ‘পেজ’ চালু করা হল। তার পর নিকটবর্তী বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে যোগাযোগ করে নিজের পরিকল্পনাকে বাস্তবায়নের পথে এগিয়ে নিয়ে গেলেন অস্মিতা।

দু’ ধরনের কাজ করে ‘আরাকান।’ প্রথমত তারা ব্যবহৃত জামাকাপড় সংগ্রহ করার একটি শিবির করে। কলকাতার বিভিন্ন প্রান্তে সেই শিবিরের আয়োজন করা হয়। সেই শিবিরে তাঁদের জামাকাপড় দিয়ে যান সাধারণ মানুষ। আর এক ধরনের শিবির হয় যেখানে সংগ্রহ করা জামাকাপড় গরিব-দুস্থদের দান করা হয়, যেমন রবিবার রসুলপুরে হল।

এখনও পর্যন্ত ঘনিষ্ঠ কয়েক জন পরিচিতকে নিয়েই এই সংস্থাটি চালাচ্ছেন খোকনবাবু আর অস্মিতা। কোথায় কী ভাবে এই কাপড় বিতরণ করা হবে, তার জন্য কলকাতার আশেপাশে প্রত্যন্ত কিছু জায়গায় চলে যাচ্ছেন তাঁরা। আর ফেসবুকে প্রচারের মধ্যে দিয়ে এই কাপড় সংগ্রহ করা হচ্ছে।

তবে ‘আরাকান’-এর স্বপ্ন অনেক বড়ো। অস্মিতা বলেন, “কলকাতার বাইরে এই ধরনের জামাকাপড়ের ব্যাঙ্ক অনেক থাকলেও শহরে এখনও পর্যন্ত নেই। আমরাই কলকাতায় প্রথম যারা এই ধরনের ব্যাঙ্ক তৈরি করলাম।”

আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে যেতে চায় আরাকান। আরও বেশি মানুষের থেকে ব্যবহৃত জামাকাপড় সংগ্রহ করে তা পৌঁছে দিতে চায় আরও অনেক গরিব-দুঃস্থর কাছে। তাঁদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তুলতে চায়।

আরাকান চায় সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন আপনিও। সংস্থার ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে যোগাযোগ করতে পারেন এই নম্বরে ০৮৬৯৭৮১৫৮২৮। বিস্তারিত তথ্য তাদের ফেসবুক পেজ থেকেও জোগাড় করতে পারেন।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.