কলকাতা বিমানবন্দরের ফাইল ছবি

কলকাতা: ইন্দোনেশিয়ার পালু বিমানবন্দরের এক এটিসি আধিকারিকের সাহসিকতা ফিরিয়ে আনল তিন বছর আগের কলকাতা বিমানবন্দরের একটা স্মৃতি। গত শুক্রবার প্রবল ভূমিকম্পে কেঁপে গিয়েছিল ইন্দোনেশিয়া। সেই কম্পনের সময়েই প্রবল সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছিলেন এটিসি আধিকারিক আন্টনিয়াস গানাথাং আগাং। কম্পন শুরু হয়ে গেলেও, নিজের কাজ থেকে নড়েননি তিনি। একটি বিমানকে খুব সন্তর্পণে যাত্রা শুরু করিয়ে দেন তিনি। কিন্তু তারপরেই তাঁর মৃত্যু হয়। এটিসির ভবন ভেঙে পড়বে এই আন্দাজ করে চারতলা থেকে ঝাঁপ দেন তিনি, পরিণতি মৃত্যু।

কারও মৃত্যু না হলেও তিন বছর আগে কলকাতা বিমানবন্দরে ঠিক এমনই কাণ্ড হয়েছিল। ৭.৯ মাত্রার কম্পনের যথেষ্ট প্রভাব পড়েছিল কলকাতায়। দুলে উঠেছিল বাড়িঘর। কলকাতা বিমানবন্দরের এটিসির আটতলা বাড়িটাও ভয়াবহ ভাবে দুলতে শুরু করে। কিন্তু নিজেদের কাজ থেকে সরে আসেননি এটিসির সঙ্গে যুক্ত আট আধিকারিক। বিমান ওঠানো, নামানো এবং ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়া বিমানদের সাহায্য করে গিয়েছিলেন তাঁরা।

আরও পড়ুন অ্যাপল-কর্মী মৃত্যু: স্ত্রীর অভিযোগ মানলেন উত্তরপ্রদেশের বিচারমন্ত্রী

কম্পন থামার পরেই এই আধিকারিকদের কাছে দৌড়ে চলে গিয়েছিলেন এয়ার ট্র্যাফিক ম্যানেজমেন্টের জেনারেল ম্যানেজার অসিত সিন্হা‌। খোঁজ নিয়েছিলেন তাঁরা ঠিক আছে কি না। তাঁর কোথায়, “এটিসি আধিকারিকদের কাছে উড়ানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা প্রাধান্য। যখন ভূমিকম্প শুরু হয়, তখন পুরো বাড়িটা দুলতে শুরু করে। সবাই যখন হুড়োহুড়ি করা নামতে যাচ্ছে তখনই নিজেদের কর্তব্যে অবিচল ছিলেন এই আধিকারিকরা। এমনকি কম্পনের ঠিক পরেই একটা বিমানের নামার কথা ছিল। ওই আধিকারিকরা, সেই বিমানকে না নামিয়ে আকাশেই চক্কর কাটার নির্দেশ দেন। তাঁরা মনে করেছিলেন রানওয়ের কিছু ক্ষতি হতে পারে, তার পরিদর্শন জরুরি।”

কলকাতা বিমানবন্দরের আধিকারিকরা বলেন, যে ভাবে নিজের জীবন বিপন্ন করে কাজ করলেন আগাং সেটা শুধুমাত্র তাদের কাছেই নয়, সব পেশাদারের কাছেই অনুপ্রেরণা জোগাবে।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন