kolkata bars

খবরঅনলাইন ডেস্ক: ৩৮ বছরের মানুষটি গত মার্চ পর্যন্ত থিয়েটার রোডের একটি পাবে নানা ধরনের ককটেল তৈরি করতেন।

ব্যারাকপুরের ওই বাসিন্দার কয়েক মাস ধরে কোনো কাজ নেই। হন্যে হয়ে একটা কাজ খুঁজছেন। কোনো আবাসনে যদি সিকিউরিটি গার্ডের কাজ পাওয়া যায়, তা-ও সই। কিন্তু সে-ও তো জুটছে না।

পার্ক স্ট্রিটের একটি কাফেতে কিছু দিন কাজ করার পর হিন্দ মোটরের ২৩ বছরের এক যুবক এ বছরের গোড়ায় ক্যামাক স্ট্রিটের একটি পানশালায় কাজে ঢুকেছিলেন। ওই যুবক হোটেল ম্যানেজমেন্টে ডিপ্লোমা করে বারটেন্ডিং কোর্স করেছেন।

নিজেকে তিনি ‘মিক্সোলজিস্ট’ বলতে পচ্ছন্দ করেন। তাঁর ১৬ হাজার টাকা বেতনের চাকরিটা তাঁর বাবা-মায়ের মনে একটু আশার আলো জাগিয়েছিল। হাজার হোক, অতগুলো টাকা খরচ করে তাঁরা তো ছেলেকে মানুষ করেছেন।

এপ্রিল থেকে ছেলে ‘সাময়িক ছুটিতে’, রোজগার বন্ধ। করোনা মহামারিতে পরিবারের আশায় তো জলাঞ্জলি বটেই, এখন সংসারের দৈনন্দিন খরচ কী ভাবে চালানো হবে, সেই চিন্তায় বাবা-মায়ের মাথায় হাত।

বন্ধ পানশালা

করোনা মহামারির জন্য কলকাতা শহরের সমস্ত পানশালা বন্ধ। এর ফলে বহু কলকাতাবাসীর সপ্তাহান্তিক আমোদ বন্ধ হয়ে গিয়েছে। কিন্তু তার চেয়েও বড়ো কথা হাজার হাজার মানুষ জীবিকা হারিয়েছেন এবং তাঁদের পরিবারগুলির ভবিষ্যৎ আজ অন্ধকারে। শুধু মদের গেলাসের টুংটাং আওয়াজ আর আধো আলো আধো অন্ধকারে মাতাল করা সুরের মূর্ছনা নিয়ে তো কলকাতার পানশালা নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে যে বহু পরিবারের রুটি-রুজি।

ব্যারাকপুরের মানুষটি দ্য টেলিগ্রাফ-কে বললেন, “প্রায় এক দশক ধরে আমি বারটেন্ডার হিসাবে কাজ করছি। এর বাইরে তেমন কিছু করতে পারি না। কিন্তু ঘরে তো বসে থাকলে চলবে না, আমায় তো একটা কিছু করতে হবে। গত দু’ মাস ধরে মেয়ের স্কুলের মাইনে দিতে পারিনি।”

তাঁর স্ত্রী গৃহবধূ। মেয়ে ক্লাস নাইনে পড়ে। মানুষটি ২২ হাজার টাকা বেতন পেতেন। মার্চে পাবের দরজা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে আর একটি পয়সাও তিনি পাননি।

এ ধরনের বহু মানুষের সঙ্গে কথা হল। এঁদের মধ্যে কারও কারও কাজ গিয়েছে, কেউ বা বিনা বেতনে ছুটিতে রয়েছেন আবার কাউকে কাউকে সাময়িক ভাবে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে।

যাঁদের সঙ্গে কথা হল, তাঁদের বেশির ভাগই নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করতে চান না। অনেক পানশালা-মালিক কথা দিয়েছেন, পরিস্থিতির উন্নতি হলে কাজে ফিরিয়ে নেবেন। অভিযোগকারীদের ভয়, তাঁদের পরিচয় প্রকাশ হয়ে পড়লে কাজ ফিরে পাওয়া মুশকিল হবে।

মালিকরা কী বলছেন

মালিকরা বলছেন, তাঁরা ব্যাবসাকে ভাসিয়ে রাখার চেষ্টা করছেন। মার্চের পর থেকে তাঁদের আয় শূন্যে এসে ঠেকেছে। অথচ ভাড়া, লাইসেন্স ফি এবং অন্যান্য স্থায়ী খরচ তো নিজেদের পকেট থেকে করে যেতে  হচ্ছে।

এক জন তরুণ বার-মালিক কিছু কর্মীকে ছাঁটাই করতে এবং কিছু কর্মীকে বিনা বেতনে ছুটিতে পাঠাতে  ‘বাধ্য হয়েছেন’। “আমার কাছে আর কী রাস্তা ছিল? বার বন্ধ থাকলেও আমাকে বিশাল ভাড়া গুনতে হচ্ছে। আমার এক্সাইজ লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স আর ফায়ার লাইসেন্স রিনিউ করতেই হবে”, খেদ প্রকাশ করে বললেন তিনি।

যখন মদের খুচরো দোকানগুলো খুলে গিয়েছে, তখন পানশালা নিয়ে ‘অনিশ্চয়তাটাই’ বড়ো বেশি বিরক্তিকর, মালিকরা বলছেন। তাঁদের বক্তব্য, প্রথম প্রথম যখন নিষেধাজ্ঞা জারি হল, ভাবা হয়েছিল এই বন্ধ থাকার মেয়াদটা বেশি দিন থাকবে না। গোড়ার দিকে বহু বার-মালিক কর্মীদের বসিয়ে দেওয়া বা সাময়িক ভাবে ছুটিতে পাঠানোর কথা ভাবেননি। কিন্তু দীর্ঘস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা তাঁদের ওই পথে যেতে বাধ্য করেছে।

পানশালা বন্ধ থাকার পরোক্ষ প্রভাব পড়ছে পার্ক স্ট্রিটের কিছু ঐতিহ্যশালী জনপ্রিয় রেস্তোরাঁয়। তাদের খদ্দের কমেছে, আয় কমেছে। যার ফলে তারাও কর্মীদের সংখ্যা কমাতে বাধ্য হয়েছে।

কলকাতার বারটেন্ডাররা ঘরোয়া সংগঠন গড়ে কর্মচ্যুত সহকর্মীদের জন্য অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন।ওই সংগঠনের এক সদস্য বললেন, “আমাদের ১২০ জন সদস্য রয়েছেন। কিন্তু এখন হাজার হাজার বার-কর্মী কাজ হারিয়েছেন।”

ন্যাশনাল রেস্টুর‍্যান্টস অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার কলকাতা চ্যাপ্টারের প্রধান সগর দরায়নি বলেন, শহরে অন্তত হাজার খানেকেরও বেশি জায়গায় মদ সার্ভ করা হয়। “হাজার হাজার মানুষের জীবন  আজ বিপন্ন।”

সৌজন্যে দ্য টেলিগ্রাফ

আরও পড়তে পারেন

কমিশন ছাঁটাই, কলকাতায় প্রতিবাদে শামিল সুইগি কর্মীরা

এলআইসি বিলগ্নিকরণ রুখতে জোরালো হচ্ছে আওয়াজ, ২৪ আগস্ট থেকে শুরু কর্মীদের প্রতিবাদ

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন