scrub-typhus

ওয়েবডেস্ক : সম্প্রতি উল্টোডাঙার বাসন্তী কলোনিতে দু’জনের মূত্যুর পর ‘স্ক্রাব ট্রাইফাস’ নিয়ে নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। ওই এলাকাতেই তিনজনের রক্ত মিলেছে পোকার বিষ। সংখ্যাটা নগন্য হলেও গোড়াতেই একে রুখতে চাইছে কলকাতা পুরসভা।

কলকাতায় আক্রান্তের সংখ্যা হাতে গোনা হলেও সব থেকে বেশি রোগী এসেছে  দক্ষিণ ২৪ পরগনা থেকে। এর পরই রয়েছে উত্তর ২৪ পরগনা, হুগলি ও দুই মেদিনীপুর। চিকিৎসকদের মতে এই রোগের প্রকোপ বেশি থাকে বর্ষার সময়ে। তবে আবহাওয়ার হালহকিত অনুযায়ী নভেম্বর পর্যন্ত এর প্রকোপ থাকতে পারে। তাঁরা জানিয়েছেন, ধেড়ে ইঁদুর থেকে এই রোগ মানুষের শরীর ছড়ায়। ‘স্ক্রাব টাইফাস’ সংক্রামণকারী ‘মাইট’ পোকাগুলি ইঁদুরের গায়ে থাকে। স্যাঁতস্যাঁতে জায়গায়, নোংরা ঝোপঝাড়ে এই ইঁদুরগুলি থাকে। বাড়িতে যাতে কোনো ভাবেই ইঁদুর ঢুকতে না পারে সে ব্যাপারে সর্তক থাকতে হবে। বাড়ির আশেপাশে কোনো গর্ত থাকলে তা বুজিয়ে  ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা।

কলকাতা পুরসভার বিশেষজ্ঞদের দাবি, কলকাতায় এই ধরনের পোকা থাকার সম্ভাবনা কম। তবে কী ভাবে উল্টোডাঙায় ছড়াল এই রোগ? বিশেষজ্ঞরা প্রাথমিক ভাবে মনে করছেন কোনো বাহকের মাধ্যমেই এই রোগ ছড়িয়েছে।

স্ক্রাব টাইফাসের লক্ষণ

চিকিৎসকদের মতে, এই জ্বরের উপসর্গ প্রায় ডেঙ্গুর মতোই। আক্রান্তের গায়ে লাল চাকা চাকা দাগ বার হয়। অনেকেই প্রাথমিকভাবে একে ডেঙ্গুর সঙ্গে গুলিয়ে ফেলেন। ডেঙ্গুর নির্দিষ্ট কোনও ওষুধ না থাকলেও স্ক্রাব টাইফাসের ওষুধ রয়েছে। ফলে সঠিক চিকিৎসা হলে জীবনহানির আশঙ্কাও কম। তাছাড়া এই রোগ ছোঁয়াচেও নয়। তবে কলকাতার কয়েকটি হাতেগোনা ল্যাবেই এর পরীক্ষা হয়।

আরও পড়ুন : কী ভাবে বুঝবেন রোগ বাসা বাঁধছে লিভারে? করবেনই বা কী, জেনে নিন বিশদে

সচেতনতাতেই জোর দিচ্ছে কলকাতা পুরসভা

স্ক্রাব ট্রাইফাস রোগ প্রতিরোধে সচেতনতাতেই জোর দিচ্ছে কলকাতা পুরসভা। শনিবার উল্টোডাঙা এলাকায় একটি মেডিক্যাল ক্যাম্পেরও আয়োজন করা হয়। সচেতনতামূলক কর্মসূচি নেওয়ার জন্য ইতিমধ্যে রাজ্য সরকারের সঙ্গে আলোচনা করেছে পুর কর্তৃপক্ষ। এক পুর আধিকারিকের মতে, কলকাতায় পাকা বাড়িতে মাইটের উপস্থিতির সম্ভাবনা কম। তবে বাড়ির আশপাশের এলাকায় আর্বজনা থাকলে আশঙ্কা থেকে যায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here