লণ্ডভণ্ড করলেও বুলবুলের জন্যই পরিষ্কার হল কলকাতার বাতাস

0
rain in Kolkata

কলকাতা: দক্ষিণবঙ্গের তিন জেলাকে লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে বুলবুল। তার আঁচ ভালো মতোই টের পেয়েছে কলকাতা। অসংখ্য গাছ পড়েছে, একজনের মৃত্যুও হয়েছে। তবুও এই বুলবুলের সৌজন্যেই পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে কলকাতার বাতাস।

কালীপুজোর রাতে কলকাতার বাতাসে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা পৌঁছে গিয়েছিল প্রতি ঘন মিটারে এক হাজারের বেশি মাইক্রোগ্রামে। গত বুধবার ৬ নভেম্বর বাতাসে বিষের নিরিখে দিল্লিকে ছাপিয়ে গিয়েছিল কলকাতা।

শহরের বিভিন্ন জায়গায় একিউআই বা বাতাসের গুণমান সূচক সে দিন ৪০০ ছাড়িয়েছিল। কিন্তু গত দু’ দিনের বৃষ্টি আর দমকা বাতাসের জেরে এক ধাক্কায় শহরের বাতাসের মান অনেকটাই উন্নত হয়েছে।

রবিবার যেখানে দেশে গড় একিউআই ৩২৫, সেখানে এ দিন কলকাতায় তার মান ছিল ২১। ২০১৯-এ এখনও পর্যন্ত রবিবারই সব থেকে পরিষ্কার বাতাস পেল কলকাতা।

বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, গত দু’তিন-দিনের বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসের কারণেই আপাতত কলকাতার বাতাসের এই উন্নতি লক্ষ করা যাচ্ছে। তবে আবার দূষণের মাত্রা বাড়তে থাকলে বাতাসে ধূলিকণা ও অন্যান্য দূষণ সৃষ্টিকারী পদার্থের মাত্রাও যে বাড়বে সেটাও বলতে ভুলছেন না তাঁরা।

আরও পড়ুন টিএন সেশনের মৃত্যুতে শোকবার্তা মোদী-মমতার

সাধারণত শীতে দূষণের মাত্রা বাড়ে। কারণ, এই সময়ে বাতাস ভারী হয়ে যায় এবং তার গতিবেগও কম থাকে। ফলে ধূলিকণা অন্যত্র সরতে পারে না। বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দূষণের নিরিখে কলকাতার বাতাসের মান সাময়িক ভাবে খারাপ হয়েছিল, তবে কলকাতার বাতাসের মান এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট ভালো।

কিন্তু এই স্বস্তি কত দিন স্থায়ী হবে, তা নির্ভর করছে দূষণের উৎসগুলিকে কতটা নিয়ন্ত্রণে রাখা যাবে, তার ওপর। বিজ্ঞানীদের মতে, কলকাতার ক্ষেত্রে দূষণের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দু’টি দিক, পরিবহণ এবং নির্মাণক্ষেত্র। শহরের বায়ু দূষণের ৫০ শতাংশেরও বেশি হয় এই দু’টি সূত্র থেকেই।

যানজট নিয়ন্ত্রণ, শহরের রাস্তা ধোওয়া, নির্মাণকাজের ক্ষেত্রে জল ছেটানোর মতো ব্যবস্থাগুলি নিলে বায়ুদূষণের পরিমাণ বেশ খানিকটা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.