কলকাতা : একের পর এক বাস দুর্ঘটনায় বলি হচ্ছে সাধারণ মানুষের জীবন। মুর্শিদাবাদের ঘটনার পর বারাসত। তার পর শনিবার সকাল এগারোটা পনেরো নাগাদ বেপরোয়া সরকারি বাসের ধাক্কায় মৃত্যু হল দু’ জন স্থানীয় মানুষের। ঘটনা ইএম বাইপাসের চিংড়িঘাটা এলাকায়। জানা গিয়েছে মৃত দু’ জনই প্রথম বর্ষের ছাত্র। তাঁদের নাম বিশ্বজিৎ ভুঁইয়া ও সঞ্জয় বণি। মৃতদের মধ্যে একজন সাইকেল আরোহী।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলেঘাটার ট্রাফিক গার্ডের সামনেই এই ঘটনা ঘটে। ঘাতক বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেয় উত্তেজিত জনতা। ক্ষুব্ধ জনতা মোট পাঁচটি বাসে আগুন ধরিয়ে দেয়। ভাঙচুর করে পুলিশের গাড়িও। দমকলের গাড়িও ভাঙচুর চালানোর চেষ্টা করে তারা। এর পর বিক্ষুব্ধ জনতাকে ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। বন্ধ হয়ে রয়েছে এলাকার যান চলাচল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়েছেন স্থানীয় বিধায়ক সুজিত বসু।

বিধায়ক বলেন, তিনি মৃতদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করেছেন। সরকারি ভাবে যাবতীয় সাহায্য, সঙ্গে অর্থ সাহায্যও দেওয়া হবে ওই দুই পরিবারকে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি মেনে সাবওয়ের ব্যবস্থা করার কথা চিন্তাভাবনা করবে সরকার। পাশাপাশি পুলিশি গাফিলতির যে অভিযোগ উঠেছে তা খতিয়ে দেখা হবে বলেও জানান তিনি।

এলাকার মানুষের অভিযোগ, পুলিশি নজরদারির অবহেলার কারণেই এই দুর্ঘটনা। সেক্টর ফাইভগামী বাসটি সিগন্যাল ভেঙে বেপরোয়া ভাবে ছুটে যায়। তখনই রাস্তা পার হচ্ছিলেন ওই দুই যুবক। সেই সময়ই চাকার তলায় পৃষ্ঠ হন দু’ জন। তার পরই খেপে ওঠে জনতা। ইটবৃষ্টি করতে থাকে তারা। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা প্রাইভেট গাড়িগুলিও ভাঙচুর করেন তারা। একটি জ্বলন্ত বাস হঠাৎই চলতে শুরু করে। তার থেকে আরও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় মানুষের দাবি, পুলিশের লাঠিচার্জের পরই আরও উত্তেজিত ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন জনতা। আটকে যায় বাইপাসের যান চলাচল। আটকে পড়ে অ্যাম্বুলেন্সও। ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা। নামানো হয় বিশাল পুলিশবাহিনী।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here