শৈবাল বিশ্বাস      

কলকাতার বাড়িওয়ালা সংগঠন দ্য ক্যালকাটা হাউস ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন এ বার বঞ্চনার জবাব দিতে নোটা চিহ্নে ভোট দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার রক্ষিত জানিয়েছেন, রেন্ট কন্ট্রোল দফতরে কলকাতার বাড়িওয়ালাদের ৪০০ কোটি টাকা আটকে রয়েছে। বারবার চেয়েও এই টাকা পাওয়া যাচ্ছে না। নানা অজুহাতে বাড়িওয়ালাকে ঘোরানো হচ্ছে। অথচ কলকাতা হাইকোর্টের মাননীয় রেজিস্ট্রার এক নোটিফিকেশনে বলেছিলেন, রেন্ট কন্ট্রোল নয়, বিতর্কিত ভাড়া জমা দিতে হবে বাড়িওয়ালাদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে। রেন্ট কন্ট্রোলে জমা দেওয়া যাবে না। এই নির্দেশ সত্ত্বেও রাজ্য সরকার রেন্ট কন্ট্রোল বাতিল করেননি। এর প্রতিবাদ হওয়া প্রয়োজন।

Loading videos...

জোর করে কলকাতায় ইউনিট এরিয়া অ্যাসেসমেন্ট চালু করা হয়েছে। এর ফলে পুরোনো বাড়ির মালিকরা সংকটে পড়েছেন। এই আইন অনুযায়ী, বাড়ির মূল্যায়ন করা হবে তার অবস্থান এবং এলাকা বিচার করে। এ ভাবে কর নির্ধারণ করলে বহু পুরোনো বাড়ির ট্যাক্স চার-পাঁচশো গুণ বেড়ে যাবে। ফলে কলকাতার মধ্যবিত্ত বাড়িওয়ালারা বাড়ি বিক্রি করে দিতে বাধ্য হবেন। বারবার এই নিয়ে রাজ্য সরকার ও পুরসভার কাছে দরবার করা সত্ত্বেও সমস্যার সুরাহা হয়নি। প্রোমোটারের করাল গ্রাস থেকে পুরোনো বাড়ি রক্ষা করা যাচ্ছে না।

শুধু তা-ই নয়, পুরোনো বাড়ির ভাড়া বাড়ানোরও কোনো উপায় নেই। ১৯৯৭ সালের প্রেমিসেস টেনেন্সি অ্যাক্টে বলা হয়েছিল, পর্যায়ক্রমে পরিস্থিতি বিচার করে সরকার ভাড়া বৃদ্ধির হার ঘোষণা করবে। বছরের পর বছর কেটে গেলেও ভাড়া বৃদ্ধি হয়নি।

অন্য দিকে, বাড়ির মালিককে সম্পূর্ণ বঞ্চিত করে তা প্রোমোটারদের হাতে তুলে দেওয়ার ব্যবস্থা হচ্ছে সরকারি মদতে। মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেছিলেন, জরাজীর্ণ বাড়ির মালিক বাড়ি সারাতে না পারলে তা সরকার অধিগ্রহণ করে প্রোমোটারদের হাতে তুলে দেবে। বাড়িওয়ালা পাবে শুধুমাত্র বসবাসের অধিকার। মুখ্যমন্ত্রীর ইচ্ছেকে মর্যাদা দিতে কলকাতা পুরসভা আইনের প্রয়োজনীয় সংশোধনও করিয়ে নিয়েছে।

সুকুমারবাবুর বক্তব্য, বস্তাপচা বাড়িভাড়া আইনের জন্য বাড়িওয়ালারা ভাড়া বাড়াতে পারেন না। তারা মেরামতের জন্য কোনো আলাদা টাকাও ভাড়াটিয়ার কাছ থেকে আদায় করতে পারেন না। এই পরিস্থিতিতে বাড়ির সংস্কার হবে কী করে? সংবিধানের তোয়াক্কা না করে ব্যক্তিসম্পত্তি নিয়ে ছেলেখেলা করলে অজস্র মামলায় সরকার জেরবার হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতির হাত থেকে উদ্ধার পেতে সরকারের উচিত ছিল সহজ শর্তে বাড়িওয়ালাকে ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার।

নির্বাচন কমিশন বারবার সতর্ক করে দেওয়া সত্ত্বেও দেওয়ালে লেখা কোনো রাজনৈতিক দলই বন্ধ করছে না। বাড়িওয়ালার অনুমতিরও তোয়াক্কা করছে না। এই পরিস্থিতিতে নোটা ভোটের মাধ্যমে বাড়িওয়ালারা প্রতিবাদ জানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.