Salt Lake BJ Block Puja
মূল নকশা। ছবি: পুজো কমিটির সৌজন্যে

সল্টলেক বিজে ব্লকের দুর্গাপুজোর থিম এ বার চিনের কুমিং ইয়াংথাম শহরের ‘ওয়াওয়া’ জাতির প্রতীক ‘হুলু’

শৌভিক পাল, কলকাতা:  চিনা সামগ্রী ব্যবহার করার অভিজ্ঞতা আমাদের কলকাতার মানুষের অনেকেরই আছে, কিন্তু চিনে গিয়ে সেখানকার মানুষের সঙ্গে আলাপ করা, চিনা খাওয়ার খাওয়া, চিনা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার অভিজ্ঞতা সংখ্যায় অনেক কম। সল্টলেক বিজে ব্লক পুজো কমিটি এ বার তাদের পুজোর থিমে মিনি চায়না টাউন তৈরি করার পরিকল্পনা নিয়েছে। যাতে বিশাল সংখ্যক কলকাতাবাসীকে অন্তত পুজোর ক’টা দিনে চিনের স্বাদ দেওয়া যায়!

এখন প্রশ্ন, সমস্ত দেশ ছেড়ে শুধুই চিনকে কেন তাঁরা এ বার পুজোর থিমে স্থান দিলেন? উত্তরে পুজো কমিটির সভাপতি উমাশঙ্কর ঘোষ দস্তিদার জানালেন, কলকাতা ও চিনের মধ্যে একটা হার্দিক সম্পর্ক তৈরি করার জন্যই তাদের এই পরিকল্পনা। এ ছাড়াও ২০১৭-এর পুজোয় চিনের কনসাল জেনারেল মা ঝাও কলকাতার পুজো দেখতে এসে জানিয়েছিলেন, সল্টলেকের বিজে ব্লক কমিটির পুজো তাদের খুব ভালো লেগেছে। সেখানকার পরিবেশ সম্পর্ক ভূয়সী প্রশংসা করে পুজোকর্তাদের আর্থিক সহায়তা দিয়ে বলেছিলেন, আগামী পুজোয় তাঁরা যেন চিনকে তাঁদের পুজোর থিমে স্থান দেন। তাই এই পরিকল্পনা পুজোকর্তাদের।

প্রতীকী ছবি। এ ভাবেই সেজে উঠবে মণ্ডপ

চিনা কনসাল জেনারেলের আহ্বানে আট জন  মণ্ডপশিল্পীর একটি দল কলকাতা থেকে চিন ঘুরে এসে এ বার থিমে তৈরি করছেন চিনের কুমিং ইয়াংথাম শহরের ‘ওয়াওয়া’ জাতির প্রতীক ‘হুলু’। বাংলায় যা দেখতে অবিকল একটা আস্ত লাউয়ের মতন। মণ্ডপসজ্জার দায়িত্বে থাকা রাজা বণিক জানাচ্ছেন,  মণ্ডপটি তৈরি করতে তাঁদের সময় লাগছে প্রায় আড়াই মাস।

মণ্ডপে যেমন চিনা কারুকাজ থাকছে, তেমনই চিনা সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও এ বার মূল আকর্ষণ হবে দর্শকদের। কুমোরটুলির বিখ্যাত শিল্পী প্রদীপ রুদ্রপাল তৈরি করছেন এখানকার প্রতিমা। সম্পূর্ণ কাজটি করতে প্রায় ৪০ লক্ষ টাকার মতো খরচ হচ্ছে। প্রতিমা তৈরি হছে চিনা মানুষদের আদলে।

পুজোকর্তা উমাশঙ্করবাবু জানাচ্ছেন, মহালয়ার দিন থেকেই এ বার মণ্ডপ দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেওয়া হবে। চিনা খাবারের সম্ভারও মিলবে সে দিন থেকেই। সুযোগ যখন আছে, তখন পুজোয় পাড়ি দিতেই পারেন বিনে পয়সার চিন-যাত্রায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here