Connect with us

কলকাতা

উম্পুনের ধাক্কায় অর্ধশতকের সব থেকে বড়ো দুর্যোগের শিকার কলকাতা

কলকাতা: কোথাও সমূলে উপড়ে পড়েছে গাছ, পেট বেঁকে মাথায় নুইয়ে পড়েছে সিগন্যাল অথবা বিদ্যুতের খুঁটি। কোথাও উল্টে গিয়েছে আস্ত গাড়ি। অসংখ্যা ফ্ল্যাট-বাড়ির জানলার কাচ, টিন-অ্যাসবেস্টসের ছাউনি উড়েছে কাগজের টুকরোর মতো। শেষ কবে এমন দৃশ্য দেখেছিলেন কলকাতাবাসী, তা মনে করতে পারছেন না অনেকেই।

এমনই ধাক্কা মহাশক্তিশালী ঘূর্ণিঝড় উম্পুনের ধ্বংসলীলার। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, শেষ অর্ধশতকে এত বড়ো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখেনি মহানগর। বিকেল ৫টা নাগাদ প্রভাব পড়ার কথা থাকলেও তার আগে থেকেই একে একে গড়িয়াহাট উড়ালপুল থেকে শুরু করে উত্তরের দমদমে গাছ, খুঁটি উপড়ে পড়তে শুরু করে। সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউতে গাড়ির উপর পড়ে আস্ত গাছ। রিজেন্ট পার্কে গাছ চাপা পড়ে মৃত্যু হয় মা ও ছেলের। যা এক কথায় কল্পনাতীত। সংলগ্ন হাওড়ায় মৃত্যু হয় এক বছর তেরোর কিশোরীর।

বুধবার উম্পুনের সর্বোচ্চ গতি ছিল ১৮০ কিমি প্রতিঘণ্টা। কলকাতায় প্রবেশের সময় তার গতি ছিল ৭২ কিমি, ক্রমশ বেড়ে তা হয় ১০৫, পরে সেটাই বেড়ে পৌঁছায় সর্বোচ্চ ১৩৩ কিমি/ঘণ্টা। আলিপুর আবহাওয়া দফতর জানায়, সন্ধে ৭.২০টা নাগাদ দমদমে উম্পুনের সর্বোচ্চ গতি পৌঁছায় ১৩৩, আলিপুর এবং হাওড়ায় ওই একই সময়ে তা ছিল ১৩০ কিমি/ঘণ্টা। তিন ঘণ্টায় কলকাতায় ১৮০ মিমি বৃষ্টি হয়। স্বাভাবিক ভাবেই জলের তলায় চলে যায় রাস্তাঘাট। জল নামাতে পুরসভা অতিরিক্ত পাম্প চালাতে শুরু করে।

দীর্ঘক্ষণ জলের তলায় থাকা রাস্তার পিচ দুর্বল হয়ে যাওয়াটাও স্বাভাবিক। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নবান্ন থেকে রাতের সাংবাদিক বৈঠকে বলেন, আবার সব নতুন করে তৈরি করতে হবে। রাস্তা, ট্রাফিক সিগন্যাল, বিদ্যুতের খুঁটি ফের নতুন করে তৈরি করতে হবে। একই সঙ্গে তিনি বলেন, নবান্নেও উম্পুনের প্রভাব পড়ে। জানলার কাচ ঝরে পড়়ে।

আরও পড়ুন: উম্পুনে ধ্বংসস্তূপের উপরে দাঁড়িয়ে বাংলা: মমতা

এ দিন ঝড়ের পূর্বাভাস থাকায় বন্ধ করে দেওয়া হয় মহানগরের উড়ালপুলগুলি। আরজি কর ব্রিজের কাজও বন্ধ করে দেওয়া হয়। তবে উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতার বিভিন্ন অংশে গাছ উপড়ে পড়ে রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে। ঝড়ের প্রভাব কমতে শুরু করতেই পুরসভা ভেঙে পড়া গাছগুলি সরানোর কাজ শুরু করে।

কলকাতা

উম্পুন-দুর্গতদের জন্য ডাঃ শশী পাঁজার হাতে ত্রাণ তুলে দিল হরি ঘোষ স্ট্রিট দুর্গোৎসব কমিটি

খবর অনলাইন ডেস্ক: উম্পুনে (Amphan) বিধ্বস্ত অঞ্চলের মানুষের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিল হরি ঘোষ স্ট্রিট দুর্গোৎসব কমিটি (Hari Ghosh Street Durgotsav Committee) । সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড়-দুর্গতদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য নিত্যপ্রয়োজনীয় ত্রাণসামগ্রী তুলে দেওয়া হল রাজ্যের মন্ত্রী ডাঃ শশী পাঁজার (Dr. Shashi Panja) হাতে।

এই ত্রাণকাজে ঝাঁপিয়ে পড়েন উত্তর কলকাতার ১৭নং ওয়ার্ডের সকল দুর্গাপূজা কমিটি। তা ছাড়া কাশী বোস লেন, হরি ঘোষ স্ট্রিট, ভীম ঘোষ লেন, ভীম ঘোষ বাই লেন, কালী মিত্র লেন, শিবু বিশ্বাস লেন, জগদীশ নাথ রায় লেন, বিধান সরণি, রাম নারায়ণ ভট্টাচার্য লেন ও বিডন রো-র অধিবাসীবৃন্দ।

ওই সব এলাকার নাগরিকবৃন্দ স্বেচ্ছায় নিজেদের সাধ্যমতো বস্ত্র এবং খাদ্যসামগ্রী জোগাড় করে ও কিনে এবং তা একত্রিত  শ্যামপুকুর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়িকা তথা রাজ্যের নারী ও শিশুকল্যাণ দফতরের ডাঃ শশী পাঁজার হাতে তুলে দেন।   

যে সব ত্রাণসামগ্রী মাননীয়া মন্ত্রীর হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে তা হল শাড়ি ৩০০টি, পুরুষদের পোশাক ১৫০টি, বাচ্চাদের পোশাক ১৫০টি, চিঁড়ে ৪৫ কেজি, মুড়ি ৪০০ প্যাকেট (২৫০ গ্রাম করে), গুঁড়ো দুধ ৫০০ প্যাকেট, বিস্কুট ১৪০০ প্যাকেট, কেক ৩৬৫টি, হরলিক্স ২০ প্যাকেট,  ছাতু ৩৭০ প্যাকেট (১০০ গ্রাম করে), ভাজা চিঁড়ে ৫৩ প্যাকেট, হাত ধোয়ার সাবান ৩৫০টি ও বাতাসা ২৫০ গ্রাম।

এ ছাড়াও দুর্গোৎসব কমিটি র তরফে  ভারত সেবাশ্রম সংঘকে ৫০০০ টাকা,  মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে ৫০০০ টাকা এবং ফোরাম ফর দুর্গোৎসবের ত্রাণ তহবিলে ৩০০০ টাকার অনুদান পাঠানো হয়েছে। এই কর্মযজ্ঞে শামিল হওয়ার জন্য সমস্ত এলাকাবাসীকে কমিটির তরফে কৃতজ্ঞতা জানানো হয়েছে।

Continue Reading

কলকাতা

দু’মাস বন্ধ থাকার পর চালু হচ্ছে কলকাতা আর হাওড়ার মধ্যে ফেরি পরিষেবা

খবর অনলাইনডেস্ক: দু’ মাসেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ থাকার পর সোমবার থেকেই কলকাতা আর হাওড়ার মধ্যে ফেরি পরিষেবা শুরু হচ্ছে। রাজ্য পরিবহণ নিগম ও হুগলি নদী জলপথ পরিবহণ সমবায় সমিতির তরফে চালানো হবে লঞ্চ।

সরকারি ভাবে লকডাউন (Lockdown) জারি থাকলেও সাধারণ মানুষকে বেরোতে হচ্ছে। অফিস খুলে যাচ্ছে। এ দিকে তুলনায় গণপরিবহণ কম। রাস্তায় বেরিয়ে নাকাল হচ্ছেন যাত্রীরা।

ট্রেন বা মেট্রো কবে চলবে কোনো ঠিক নেই। এই পরিস্থিতিতেই এ বার ফেরি পরিষেবা শুরুর সিদ্ধান্ত হয়েছে।

তবে কোরোনা সংক্রমণ ঠেকাতে বেশ কিছু নিয়মকানুন জারি করা হচ্ছে। শারীরিক দূরত্ববিধি বজায় রাখার জন্য ভেসেলের যাত্রী ক্ষমতার ৪০ শতাংশ যাত্রী নিয়ে চালানো হবে লঞ্চগুলিকে ।

পাশাপাশি লঞ্চে ওঠার ক্ষেত্রে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে মাস্ক। কেউ মাস্ক না পরে থাকলে তাকে লঞ্চে উঠতে দেওয়া হবে না বলেও জানানো হয়েছে।

হাওড়া-বাগবাজার, হাওড়া-চাঁদপাল ঘাট, নাজিরগঞ্জ-মেটিয়াব্রুজ এবং নুরপুর-গাদিয়াড়ার মধ্যে ফেরি চালাচল শুরুর পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রতিটি রুটে এক ঘণ্টা অন্তর লঞ্চ চালানো হবে। সকাল আটটা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ভেসেল চলবে। কর্মীরা থাকবেন সকাল ৭টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত।

Continue Reading

কলকাতা

সোমবার থেকে খুলছে নিউমার্কেট-সহ আরও ৪৫ পুরবাজার

কলকাতা: আগামী সোমবার ১ জুন থেকে খুলে যাবে নিউমার্কেট-সহ (New Market) কলকাতার আরও ৪৫টি পুরবাজার।

তবে শর্তসাপেক্ষে এই বাজারগুলি খোলা যাবে। পুরসভার নির্দেশ, বাজার খোলা থাকবে সকাল ১০টা থেকে বিকেল সাড়ে পাঁচটা পর্যন্ত। তার পরেই বাজারের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হবে।

মার্চের শেষ সপ্তাহে লকডাউন (Lockdown) শুরু হওয়ার পর থেকেই বন্ধ হয়ে যায় কলকাতা সব বাজার আর শপিং মল। বাজারগুলির অন্তর্গত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দোকান খোলার অনুমতি দেওয়া হলেও বাকি সব দোকান বন্ধই রাখা হয়। দীর্ঘদিন দোকান বন্ধ থাকায় মাথায় হাত ওঠে ব্যবসায়ীদের।

এরই মধ্যে গত ১৮ মে একটি নির্দেশিকায় কলকাতাকে করোনার আবহে ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘সি’ জোনে ভাগ করা হয়। ‘এ’ জোন, অর্থাৎ সংক্রমিত জোনে কোনো দোকান খোলা যাবে না। ‘বি’ অর্থাৎ বাফার জোনে একটি বাজারের মধ্যে থাকা নন-এসেনশিয়াল দোকানের ২৫ শতাংশ খোলা যাবে। আর ‘সি’, অর্থাৎ ক্লিন জোনে খোলা যাবে সব দোকান।

পুরসভা সূত্রের খবর, পুর বাজারগুলি আপাতত ‘ক্লিন জোনে’ রয়েছে বলে খবর। তবে যদি দেখা যায় বিশেষ কোনো বাজারের কাছে করোনা সংক্রমণের খবর মিলেছে, তা হলে সেই বাজার আবার বন্ধ করে দেওয়া হবে।

নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, বাজারে নিয়মিত জীবাণুনাশক ছড়াতে হবে। বড়ো দোকানে পাঁচ জন ও ছোটো দোকা‌নে দু’জনের বেশি ক্রেতাকে দাঁড়াতে দেওয়া হবে না। দোকানদার ও কর্মীদের অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। রাখতে হবে হ্যান্ড স্যানিটাইজ়ার।

এই বাজারগুলির খোলার ফলে ব্যবসায়ীরা যে কিছুটা হাঁফ ছেড়ে বাঁচবেন তা বলাই বাহুল্য।

Continue Reading

ট্রেন্ড্রিং