চলছে পুজো
smita das
স্মিতা দাস

এখনও কলকাতায় ঠিকমতো বর্ষার দেখা নেই। বৃষ্টির জন্য হা হুতাশ করছে গোটা সংসার। সঙ্গে চলেছে জলাভাবের পূর্ব সতর্কীকরণ। আর জল বাঁচানোর নানান প্রকল্প প্রতিজ্ঞা। বৃষ্টি নেই ফলে জল নেই তাই অনেকেই মনে করছেন নিজেদের জীবনে রসও নেই। কিন্তু তা বলে তো আর বাঙালির বারো মাসে তেরো পার্বণের সেরা পার্বণটির অবহেলা করা চলে না। ফলে এরই মধ্যে চলছে দেবীবন্দনার আয়োজন অনুষ্ঠান। জগন্নাথের পা রথে পড়া মাত্রই দুর্গাপুজোর খুঁটিপুজোর মধ্যে দিয়ে সেই উৎসাহের বহিঃপ্রকাশ শুরু হয়ে গিয়েছে পাড়ায় পাড়ায়। হয়ে গেল হিন্দুস্থান পার্কের খুঁটিপুজোর জমাটি অনুষ্ঠান।

৮৯ বছরের ঐতিহ্য বুকে নিয়ে এগিয়ে চলেছে হিন্দুস্থান পার্ক। তারকাখচিত আকাশের মতোই মেঘলা রবিবারের বৃষ্টিহীন সকালের সুন্দর পরিবেশে হিন্দুস্থান পার্ক সর্বজনীনের পাড়ায় নেমে এসেছিল তারাদের ঢল। রুপোলি পর্দা ও রাজনৈতিক মহলের একাধিক ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে হয়ে গেল খুঁটিপুজো।

আরও পড়ুন – শহর ছেড়ে গ্রামে, হাওড়ার কাঁকরোলে ১১৬ বছরের পুজো

উপস্থিত ছিলেন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, অরূপ বিশ্বাস, তাপস রায়, দেবাশিস কুমার, রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী শ্রাবণী সেন, অভিনেতা ঋষি মুখার্জি, সোনালী চৌধুরী, রিজওয়ান রাব্বানি সানি, সংঘশ্রী সিনহা, জয় দেবরায়, ডিজাইনার অভিষেক রায়-সহ অনেকেই।  উপস্থিত ছিলেন থিমশিল্পী অনির্বাণ দাস ও তাঁর সহযোগীরাও। ছিলেন আলোকশিল্পী প্রেমেন্দ্রবিকাশ চাকী।

পুজো কমিটির অর্গানাইজিং সেক্রেটরি ডাঃ অরিজিৎ রায়চৌধুরি। তিনি জানান, হিন্দুস্থান পার্ক দক্ষিণ কলকাতার একটি অভিজাত এলাকা। অতীতে বহু স্বনামধন্য মানুষ এখানে বসবাস করেছেন। এখন তাঁদের হাত থেকে দায়িত্ব এসেছে বর্তমান প্রজন্মের হাতে। সেই দিকে লক্ষ রেখে এগিয়ে চলতে হয়। সকল স্তরের মানুষ হিন্দুস্থান পার্কের পুজোর গুণগ্রাহী।  সেই বিষয়টিকে ধরে রাখতে পারাও একটি দায়িত্ব। প্রতি বছরই থিমের ওপরে গোটা পুজো সজ্জা আবর্তিত হয়। এই বারেও রয়েছে একটি বিশেষ থিম, বিশেষ চমক। এই বারের থিমশিল্পী অনির্বাণ দাস। প্রতিমার দায়িত্বেও অনির্বাণ। আলোক পরিকল্পনায় রয়েছেন প্রেমেন্দ্রবিকাশ চাকী। থিম আবহে রয়েছেন শতদল চট্টোপাধ্যায়।  

হিন্দুস্থান পার্কের খুঁটি পোঁতা হল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের হাত দিয়ে।

খুঁটিপোতার কাজটি সম্পন্ন করেন আমন্ত্রিত রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বরাই। দেবী দুর্গার জয়ধ্বনি দিয়ে খুঁটি পোতেন তাঁরা।

শিল্পী অনির্বাণ দাস বলেন, এই বছরে ‘নবরস’ নিয়ে কাজ করছেন তাঁরা। থিম সাজাতে থাকবে নানান ধরনের সামগ্রী। এর সঙ্গে আলোকসজ্জাও থিমে একটি বিশেষ মাত্রা এনে দেবে। সঙ্গে অবশ্যই থাকবে থিম সং। অনির্বাণ বলেন, এই কাজে সাহায্য করছেন নৃত্য, অভিনয়ের সঙ্গে যুক্ত বেশ কয়েক জন শিল্পী। তাঁকে বিশেষ ভাবে সাহায্য করছেন তাঁর সহশিল্পীরা, কার্তিক, গণেশ, পৃথজিত, সত্যানু।

আলোকশিল্পী প্রেমেন্দ্র বিকাশ চাকী বলেন, এখানে রসের খেলা হবে। তাতে সহযোগিতা করবে আলো। মানুষ এই থিমের মাধ্যমে ভরপুর রসাস্বাদন করতে পারবেন।

হিন্দুস্থান পার্কের খুঁটিপুজো অনুষ্ঠানে

অভিনেতা ঋষি মুখার্জি বলেন, তিনি হিন্দুস্থান পার্কের সঙ্গে অনেক দিন ধরে যুক্ত। আরজে রাইয়ের ডাকেই তিনি আরও বেশি করে হিন্দুস্থান পার্কের সঙ্গে জড়িয়ে গিয়েছেন। পুজোর সময় আসতে না পারলেও মনে মনে তিনি সব সময়ই এই পুজোর সঙ্গে আছেন।

অভিনেতা সোনালী হিন্দুস্থান পার্কের পুজোয় এর আগে অনেক বারই এসেছেন। কিন্তু এই বারের আসাটা সম্পূর্ণ আলাদা। এ বারে শুধুই আনন্দ করতে আসা। বলেন, খুব ভালো লাগছে। পুজোর প্রায় তিন মাস আগেই পুজো পুজো অনুভব করা ব্যাপারটা সম্পূর্ণ আলাদা। এখন ঢাকের আওয়াজ শুনেই মনে হচ্ছে পুজো এসেগিয়েছে।

সংঘশ্রী বলেন, এই এলাকায় আগেও তিনি এসেছেন কাজের সূত্রে। তখন রাস্তা আটকে পুজোর কাজ করা হত। সেই সময়টা একটু খারাপ লাগত। কিন্তু আজ যখন খুঁটিপুজোয় এসেছেন ক্লাবের সঙ্গে ব্যক্তিগত ভাবে যুক্ত হতে পেরেছেন, বেশ মজা হচ্ছে। বলেন, বাড়িতে পুজো হয় বলে সেই সময় ঠাকুর দেখার সুযোগ কম। তবে হিন্দুস্থান পার্কে অনেক বন্ধুবান্ধব থাকেন ফলে ঠাকুর দেখতে আড্ডা মারতে আসা হয়ই। হিন্দুস্থান পার্কের পরিবেশ খুব ঘরোয়া বলেও ভালো লাগে সংঘশ্রীর।

তারকার সমারোহে হিন্দুস্থান পার্ক

সানি, অভিষেক, জয় সকলেই এই খুঁটিপুজোয় আসতে পেরে খুবই খুশি। প্রথম বার এই পাড়ার পুজোয় আসার অভিজ্ঞতা বেশ মধুর। পুজোর দিনগুলোয় একবারে প্রথম দিকেই ঠাকুর দেখে নেওয়ার ইচ্ছে প্রকাশ করেন তাঁরা।

ক্লাবের সেক্রেটারি সুতপা দাস বলেন, প্রতি বছরই ক্লাব একাধিক সমাজসেবামূলক কাজ করে থাকে। এই বারও একাধিক কর্মসুচি রয়েছে। মহিলাদের মধ্যে উন্মাদনা দিন দিন বাড়ছে। বাড়ির পুজোর মতোই সকলে অংশগ্রহণ করেন। উদ্বোধন সম্পর্কে তিনি বলেন, মুখ্যমন্ত্রী প্রতি বছরই উদ্বোধন করেন, এ বারেও তা-ই হবে। ফলে উদ্বোধনের দিন ঠিক হবে সেই অনুযায়ীই। হিন্দুস্থান পার্ক থাকবে কার্নিভালেও।

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here