ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা পেল কলকাতার দুর্গোৎসব

0
মহাষ্টমীর কলকাতা।
মহাষ্টমীর অঞ্জলি। ছবি: রাজীব বসু।

বাংলা তথা দেশের মুখ উজ্জ্বল হল। কলকাতার দুর্গোৎসব ইউনেস্কোর হেরিটেজ তকমা পেল। এই খবরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আনন্দ প্রকাশ করেছেন।   

‘লিভিং হেরিটেজ’ হ্যাশট্যাগ (#LivingHeritage) এবং মা দুর্গার মুখের ছবি দিয়ে বুধবার ইউনেস্কো যে টুইট করেছে তাতে বলা হয়েছে, “ইনট্যানজিবল হেরিটেজের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হল কলকাতার দুর্গাপূজা। ভারতকে অভিনন্দন।”

এই খবরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, ইউনেস্কোর এই সিদ্ধান্ত প্রতিটি ভারতবাসীর কাছে অত্যন্ত গর্বের এবং আনন্দের বিষয়।

তিনি বলেন, “দুর্গাপূজা আমাদের ঐতিহ্য ও বৈশিষ্ট্যের সেরা দিকগুলি তুলে ধরে। প্রত্যেকের উচিত কলকাতার দুর্গাপূজা দেখার অভিজ্ঞতা অর্জন করা।”

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, দুর্গাপূজা শুধুমাত্র একটা উৎসব নয়, এটা একটা আবেগ।

“বাঙালির কাছে গর্বের মুহূর্ত! সারা বিশ্ব জুড়ে প্রতিটি বাঙালির কাছে দুর্গাপূজা একটা উৎসবের চেয়েও বেশি, এটা একটা আবেগ যা প্রত্যেককে ঐক্যবদ্ধ করে। আর এখন দুর্গাপূজা ‘মানবতার অননুভবনীয় (ভাবনাচিন্তার অতীত) সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকা’য় (Representative List of Intangible Cultural Heritage of Humanity) যোগ হল। আমরা সবাই আনন্দে ভাসছি”, টুইট করে বলেছেন মুখ্যমন্ত্রী।

এই সাফল্যে কলকাতা শহরের বাসিন্দাদের অভিনন্দন জানিয়েছে ভারতের সংস্কৃতি মন্ত্রক।

মন্ত্রকের তরফে বলা হয়েছে, “কলকাতার দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর ‘মানবতার অননুভবনীয় সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বমূলক তালিকা’য় যুক্ত হওয়ায় আমরা খুবই আনন্দিত। অনেক অভিনন্দন! দেশের সমৃদ্ধ উত্তরাধিকার এবং কলা, শিল্প, আচার ও প্রথার যে সংস্কৃতি তার মেলবন্ধন ঘটল। জয় মা দুর্গা!”

পশ্চিমবঙ্গের তথ্য ও সংস্কৃতি বিষয়ক দফতর দেশ তথা রাজ্যের মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে এক বিবৃতি প্রকাশ করেছে।

বিবৃতিতে তারা বলেছে, ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজ (আইসিএইচ) রক্ষা করার জন্য ইউনেস্কোর ষোড়শ কমিটি প্যারিসে ১৫ ডিসেম্বর যে বৈঠকে বসেছিল তাতেই কলকাতার দুর্গাপূজাকে মানবতার ইনট্যানজিবল কালচারাল হেরিটেজের তালিকায় যুক্ত করার সিদ্ধান্ত হয়।

গত সেপ্টেম্বরে কলকাতার দুর্গাপূজার জন্য আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আদায়ে উদ্যোগী হয়েছিল রাজ্য সরকার। কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন করা হয়েছিল রাষ্ট্রপুঞ্জের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সাংস্কৃতিক বিভাগে। তার পরেই এই তকমা বাঙালির সেরা উৎসব।

ইউনেস্কো তার ওয়েবসাইটে দুর্গাপূজাকে ‘ঘরে ফেরা বা নিজের শিকড়ে মরশুমি ফেরার উৎসব’ বলে বর্ণনা করেছে।

ইউনেস্কো বলেছে, “ধর্ম ও শিল্পকলার ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের কিছু করে দেখানোর সর্বশ্রেষ্ঠ দৃষ্টান্ত হল দুর্গাপূজা। শিল্পী ও ডিজাইনারদের একযোগে সমৃদ্ধ হওয়ার বড়ো ক্ষেত্র এই দুর্গাপূজা।”

আরও পড়তে পারেন

কেন্দ্রীয় মন্ত্রীসভার বড়ো সিদ্ধান্ত! ২০২৫-২৬ পর্যন্ত এই কৃষি প্রকল্প চালিয়ে যাওয়ার অনুমোদন

পশ্চিমবঙ্গে প্রথম ওমিক্রন সংক্রমিতের হদিশ মিলল, তবে আতংকের একদমই কিছু নেই

৭ দিনের লড়াইয়ে ইতি! রাওয়তের হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় একমাত্র জীবিত, গ্রুপ ক্যাপ্টেন বরুণ সিংহ প্রয়াত

হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চের রায়, কলকাতা পুরভোটে কোনো স্থগিতাদেশ নয়

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন