খবরঅনলাইন ডেস্ক: বিজেপিকে একটি ভোটও নয় (No vote to BJP) – কলকাতা ও নন্দীগ্রামে সংযুক্ত কিষান মোর্চা (Samyukt Kishan Morcha) আয়োজিত জনসভায় সাধারণ মানুষের উদ্দেশে এই ডাক দিলেন কৃষক নেতা রাকেশ টিকায়েত (Rakesh Tikait)।

কেন্দ্রের তিন কৃষি আইনের বিরুদ্ধে প্রায় চার মাস ধরে কৃষক আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সংযুক্ত কিষান মোর্চা। তাদের আয়োজিত মহাপঞ্চায়েতে (Mahapanchayat) যোগ দিতে ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের (Bharatiya Kisan Union) প্রধান রাকেশ টিকায়েত শনিবার কলকাতায় আসেন।

রাকেশ টিকায়েতকে এ দিন বিমানবন্দরে স্বাগত জানান তৃণমূল সাংসদ দোলা সেন। কলকাতায় আয়োজিত সভায় যোগ দেন টিকায়েত। এর পরে চলে যান নন্দীগ্রামে। সেখানে কৃষকদের মহাপঞ্চায়েতে ভাষণ দেন তিনি। সেই মহাপঞ্চায়েতে মেধা পাটকরও উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, এই নন্দীগ্রাম থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং শুভেন্দু অধিকারী।

কী বললেন রাকেশ টিকায়েত

বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্রীয় সরকারের লক্ষ্য হল কৃষকদের এবং তাঁদের আন্দোলনের মাজা ভেঙে দেওয়া – এই অভিযোগ করে রাকেশ টিকায়েত বলেন, “এরা জনবিরোধী।”

তিনি বলেন, “বিজেপিকে ভোট দেবেন না। এদের ক্ষমতায় নিয়ে এলে এরা আপনাদের জমি বড়ো বড়ো কর্পোরেট এবং শিল্পকে দিয়ে দেবে। আপনারা জমিহারা হবেন। আপনার জীবনযাত্রাকে বিপজ্জনক জায়গায় নিয়ে গিয়ে এরা দেশটাকে বড়ো শিল্পগোষ্ঠীর হাতে তুলে দেবে।”

বিজেপিকে ‘ঠগবাজের দল’ আখ্যা দিয়ে টিকায়েত বলেন, ধনীদের জন্য সহানুভূতি এরা লুকিয়ে রাখে। তিনি বলেন, “যারা বিজেপির বিরোধিতা করে, যারা কৃষক ও দরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়ায়, আমরা তাদের দিকে।”

বাংলার কৃষক পঞ্চায়েত বিজেপি-বিরোধী কোনো নির্দিষ্ট দলের প্রতি যে সমর্থন জানাচ্ছে না, সে কথা পরিষ্কার ভাবে ব্যক্ত করে ভারতীয় কিষান ইউনিয়নের প্রধান বলেন, “কোনো নির্দিষ্ট দলের জন্য ভোট চাইতে আমি এখানে আসিনি। বাংলার কৃষকদের তরফ থেকে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই শুরু করার জোরালো ডাক দিতেই আমরা এখানে এসেছি।”

দিল্লিতে চলতে থাকা কৃষকদের প্রতিবাদ-বিক্ষোভ প্রসঙ্গে টিকায়েত বলেন, যত দিন মনের জোর থাকবে, সে যত দীর্ঘ সময় হোক না কেন, প্রতিবাদীরা তত দিন আন্দোলন চালিয়ে যেতে প্রস্তুত।

মেধা পাটকর কী বললেন

নরেন্দ্র মোদী সরকারের ‘অশুভ কৌশল’ সম্পর্কে সতর্ক করে দিয়ে মেধা পাটকর বলেন, ছোটো ছোটো জমির উপরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক চাষিদের যে অধিকার রয়েছে তা ছিনিয়ে নেওয়ার কৌশল করেছে এই সরকার। কৃষকদের নিজেদের কৃষিপণ্যের লাভজনক মূল্য নির্ধারণ করতে দিচ্ছে না এই সরকার।

নিজেদের ভোটাধিকার অতি সাবধানের সঙ্গে প্রয়োগ করার আহ্বান জানিয়ে মেধা বলেন, কৃষি আইন জোর করে চাপিয়ে দেওয়ার যে উদ্দেশ্য বিজেপির রয়েছে তার বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দিয়ে নন্দীগ্রামের মানুষ পথ দেখান।

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন