খবরঅনলাইন ডেস্ক: করোনাভাইরাস (coronavirus) জনিত পরিস্থিতির মোকাবিলায় দেশ জুড়ে জারি হওয়া লকডাউনে কড়াকড়ি বেশ কিছুটা শিথিল হলেও গণপরিবহণের হাল এখনও খুব একটা ভালো নয়। বিশেষ করে কলকাতা (Kolkata) শহরে হাতে গোনা সরকারি বাসই ভরসা। বেসররকারি বাস চলছে বটে, তা সংখ্যায় নামমাত্র। এই পরিস্থিতিতে সাইকেলের কদর খুব বেড়েছে। তা ছাড়া পরিবেশ-বান্ধব যান বলে সাইকেলের এমনিতেই একটা চাহিদা আছে। সব মিলিয়ে সাইকেল (cycling) এখন বড়ো ভরসা কলকাতাবাসীদের।

কিন্তু সাইকেল-আরোহীর সংখ্যা যেমন প্রচুর বেড়েছে কলকাতা শহরে, তেমনই বেড়েছে অভিযোগের বহর। কলকাতা পুলিশ প্রতি দিনই সাইকেলকে জড়িয়ে নানা রকম অভিযোগ পাচ্ছেন। এমনকি সাইকেল চুরির ঘটনাও বেড়েছে। তাই সাইকেল-আরোহীদের নিরাপত্তার স্বার্থে সমস্ত ট্রাফিক গার্ডের উদ্দেশে কী করতে হবে আর কী করা যাবে না, সে সব সংবলিত পাঁচ দফা নির্দেশাবলি জারি করেছে কলকাতা পুলিশ (Kolkata Police)।  

কলকাতার এক ট্রাফিক গার্ডের এক সিনিয়ার আধিকারিক বলেন, “যাঁরা নিয়ম ভাঙছেন, তাঁদের আমরা বোঝাচ্ছি। এখনও পর্যন্ত কোনো জরিমানা করা হচ্ছে না। সুরক্ষার ন্যূনতম নিয়মগুলি আমরা পালন করতে বলছি।”

প্রথম নিয়ম হল, শহরের মূল সড়কে সাইকেল না চালানো। চালাতে হবে পার্শ্ববর্তী রাস্তাগুলিতে। “প্রধান প্রধান সড়কে এবং ফ্লাইওভারে সাইকেল চালানো চলবে না”, লালবাজারের এক সিনিয়ার অফিসার পরিষ্কার করে বললেন।

দ্বিতীয় নিয়ম হল, একেবারে প্রাথমিক ট্রাফিক রুল মেনে চলা, যেমন রাস্তার বাঁ দিক ঘেঁষে চলা।“অনেক জায়গায় বহু সাইকেল-আরোহী এই নিয়ম মানছেন না। আমরা তাঁদের বলছি সিগন্যাল মানতে এবং তাড়াতাড়ি যাওয়ার জন্য দ্রুত কোনো যানের পিছন ধরে যেন সাইকেল চালানো না হয়”, কলকাতার পূর্ব শহরতলির এক পুলিশ অফিসার ব্যাখ্যা করে বললেন।

তবে দু’ চাকায় চেপে যিনি ইউরোপ ঘুরে এসেছেন সেই সাইকেল-অনুরাগী লতিকা বিশ্বাস বলেন, কিছু ব্যতিক্রম থাকতে পারে, তবে শহরের বেশির ভাগ সাইকেল-আরোহীই আইন মেনে চলেন।  

তৃতীয়ত, সাইকেল-আরোহীদের হেলমেট পরতে বলা হয়েছে এবং রিফ্লেকটিভ লাইট ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। চতুর্থত, চাবি না দিয়ে খোলা জায়গায় কেউ সাইকেল ছেড়ে যাবেন না। আর পঞ্চম নিয়মটা এসেছে খোদ লালবাজার থেকে। “যাঁরা নিয়মিত সাইকেল চালান, তাঁরা এখন স্থানীয় ট্রাফিক গার্ডের সাহায্যে তাঁদের রুট ঠিক করছেন। যে পথে তাঁরা আগে যাতায়াত করতেন, সেই পথেই তাঁদের যেতে বলা হচ্ছে”, এক আইপিএস অফিসার বলেন।  

সাইকেল-অনুরাগীরা বলেছেন, সাইকেল-আরোহীদের মধ্যে সচেতনতা জাগাতে তাঁরা পুলিশকে সাহায্য করতে চান। কিছু গুরুত্বপূর্ণ ও প্রধান সড়কে সাইকেলের জন্য বাইলেন নির্দিষ্ট করে দেওয়ার জন্য তাঁরা আবেদন জানিয়েছেন।

এক সাইকেল-অনুরাগী বিনয় জাজু বলেন, “পরিবহণের সুস্থ উপায় হিসাবে সারা বিশ্ব জুড়েই মেট্রোপলিটান শহরগুলিতে সাইকেল চালানোয় উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে। কলকাতাও যদি সেই বিশ্বব্যাপী আন্দোলনের অংশীদার হয়, তা হলে আমরা কলকাতার জন্য গর্ব বোধ করতে পারি।”

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন