আতঙ্কের স্মৃতি ভুলে অন্যকে সক্ষম করার কাজে ব্রতী হয়েছেন জয়দীপ

0
jaideep in hospital
জয়দীপ তখন হাসপাতালে। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব প্রতিনিধি: রাখে হরি মারে কে? মৃত্যুকে স্পর্শ করেও জীবন ফিরে পেলেন এক বাঙালি যুবক। বছর ২৪-এর তরুণ পাইলটের ইচ্ছে ছিল হাজার যাত্রীকে গগন চুম্বন করিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে নিয়ে যাবেন। কিন্তু সেই আশার হাতছানি পেয়েও ভয়াবহ এক বিমান দুর্ঘটনায় ক্ষতবিক্ষত হয়ে যান ওই যুবক। কিন্তু ইচ্ছাশক্তির তীব্রতায় আজ তিনি মৃত্যুশয্যা থেকে উঠে দাঁড়িয়েছেন নতুন করে ওড়ার আশায়।

জয়দীপ বন্দ্যোপাধ্যায় নামে ওই যুবকের বাড়ি সল্টলেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় পাইলট হওয়ার প্রশিক্ষণ প্রায় সম্পূর্ণ করে এনেছিলেন। শুধু বাণিজ্যিক লাইসেন্স পাওয়ার অপেক্ষায়। এর মধ্যেই লেকল্যান্ড থেকে মিয়ামি ফেরার পথে ঘটে যায় সেই দুর্ঘটনা। মাটি থেকে ১৮০০ ফুট ওপর দিয়ে ওড়ার সময় বিমানটি হুড়মুড় করে ভেঙে পড়ে। বিমানের একটি অংশ ভেঙে পড়ে জয়দীপের পায়ের ওপরে। তাঁর বাঁ পা যায় বিমানের ভাঙা অংশের ভিতরে। এখনও সেই অভিজ্ঞতা ভুলতে পারেননি এই তরুণ পাইলট।

জয়দীপ বলেন, “ট্রমাটা কেটে গিয়েছে। এখন আর সেই ভয় তাড়া করে বেড়ায় না। কিন্তু ওই অভিজ্ঞতা ভোলা যায় না। ওই অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচক কাজে লাগিয়ে অপেক্ষা করছি আবার কবে উড়ব।”

ঘটনাটি ঘটে ২০১৮-এর মে মাসে। সেই সময়ে প্রাইভেট প্লেনের প্রশিক্ষণে ছিলেন জয়দীপ। তিনি ও বিনোদ কুমার নামে আর এক সহ-পাইলট সেসনা ১৫২-তে মিয়ামি থেকে লেকল্যান্ড যান। রাত ৮টা নাগাদ তাঁরা ফের মিয়ামি ফিরছিলেন। বিমানটি চালাচ্ছিলেন বিনোদ। জয়দীপ জানান, তাঁরা প্রায় মিয়ামি বিমানবন্দর পৌঁছে গিয়েছিলেন। সেই সময় কন্ট্রোল টাওয়ার থেকে খবর আসে প্রবল বজ্র বিদ্যুৎ-সহ বৃষ্টি হচ্ছে। তাই বিমানটি ঘুরিয়ে নিতে বলে। তার পরেই বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েন তাঁরা। নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঝড়ের মাঝে চলে যান তাঁরা। কোনো মতে বিমানটিকে তাঁরা উদ্ধার করে ফের উড়তে শুরু করেন।

শেষরক্ষা হয় না। ফ্লোরিডার এভারগ্ল্যাডস জাতীয় উদ্যানে গিয়ে পড়েন। বিমান ভেঙে প্রায় আড়াই ঘণ্টা  দুই পাইলট পড়েছিলেন। খবর পেয়ে মিয়ামি পুলিশের উদ্ধারকারী দল এসে চপারে করে তাঁদের নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি করেন। দু’ মাস আইসিইউতে ছিলেন জয়দীপ। প্রথম দিকে দুর্ঘটনার আতঙ্ক তাঁকে ঘিরে ছিল। দুর্ঘটনায় তাঁর বাঁ পা সম্পূর্ণ ভেঙে যায়। ডান কাঁধ, কবজি, এমনকি শরীরের বহু জায়গা ভেঙে গিয়েছিল। ছ’ মাস পরে ক্রাচের সাহায্যে হাঁটতে শুরু করেন ওই তরুণ পাইলট।

আরও পড়ুন দেখে নিন আয়করের নতুন নিয়ম এবং পরিমাণ

এখনই বিমান চালানোর পক্ষে শরীর উপযুক্ত হয়নি। তাই আপাতত পাইলটের প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন একটি কেন্দ্রে। সময়ের সঙ্গে অনেকটাই ক্ষীণ হয়েছে আতঙ্কের স্মৃতি। এই ভাবে মৃত্যুকে স্পর্শ করার অভিজ্ঞতা যাতে আর কারও না হয়, তার জন্য বাংলার ছেলেমেয়েদের আরও বেশি করে সক্ষম করে তোলার প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন জয়দীপ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here