health tech 2019
‘হেলথ টেক ২০১৯’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত – (বাঁ দিক থেকে) সঞ্জয় সেন, কাজুয়া নাকাজো, ডাঃ অলোক রায়, ইন্দ্রজিৎ সেন, হুবার্ট গোফিনেট ও অর্ণব বসু। নিজস্ব চিত্র।

স্মিতা দাস

ক্রমেই বদলে যাচ্ছে স্বাস্থ্য পরিষেবার ধরন। স্বাস্থ্যব্যবস্থার প্রায় সব ক্ষেত্রের সঙ্গেই ওতপ্রোতভাবে মিশে যাচ্ছে প্রযুক্তি। সকলে চান দ্রুত এবং আরও ভালো চিকিৎসা পরিষেবা। এই পদ্ধতিতে চিকিৎসায় তথ্যের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আর এ জন্য কেন্দ্রীভূত তথ্য পাওয়ার ব্যবস্থা থাকা দরকার। এই কথা মাথায় রেখেই ব্লকচেন পরিষেবা দেওয়ার কথা চিন্তা করছে চিকিৎসা আর স্বাস্থ্যের সঙ্গে যুক্ত বিশেষজ্ঞমহল। এটি হল প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা। এই প্রসঙ্গেই হাতে হাত মিলিয়ে এগিয়ে এসেছে দ্য বেঙ্গল চেম্বার অফ কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি আর মেডিকা গ্রুপ অফ হসপিটাল। সম্প্রতি কলকাতার গেটওয়ে হোটেলে আয়োজিত ‘‌হেলথ টেক ২০১৯ – টেকনোলজিস ফর ইউনিভার্সাল হেলথকেয়ার’  অনুষ্ঠানে সে কথাই বারেবারে উঠে এল। দু’ ‌দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে আলোচনার মূল বিষয়ই এটি।

দু’ দিনের অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন দ্য বেঙ্গল চেম্বারের সভাপতি ইন্দ্রজিৎ সেন, দ্য বেঙ্গল চেম্বারের প্রাক্তন সভাপতি এবং মেডিকা গ্রুপ অফ হসপিটালসের চেয়ারম্যান ডাঃ অলোক রায়, দ্য বেঙ্গল চেম্বারের আইটি কমিটির চেয়ারম্যান অর্ণব বসু, বেঙ্গল চেম্বারের আইটি কমিটির কো-চেয়ারপার্সন সঞ্জয় সেন, ভারতে বেলজিয়াম দূতাবাসের বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ কমিশনার হাবার্ট গোফিনেট,  জাপানের এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের চিফ ডিরেক্টর জেনারেল কাজুয়া নাকাজো, প্রাইস ওয়াটারহাউজ কুপার্সের পার্টনার অ্যান্ড হেলথকেয়ার লিডার ডাঃ রানা মেহতা, মেডিকা হাসপাতালের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান এবং সিনিয়র কনসালট্যান্ট কার্ডিয়াক সার্জন ডাঃ কুণাল সরকার প্রমুখ।

অনুষ্ঠানের ফাঁকে ডাঃ অলোক রায় বলেন, স্বাস্থ্যক্ষেত্র হয়ে উঠছে পরিষেবা প্রদানকারী একটি ক্ষেত্র। প্রযুক্তি ব্যবহার করে আরও ভালো চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব। প্রযুক্তি এখন সারা দুনিয়ায় জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বিশেষত ডিজিটাল প্রযুক্তি মানুষের জীবনে কোনো না কোনো ভাবে ছড়িয়ে রয়েছে। হয় প্রত্যক্ষ ভাবে, আর না হয় পরোক্ষ ভাবে।

দ্য বেঙ্গল চেম্বারের সভাপতি ইন্দ্রজিৎ সেন বলেন,  লক্ষ্য হল সকলের জন্য উন্নত মানের চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়া। পাশাপাশি বণিকসভার তথ্যপ্রযুক্তি কমিটির প্রস্তাব হল, সরকারি এবং বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে বৈদ্যুতিন চিকিৎসা রেকর্ড অর্থাৎ ইলেকট্রনিক হেলথ রেকর্ড (‌ইএইচআর)‌ চালু করার। এই পদ্ধতিতে ব্লকচেনের মাধ্যমে রোগীর শারীরিক অবস্থা,  প্রেসক্রিপশন,  বিভিন্ন পরীক্ষার তথ্য চিকিৎসা সংক্রান্ত ইত্যাদি তথ্য জমা থাকবে। তা সংরক্ষণ করা হবে সংশ্লিষ্ট রোগীর পরিচয়পত্রের ভিত্তিতে।‌

আরও পড়ুন বেশি খাওয়াদাওয়ায় ওজন বেড়েছে? ওজন কমাতে মেনে চলুন এই ৫টি টিপস

‘ব্লকচেনের সাহায্যে ‌ভারতে স্বাস্থ্য সংক্রান্ত তথ্য পুরোপুরি প্রতিস্থাপিত করা’‌  শীর্ষক প্রাইস ওয়াটারহাউজ কুপার্সের এক গবেষণাপত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় অনুষ্ঠানের প্রথম দিনে।

অর্ণব বসু বলেন,  আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্পকে গ্রহণ করে ভারতীয় স্বাস্থ্য পরিষেবা একটি ভালো জায়গায় পৌঁছোতে পারে। সঙ্গে ইউনিভার্সাল হেলথ কেয়ার (‌ইউএইচসি)–এর ক্ষেত্রেও ভালো জায়গা পেতে পারে ভারত। দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থা,  রোগীর যত্নের মান এবং পর্যাপ্ত দক্ষ কর্মীর অভাবের মতো সমস্যাগুলি দীর্ঘ সময় ধরে মোকাবিলা করে আসছে ভারতের স্বাস্থ্য পরিষেবা। এর সঙ্গে রয়েছে প্রযুক্তির সীমাবদ্ধতাও। ফলে নানা ক্ষেত্রে সমস্যা জটিল হচ্ছে। দেখা যাচ্ছে দরকারি চিকিৎসা তথ্য, তার মালিকানা,  জমা রাখার পদ্ধতি,  মান নির্ধারণ,  নিরাপত্তা এবং বিনিময় করার ক্ষেত্রে সমস্যা দেখা দিয়েছে। ব্লকচেন এই সমস্যাগুলির সমাধান করতে পারে। এই ব্যবস্থা স্বাস্থ্যসুরক্ষার জন্য একটি নির্ভরযোগ্য তথ্য বিনিময় মঞ্চ তৈরি করে।

এই প্রযুক্তিকে অনেক সরকারি, বেসরকারি সংস্থা কাজে লাগাতে উদ্যোগী হয়েছে। ব্যবস্থাটি ভারতে খুব তাড়াতাড়ি জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। প্রাইস ওয়াটারহাউজ কুপার্স এ ব্যাপারে অনেক সাহায্য করছে। তা ছাড়াও কী করে আরও ভালো সমাধান পাওয়া যেতে পারে সে নিয়ে বিভিন্ন স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদাকারী সংস্থাও কাজ করছে।

কারা এই পরিষেবা ব্যবহার করতে পারে? এই কথা বলতে গিয়ে প্রাইস ওয়াটারহাউজ কুপার্স-এর পার্টনার আর লিডার অভিজিৎ মজুমদার বলেন, যাদের কাছে প্রতি দিন বহু মানুষ চিকিৎসা পরিষেবা নিতে আসেন, যাদের সঙ্গে একাধিক স্বাস্থ্যসংক্রান্ত অন্যান্য সংস্থা যুক্ত রয়েছে তারাই এই ব্যবস্থা কাজে লাগাতে পারে। এর ফলে একই রোগের চিকিৎসা করতে গিয়ে রোগী আর তার পরিবারকে একই পরীক্ষা বারবার করতে হবে না। এক জায়গায় করা পরীক্ষার রিপোর্ট দেখতে পাওয়া যাবে যে কোনো প্রতিষ্ঠানেই। তার জন্য শুধু লাগবে রোগী সনাক্তকারী নির্দিষ্ট নম্বর। এই নম্বর প্রত্যেক রোগী ভেদে আলাদা হবে। এতে সময়, খরচ আর ভোগান্তি অনেক কমবে। চিকিৎসকরাও প্রয়োজন অনুযায়ী সঠিক চিকিৎসা আর পরিষেবা দিতে পারবেন।

বিশেষজ্ঞ জোরিয়াম ডট কম-এর সিইও বলেন, এই ব্যবস্থা সম্পূর্ণ নিরাপদ ও বিশ্বাসযোগ্য। এই প্ল্যাটফর্ম থেকে সাধারণের তথ্য চুরি করা হ্যাকারদের পক্ষে সম্ভব নয়। 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here