নিজস্ব প্রতিনিধি: গঙ্গায় প্রবল জোয়ারের ফলে ভেঙে পড়ল আহিরীটোলা ঘাটের জেটি। হুগলি নদীতে জোয়ারের সময় স্বাভাবিক ভাবে জলের যে উচ্চতা থাকে, রবিবার সেই উচ্চতা তার চেয়ে আড়াই মিটার বেশি ছিল। এই ঘটনায় বড়োসড়ো দুর্ঘটনা না ঘটলেও এক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।

রবিবার সকাল ১১.৪০ নাগাদ জোয়ার আসে। জোয়ারের জলের ধাক্কা এত তীব্র ছিল যে আহিরীটোলার জেটিটি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। এর ফলে বন্ধ করে দেওয়া হয় লঞ্চ চলাচল। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন স্থানীয় কাউন্সিলার বিজয় উপাধ্যায়। খবর দেওয়া হয় ভূতল পরিবহণ দফতরকে।

আরও পড়ুন টানেল খোঁড়ার কাজের জেরে ভেঙে পড়ল বউবাজারের একাধিক বাড়ি

কাউন্সিলার বিজয় উপাধ্যায় বলেন, ১১.৪০ নাগাদ গঙ্গায় বান আসে। জলের অভিঘাত এত তীব্র ছিল যে জেটিটি পুরো ভেঙে পড়ে। যে সময় এই বান আসে সে সময় ওই জেটিতে ১৫-১৬ জন লোক ছিল। জেটিঘাটের কর্তব্যরত কর্মীরা তাঁদের সতর্ক করে দেন। তাঁরা সবাই নিরাপদ স্থানে চলে যান। কিন্তু দু’ জন জলের ধাক্কায় পড়ে যান। এঁদের মধ্যে এক জন ওখানকার কর্মী এবং আরও এক জন স্থানীয় মানুষ। এঁদের মধ্যে দ্বিতীয় জনের শারীরিক কোনো ক্ষতি না হলে, জেটিকর্মীর পা ভেঙে যায়। আহত ব্যক্তির নাম রাজা সাহা। তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

জেটিটি মেরামত করতে হলে ক্রেনের সাহায্যে এটিকে সরিয়ে নিয়ে যেতে হবে। তার পরে সংযোগস্থলে মেরামতি চালাতে হবে। রাজ্যের মন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক শশী পাঁজা বলেন, এই জেটিটি পরিচালনার দায়িত্ব এক মহিলা সংস্থার। জেটিটি যাতে দ্রুত মেরামত করা হয়, তার জন্য তিনি ওই সংস্থাকে বলবেন বলে জানান।

এই জেটিটি আগেও জোয়ারের ধাক্কা সামলেছে। তাতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহিরীটোলা ঘাটে এটি সারানো হয়। কিন্তু রবিবারের জোয়ারের ধাক্কা সামলাতে পারল না এই জেটি। বিশেষজ্ঞদের মতে, জোয়ারের উচ্চতা স্বাভাবিকের থেকে অনেক বেশি থাকায় এই বিপত্তি ঘটেছে। আবহাওয়াবিদ সুজীব কর বলেন, গঙ্গাবক্ষে যে ধরনের জোয়ার আসে, তার চেয়ে আরও অন্তত আড়াই মিটার বেশি উচ্চতার জোয়ার এসেছিল এ দিন।

কিন্তু কেন এই অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ার এল গঙ্গায়?

আবহাওয়া বিজ্ঞানীদের মতে, শনিবার রাতে মায়ানমার অঞ্চলে একটি ভূমিকম্প হয়। ভূমিকম্পটি সংঘটিত হয় ইন্দো-অস্ট্রেলিয়ান প্লেট এবং মায়ামমার প্লেটের অধঃপাত অঞ্চলে। যার ফলে এই চ্যুতি রেখা বরাবর সক্রিয় ভূমিকম্পের তরঙ্গ সঞ্চালিত হয় বঙ্গোপসাগরে। এবং তার ফলেই জোয়ারের সময় একটি শক্তিশালী বান চলে আসে গঙ্গায়। পাশাপাশি উপকূলবর্তী অঞ্চলেও জোয়ারের উচ্চতা বেশ বৃদ্ধি পায়। যার ফলে দিঘা, শংকরপুর, মন্দারমণিতে জোয়ারের জলের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে ৪ মিটার উপরে ওঠে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here