St Joseph's College

নিজস্ব প্রতিবেদন: ফুটপাথ জুড়ে ছাদহীন মানুষের বসবাস। সঙ্গে রয়েছে পথচলতি মানুষের চাহিদা মেটানোর ডালি নিয়ে অসংখ্য গুমটি দোকান। রাস্তার দু’ পাশে ২৪ ঘণ্টা সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে ব্যক্তিগত গাড়ি থেকে শুরু করে পণ্যবাহী যান। ফলে বউবাজার অঞ্চলের যদুনাথ দে রোড এবং পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলিতে স্কুল শুরু আর ছুটির সময় সাংঘাতিক যানজট নিত্য দিনের ঘটনা। আর এই যানজটে বিপন্ন হতে পারে পড়ুয়ারাও।

এক দিকে বিপিনবিহারী গাঙ্গুলি স্ট্রিট, তারই প্রায় সমান্তরাল ভাবে যদুনাথ দে রোড মিশেছে চিত্তরঞ্জন অ্যাভিনিউতে। এই এক ফালি এলাকায় রয়েছে কলকাতার তিনটি শতাব্দী প্রাচীন স্কুল। বউবাজার লোরেটো, সেন্ট জর্জেস স্কুল এবং সেন্ট জোসেফস কলেজ (আদতে প্রথম থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত)। স্বাভাবিক ভাবেই দিনের নির্দিষ্ট সময়ে কয়েক হাজার পড়ুয়া এবং তাদের অভিভাবকদের বিচরণে গোটা এলাকাকেই গ্রাস করে নেয় তীব্র যানজট। যা নিয়ে রীতিমতো নাভিশ্বাস ওঠে পথচারী থেকে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দা এবং ব্যবসায়ীদের, এবং ওই তিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পড়ুয়াদেরও।

তিনটি স্কুলের মধ্যে সেন্ট জোসেফের মূল প্রবেশপথ যদুনাথ দে রোডের উপর। যে কারণে এই রাস্তার ট্র্যাফিকের সমস্যা সব থেকে বেশি। একে তো দখল হয়ে যাওয়া ফুটপাথে হাঁটার কোনো উপায় নেই, তার উপর দু’ ধারেই পার্কিং থাকায় মাঝের সামান্য মাত্র অংশও সরু নালার মতো হয়ে যায়। এই পরিস্থিতিতে স্কুল শুরু বা ছুটির সময় কিছু অভিভাবকও বেহিসাবি হয়ে যান। ফলে পুরো রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বলে জানালেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

স্থানীয় বাসিন্দা ধীরাজ কুমার বলেন, ছুটির সময় পড়ুয়াদের নিতে আসা পুলকার এবং কিছু অভিভাবকের ব্যক্তিগত বাইক-গাড়ি অনিয়ন্ত্রিত ভাবে একাধিক লাইন করে রাস্তা দখল করে নেয়। সকাল আটটা থেকে রাস্তা একমুখী হয়ে গেলেও বড়ো পণ্যবাহী গাড়িগুলি চলতে থাকে বহাল তবিয়তেই। ফলে ছো‌টোখাটো দুর্ঘটনা এবং বিতণ্ডা প্রায়শই লেগে থাকে। এর থেকে যে ভবিষ্যতে বড়োসড়ো কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যাবে না, তারও কোনো নিশ্চয়তা নেই। কোনো ব্যবস্থা নিয়েছে কি সেন্ট জোসেফ কলেজ কর্তৃপক্ষ?

স্কুলে ঢোকা-বেরোনোর সময় পড়ুয়াদের সঠিক ভাবে নিয়ন্ত্রণের জন্য নিরাপত্তাকর্মী থেকে শিক্ষকরাও উদ্যোগ নেন নিয়মিত। এমনকি স্কুলের প্রিন্সিপালকেও দুর্ঘটনা এড়াতে প্রতি দিন কার্যত রাস্তায় নেমে রাস্তার ট্র্যাফিক সামলানোর চেষ্টা করতে দেখা যায়। তাঁকে সাহায্য করেন স্কুলেরই সিনিয়র ছাত্ররা। অভিযোগ, এ ব্যাপারে তিনি প্রশাসনিক দফতরে চিঠিপত্র লিখেও কোনো সুফল পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ জানান, “আমরা চাই পড়ুয়া বা পথচারীরা নিরাপদে তাঁদের গন্তব্যে পৌঁছোন। আমরা সামনের রাস্তা যানজটমুক্ত রাখতে সব রকমের চেষ্টা চালাচ্ছি। সংবাদ মাধ্যমের কাছে অনুরোধ করব, এ ব্যাপারে তারাও যেন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়”। কী বলছে ট্রাফিক বিভাগ?

বউবাজার থানার নিয়ন্ত্রণাধীন এই এলাকা হেড কোয়ার্টার ট্রাফিক গার্ড থেকেও খুব একটা দূরে নয়। যানজট এড়াতে ট্রাফিকের তরফেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাস্তাটিতে গাড়ি চলাচল উভমুখী হলেও সকাল আটটার পর থেকে একমুখী করে দিয়েছে ট্রাফিক বিভাগ। কিন্তু আটটা থেকে স্কুল শুরু হওয়ায় তার কোনো বিশেষ সুবিধে পড়ুয়ারা পায় না। তবে সেন্ট্রাল অ্যাভিনিউয়ের উপর অবস্থিত যোগাযোগ ভবনের দিকে যদুনাথ দে রোডের মুখে সর্বক্ষণের জন্য কর্মী নিয়োগ করে ট্রাফিক বিভাগ। এমনকি ছুটিরও সময়েও স্কুলগেটের সামনে এক জন হোমগার্ড পাঠানো হয় নিয়মিত।

স্কুল কর্তৃপক্ষ, অভিভাবক মায় স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, এই গাড়ির পাহাড় সামাল দিতে তা পর্যাপ্ত নয়। এ ব্যাপারে কর্তব্যরত ট্রাফিক কর্মী জানান, আগে এক জন ট্রাফিক সার্জেন্ট আসতেন। কিন্তু এক শ্রেণির অভিভাবকের বেহিসাবি মনোভাব ঠিক না হলে পরিস্থিতি বদলাবে না।

অবশ্য কয়েক জন অভিভাবক দাবি করেন, সকাল ৮টার পরিবর্তে সকাল ৭টা থেকে রাস্তাটিকে একমুখী করতে হবে। পাশাপাশি তাঁরা কলকাতা পুরসভার প্রতি অভিযোগ তুলে বলেন, গোটা রাস্তাটাই সাধারণের পার্কিংয়ের জন্য বিক্রি হয়ে গিয়েছে। অভিভাবকরা নিজেদের গাড়ি রাখবেন কোথায়? পাশাপাশি স্কুল শুরু এবং ছুটির সময় পণ্যবাহী গাড়ির চলাচল নিয়ন্ত্রণ করার ব্যাপারেও তাঁরা দাবি তুললেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here