২০০৫-২০১৫ সাল পর্যন্ত বামেদের দখলে ছিল কলকাতা পুরসভার ৬৪ নম্বর ওয়ার্ড। ২০১৫ সালে হাতবদল হয়ে চলে যায় তৃণমূলের দখলে। এ বারের পুরভোটে সেই ওয়ার্ড পুনরুদ্ধারে বামেরা প্রার্থী করেছে সিপিআই-এর মহম্মদ আজম জাভেদকে।

উল্লেখযোগ্য ভাবে এ বারের পুরভোটে তৃণমূল প্রার্থী শাম্মি জাহান এই ওয়ার্ডের জনপ্রতির দায়িত্ব সামলেছিলেন ১৯৯৫-২০০৫ পর্যন্ত। তাঁর পরে এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হন বামফ্রন্টের ফরজানা চৌধুরি। ২০১৫ সালে ইকবাল অহমেদকে প্রার্থী করে তৃণমূল। তিনিই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হন। অর্থাৎ, ২০০০ সালে শেষবার এই ওয়ার্ড থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার প্রায় দু’দশক বাদে ফের ভোটযুদ্ধে নেমেছেন শাম্মি জাহান।

প্রচারে বেরিয়ে ঘরে ঘরে জনসংযোগ সারছেন বামপ্রার্থী। বলেন, এখানকার সবচেয়ে বড়ো সমস্যা জল নিয়ে। বিশেষ করে বস্তি এলাকার মানুষ জলের সমস্যায় জর্জরিত। একই সঙ্গে রয়েছে নিকাশি সমস্যা। একটু বৃষ্টি হলেও বিস্তীর্ণ এলাকা জলের নীচে চলে যায়। পুরসভায় খবর দেওয়া হলেও নিকাশি নিয়ে পর্যাপ্ত ব্যবস্থা নেওয়া হয় না।

এক সময় এই ওয়ার্ড ছিল বামেদের দখলেই। এ বারের ভোটে স্বভাবতই পুনরুদ্ধারে মরিয়া সিপিআই প্রার্থী। জানান, “আমাদের সঙ্গে নতুন প্রজন্মের সমর্থন রয়েছে। আমার জন্ম এই ওয়ার্ডে। সকলের সঙ্গে আমার যোগাযোগ। সবাই আমাকে ভালোবাসে। জিতে এসে আমার প্রথম কাজ হবে, জল, নিকাশি সমস্যার সমাধান। এ ছাড়া পার্কগুলোর উন্নতি করা”।

এ বারের তৃণমূল প্রার্থী শাম্মি জাহান ইতিমধ্যেই দু’বার এখান থেকেই জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছিলেন। তার উপর রয়েছে শাসকদলের বর্তমান শক্তিশালী সংগঠন। ফলে বিরোধীদের লড়াই যে বেশ কঠিন, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। তৃণমূল প্রার্থী তথা প্রাক্তন কাউন্সিলার বলেন, তিনি যখন এই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ছিলেন, তখন ক্ষমতায় ছিল বামফ্রন্ট সরকার।

তাঁর কথায়, “বামেদের আমলে এলাকায় কাজ করতে দেওয়া হয়নি। কিন্তু তৃণমূল সরকারের আমলে অনেক উন্নয়ন হয়েছে। বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে, তবে আগামী দিনে তা মিটে যাবে”। নিজের প্রচারে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের বার্তা নিয়ে মানুষের দুয়ারে যাচ্ছেন তিনি।

উল্লেখ্য, ৬৪টি নম্বর ওয়ার্ডটি পার্ক স্ট্রিট (মল্লিক বাজার), পার্ক সার্কাস এবং মধ্য কলকাতার বেকবাগানের কিছু অংশ নিয়ে গঠিত। ওয়ার্ডের উত্তরে পার্ক স্ট্রিট, সোহরাওয়ার্দি অ্যাভিনিউ এবং গোরাচাঁদ রোড, পূর্বে ব্রাইট স্ট্রিট এবং তিলজলা রোড, দক্ষিণে সার্কাস অ্যাভিনিউ, বেকবাগান রো, শামসুল হুদা রোড এবং ড. বীরেশ গুহ স্ট্রিট এবং পশ্চিমে আচার্য জগদীশ বোস রোড এবং ডক্টর সুন্দরী মোহন অ্যাভিনিউ।

কেমন ছিল ২০১৫-র ফলাফল

ইকবাল অহমেদ (তৃণমূল)- ১২৩৮৩টি ভোট

ফরজানা চৌধুরি (সিপিআই)- ৭৯৯১ টি ভোট

মহিনুল ইসলাম (বিজেপি)- ৭৫৬টি ভোট

তনভীর ইকবাল (কংগ্রেস)- ৭০৭টি ভোট

আরও পড়তে পারেন: এ বারেই বিধায়ক, ১৩১ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটযুদ্ধে নেমে আরও প্রত্যয়ী রত্না চট্টোপাধ্যায়

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন