red road carnival
রেড রোডে কার্নিভ্যাল। ছবি রাজীব বসু।

কলকাতা: গত রবিবার আগরার কাছে ফতেপুর সিকরিতে ঘুরছিলেন নিউজিল্যান্ডের দুই পর্যটক ফ্র্যাঙ্ক রুকমাউস এবং রব টেলর। তখনই তাঁদের গাইডের কাছে কলকাতার দুর্গাপুজো কার্নিভ্যালের কথা জানতে পারেন তাঁরা। সোমবারই তড়িঘড়ি বিমানের টিকিট কেটে কলকাতায় পৌঁছে যান দু’জনে। মঙ্গলবার কার্নিভ্যালের দেখে রীতিমতো উচ্ছ্বসিত তাঁরা।

রুকমাউস বলেন, “গত দু’সপ্তাহ ধরে ভারতে রয়েছি। মুম্বই, দিল্লি, জয়পুর, আগরা ঘোরা হয়েছে। কিন্তু কলকাতার এই কার্নিভ্যাল তুলনাহীন। এখন ভাবছি যদি কিছু দিন আগে কলকাতায় এসে দুর্গাপুজোটাই উপভোগ করতাম তা হলে কতটা ভালো লাগত আমাদের।”

মঙ্গলবার রেড রোডে কার্নিভ্যাল উপলক্ষ্যে হাজার হাজার বিদেশির জমায়েত হয়েছিল। এঁদের মধ্যে পর্যটক যেমন ছিলেন, তেমনই ছিলেন বিদেশি দূতাবাসের আধিকারিক, ছাত্রছাত্রী এবং গবেষকরা। গত তিন বছরের মধ্যে মঙ্গলবারের কার্নিভ্যালেই সব থেকে বেশি মানুষের জমায়েত হয়েছিল।

কার্নিভ্যালটি চেটেপুটে উপভোগ করেছেন জার্মান দম্পতি ক্রিস্টেল স্টাইগেনবার্গার এবং আর্মিন। ক্রিস্টেলের কথায়, “আমরা এ রকম জিনিস কোনো দিনও কোথাও দেখিনি। সারা বিশ্বে ঘুরে বেড়িয়েছি আমরা, কিন্তু এই জিনিস আমরা সারা জীবন মনে রেখে দেব।”

কেনিয়ার বাসিন্দা হলেও কলকাতায় পড়াশোনা করছেন ভিন্সেন্ট কিপলিমো। লাল পাঞ্জাবি পরে এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন তিনি। যা দেখেছেন সেটা কোনো দিনও ভুলবেন না বলে সাফ কথা তাঁর। তিনি বলেন, “অসাধারণ একটা জিনিস দেখলাম। বাড়িতে ভিডিও কল করে বাবা মাকেও দেখিয়েছি।”

ঠিক একই রকম উচ্ছ্বসিত অস্ত্রেলিয়ার মার্টিন স্মিথও। এ দিকে গবেষণার কাজের জন্য গত তিন মাস ভারতে রয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ন’জন। শুধুমাত্র এই কার্নিভ্যাল দেখার জন্যই কলকাতার থাকার দিন বাড়িয়ে দিয়েছিলেন তাঁরা। তাঁদের মধ্যেই সারা কেলি নামক এক গবেষক বলেন, “ঐতিহ্যবাহী নাচ, বাজনা দেখতে আমার দারুন লাগল। যে ভাবে এতগুলো দুর্গাপ্রতিমা লাইন দিয়ে গেল, সেটা দেখতে দারুণ লাগল। সব মিলিয়ে অসাধারণ একটা অভিজ্ঞতা।”

দুর্গাপুজোর এই কার্নিভ্যাল যে বিদেশিদের কাছে কলকাতাকে একটা নতুন জায়গায় নিয়ে চলে গেল সেটা বলাই বাহুল্য।

সৌজন্যে দ্য টাইমস অফ ইন্ডিয়া

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here