প্রতি দিন ২৭টি পথ-কুকুরকে মাংসভাত খাওয়ান পাড়ার ছেলে বিশু

0
পথ-কুকুরদের দেখভালের কাজে বিশু সাহা (বাঁ দিকে) ও তাঁর সঙ্গীরা।

কৃষ্ণ আজাদ

পাড়ার কুকুর খেতে না পাওয়ার যন্ত্রণা মানুষের খিদের যন্ত্রণার মতোই। খিদে পেলে সব কিছু শূন্য লাগে। বেলেঘাটা ফুলবাগানের বাসিন্দা ৪৮ বছরের বিশু সাহা প্রতি দিন ২৭টা কুকুরকে খেতে দেন।

Loading videos...

গত ৫ বছর ধরে বিস্কুট ছিল রোজকার দান। প্রতি দিন ৩০০ প্যাকেট বিস্কুট লাগত। এখন সেই সংখ্যা কমিয়েছেন কিছুটা। রোজ তবু ১০০ প্যাকেট বিস্কুট বিলোন।

লকডাউনের প্রথম পর্ব থেকে রোজ ২৭টি কুকুরকে মুরগির মাংস আর ভাত পরিবেশন করছেন। এ জন্য মাসিক খরচ প্রায় ২৫ হাজার টাকা।

বিশু সাহা পেশায় ব্যবসায়ী। দুই কন্যার পিতা। বিশু জানালেন, ব্যবসায় লাভের টাকা থেকে এই সেবামূলক কাজটি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী লকডাউন ঘোষণা করার পর আপামর দেশবাসীর সঙ্গে ঘোর বিপদে পড়েছিল পাড়ার কুকুররাও।

চলছে রান্না ও তার পরে খাবার বিতরণ।

বিস্কুট, ওষুধও

বিশু বললেন, আমি তো বরাবর পাড়ার কুকুরদের বিস্কুট দিতাম। এলাকার তিনটে পাড়ার পথ-কুকুরদের বিস্কুট দেওয়াটা আমার নৈমিত্তিক কাজ। এ ছাড়া কুকুরদের গায়ের পোকা হলে ওষুধও লাগিয়ে দিই। এ সব কাজে আমায় সহযোগিতা করে পাড়ার কিছু বন্ধু। পঞ্চানন মিত্র লেন, রাজা রাজেন্দ্রনাথ মিত্র রোড, কে জি সরণি – এই তিন এলাকায় পাড়ার কুকুরদের খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করেন বিশু।

প্রতি দিন বালতিতে মুরগির মাংস আর ভাত মেখে নিয়ে কুকুরদের পাত পেড়ে খাওয়ান বিশু এবং তাঁর সঙ্গীরা।

বিশু জানালেন, কুকুরদের জন্য মাংস আর ভাত রান্না করেন তাঁর সঙ্গীরা। সঙ্গী বলতে চার জন। সকলেই পাড়ার ছেলে।

বিশু বরাবরই কুকুর ভালোবাসেন। নিজের পোষ্য কুকুর ব্রজ বছর কয়েক আগে মারা যাওয়ার পর মনমরা লাগছিল। এর পর প্রিয়জনের শোক ভুলতে মানুষ যেমন মানুষের কাছ থেকে সান্ত্বনা পায় বিশুও তেমন পথ-কুকুরদের সেবা করে সান্ত্বনা লাভ করছেন।

প্রতি দিন ৪ কিলো মুরগির মাংস এবং ৫ কিলো চাল

বিশু জানালেন, প্রতি দিন ৪ কিলো মুরগির মাংস এবং ৫ কিলো চাল লাগে ২৭টি পথ-কুকুরকে খাওয়াতে। খবরের কাগজে পেতে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে পরিবেশন করা হয় মুরগির মাংস এবং ঝোলমাখা ভাত।

করোনা-পরিস্থিতিতে গরিব মানুষের পাশাপাশি হাজার হাজার পথ-কুকুর বিপদে পড়েছিল। বিশু সাধ্যমতো সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। পাড়ার ছেলে হিসেবে বিপদের দিনে পাড়ার কুকুরের পালের খিদে মিটিয়ে এক রকম দৃষ্টান্ত গড়েছেন বলা যায়।

কেন এই প্রীতি পথ-কুকুরদের প্রতি? বিশু বললেন, মানুষ বেইমানি করে। কিন্তু কুকুর কখনও বেইমানি করে না। এবং কুকুরের মতো প্রভুভক্ত স্বভাব মানুষে প্রায় মেলেই না।

আরও পড়ুন: রাতভর রেকর্ড বৃষ্টিতে ভাসছে কলকাতা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.