যাদবপুর: কলা বিভাগে রেকর্ড ভোটে জয়ী এসএফআই, বিজ্ঞান ও ইঞ্জিনিয়ারিং-এ যারা ছিল তারাই

0
jadavpur university
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। ছবি সৌজন্যে ডিএনএ ইন্ডিয়া।

কলকাতা: এ বছরই প্রথম যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্বাচনে লড়ল অখিল ভারতীয় বিদ্যার্থী পরিষদ (এবিভিপি)।গোড়ার দিকে মনে হয়েছিল নির্বাচনে এসএফআইয়ের সঙ্গে টক্কর দিচ্ছে এবিভিপি। কিন্তু গণনা শেষে দেখা গেল, অবস্থা অপরিবর্তিত। যার দখলে যে বিভাগ ছিল, তার দখলে তা-ই থাকল। ইঞ্জিনিয়ারিং-এ কিছু ভোট জোগাড় করতে পারলেও, বিজ্ঞান আর আর্টস-এ তেমন কিছু পারেনি এবিভিপি। রেকর্ড ভোট পেয়ে কলা বিভাগ দখলে রাখল সিপিএম-এর ছাত্র সংগঠন এসএফআই।  

তিন বছর পর ভোট হল যাদবপুরে। বুধবার ভোট নেওয়া হয়। বৃহস্পতিবার ফল জানা যায়।

সবার আগে বিজ্ঞান বিভাগের গণনা শেষ হয়। ৩৯ জন শ্রেণি প্রতিনিধির মধ্যে ভোট হয় মাত্র ৮টিতে। বাকি ৩১টিতে বিনা লড়াইয়ে জিতে যায় উই দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট (ডব্লিউটিআই) প্রার্থীরা। যে ৮টিতে ভোট হয়, তাতেও জেতে ডব্লিউটিআই। ফলে ছাত্র সংসদ ডব্লিউটিআই-এর দখলেই থাকে।

বিজ্ঞান বিভাগে কেন্দ্রীয় প্যানেলের ভোটেও ডব্লিউটিআই-এর জয়জয়কার। তারা পেয়েছে ১০১৩টি ভোট। এই বিভাগে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ভোট পেয়েছে এসএফআই, ২১৬। তৃতীয় স্থানে এসইউসি-র ছাত্র সংগঠন ডিএসও-এর প্রাপ্ত ভোট ৩০। সব চেয়ে করুণ অবস্থা তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (টিএমসিপি)। তারা পেয়েছে মাত্র ৮টি ভোট।

বিজ্ঞান বিভাগে সাধারণ সম্পাদক পদে ডব্লিউটিআই পেয়েছে ১০০১ ভোট। এসএফআই ২৩১, ডিএসও ৩০, টিএমসিপি ১০। সহকারী সাধারণ সম্পাদক পদে ডব্লিউটিআই পেয়েছে ৯০৬টি ভোট। এসএফআই ২০৬। সান্ধ্য বিভাগের সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে ডব্লিউটিআই পেয়েছে ১১২টি ভোট। এসএফআই ৩৬। বিজ্ঞান বিভাগে এবিভিপি কোনো প্রার্থী দেয়নি।

আরও পড়ুন: মোদীকে ‘৫০ হাজার কোটি টাকা’র চিঠি মমতার

ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রতিটি আসনই জিতে নিয়েছে নকশালপন্থী ছাত্র সংগঠন ডিএসএফ। গত বারের মতো এ বারেও তারা ছাত্র সংসদ দখল করল। তবে এই বিভাগেই কিছু ভোট পেয়েছে এবিভিপি।  

ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের কেন্দ্রীয় প্যানেলে ডিএসএফ প্রার্থী পেয়েছেন ৩৩০৪ ভোট। দ্বিতীয় স্থানে এবিভিপি। তারা পেয়েছে ৫০৮টি ভোট। তৃতীয় স্থানে এসএফআই, পেয়েছে ২৮৮টি ভোট। চতুর্থ টিএমসিপি। তারা পেয়েছে ৭৭টি ভোট। সাধারণ সম্পাদক ডিএসএফ প্রার্থীর প্রাপ্ত ভোট ৩৩২০। এবিভিপি পেয়েছে ৫২৮, এসএফআই ২৬৫ এবং টিএমসিপি ৭৬।

আর কলা বিভাগে বিপুল ভাবে জয়ী হয়ে দখল ধরে রাখল এসএফআই। এই বিভাগের কেন্দ্রীয় প্যানেলের ভোটে এসএফআই পেয়েছে ২০৫৭ ভোট। ৮৭১ ভোট পেয়ে ডিএসএ রয়েছে দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে টিএমসিপি, প্রাপ্ত ভোট ১৫৩। ৯৬ ভোট পেয়ে এবিভিপি রয়েছে ষষ্ঠ স্থানে।  

কলা বিভাগে সাধারণ সম্পাদক পদে এসএফআই প্রার্থী পেয়েছেন ১৯৯৬টি ভোট। ৮৬৫টি ভোট পেয়েছে ডিএসএ। সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে এসএফআই পেয়েছে ১৭৭৯টি ভোট। ৮৫৪টি ভোট পেয়েছে ডিএসএ। ১০ বছর পর এত বড়ো ব্যবধানে জিতে কলা বিভাগে আধিপত্য কায়েম রাখল এসএফআই।

সব চেয়ে করুণ অবস্থা টিএমসিপির। যাদবপুরে টিএমসিপি ভোটে লড়লেও বরাবরই তারা দুর্বল। তবে এ বার তারা যে ভোট পেয়েছে, সেটা রাজ্যের শাসকদলের পক্ষে খুব একটা স্বস্তিদায়ক নয়।  

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.