মোটামুটি নির্বিঘ্ন মহাসপ্তমী, সন্ধের পর মহানগরী যেন স্বপ্নপুরী

0
suruchi sangha idol
সুরুচি সংঘের প্রতিমা। ছবি: রাজীব বসু।

ওয়েবডেস্ক: দেখতে দেখতে পেরিয়ে গেল মহাসপ্তমী। দুর্গাপূজা এখন মধ্যগগনে। কিন্তু গগন খুব একটা বিশ্বাসঘাতকতা করছে না। তাই মোটামুটি বাধাবিঘ্ন ছাড়াই আবালবৃদ্ধবনিতার ঠাকুর দেখা চলছে।

সপ্তমী শুরু হয় নবপত্রিকা স্নান দিয়ে। ভোর থেকেই গঙ্গার ঘাটে ঘাটে ভিড়। যাঁদের পক্ষে গঙ্গায় যাওয়া সম্ভব হয়নি, তাঁরা স্থানীয় পুকুর-ঝিলে নবপত্রিকা স্নান সমাপন করেন। মণ্ডপে বা বাড়িতে ফিরে এসে নবপত্রিকা স্থাপন এবং যথাবিহিত আচার আচরণ সম্পন্ন করে পূজা শুরু হয়।

ফুলের বাজারে ব্যস্ততা। ছবি: রাজীব বসু।

এ দিন সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বজ্রবিদ্যুৎ-সহ বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। পূর্বাভাস মতোই কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। তবে ঠাকুর দেখায় তেমন কোনো অসুবিধা হয়নি।

সর্বত্র কমবেশি বৃষ্টি হওয়ায় অথবা বৃষ্টি-বৃষ্টি ভাব থাকায় এক দিক ভালোই হয়েছে। মহাষষ্ঠীর তুলনায় এ দিন অস্বস্তিকর অবস্থা কিছুটা কম ছিল। মানুষকে গরমে খুব একটা ছটফট করতে দেখা যায়নি।

আরও পড়ুন: বিক্ষিপ্ত ঝড়বৃষ্টিতে কাটল মহাসপ্তমী, পুজোর বাকি দিন রাজ্য জুড়ে কেমন থাকবে আবহাওয়া?

মহানগরীতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সারা দিনই দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সন্ধের পর ভিড় একেবারে উপচে পড়ে। এ ক্ষেত্রে নামী, অনামী কোনো পূজামণ্ডপই বাদ যাচ্ছে না। বিভিন্ন ধরনের আলোকমালায় সজ্জিত মহানগরীকে যেন সন্ধের পর স্বপ্নপুরী মনে হচ্ছে।

এক টুকরো পুরুলিয়া

বাঘা যতীন মোড়ে সত্তর বছরের বিবেকানন্দ মিলন সংঘের পুজো কলকাতার বুকে এ বারে এক টুকরো পুরুলিয়া তুলে নিয়ে এসেছে। ছৌ নাচের মধ‍্যে দিয়ে দেখা যাচ্ছে মহিষাসুরমর্দিনী পালা, হচ্ছে ঝুমুর গান, পুতুলনাচ – সবে মিলে জমজমাট পুজো। মণ্ডপে ঢুকলেই পুরুলিয়ার গ্রামের একটা আশ্চর্য পরিমণ্ডল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। ছোট্টো আয়োজনের মধ্যে একটু অন্য রকম ছোঁয়া।

শহিদনগরে পঞ্চদুর্গা

শহিদনগরে পঞ্চদুর্গা। ছবি: রাজীব বসু

ঢাকুরিয়া শহিদনগর সর্বজনীনে এ বার পূজিত হচ্ছেন পঞ্চদুর্গা। সকাল থেকেই স্থানীয় মানুষজনের ভিড়। যাদবপুর থাকা থেকে পূর্ব দিকে গেলে জীবনানন্দ সেতু পেরোলেই সেলিমপুর। তার পরেই শহিদনগর। ডান দিকে ঘুরলেই বড়ো মাঠে শহিদনগর সর্বজনীনের পূজামণ্ডপ।

মেট্রোয় ভিড়

যানবাহনের মধ্যে ভিড়ের চাপ সব বেশি সহ্য করতে হচ্ছে মেট্রোকে। কলকাতার নামীদামি পূজাগুলি মেট্রো স্টেশন থেকে খুব একটা দূরে নয়। উত্তরের বিখ্যাত পুজোগুলির সঙ্গে দক্ষিণের বিখ্যাত পুজোগুলির যোগাযোগ সব চেয়ে সহজ হয়েছে মেট্রোর দৌলতে। তা ছাড়া যানজট এবং সময়, এ দু’টোও বড়ো ফ্যাক্টর। তাই রাস্তার ভিড় এড়িয়ে সব চেয়ে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার সব চেয়ে ভালো মাধ্যম মেট্রো। তাই মানুষ এই পরিবহণ ব্যবস্থাটিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। পুজা উপলক্ষ্যে মেট্রো চলাচলের সময়সীমাও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here