খবর অনলাইন ডেস্ক: কলকাতা পুলিশের সহযোগিতায় সমাজের কিছু পিছিয়ে পড়া শিশুর জন্য একে বারে তাদের বাড়ির দোরগোড়ায় ডিজিটাল শিক্ষার উপকরণ পৌঁছে দিচ্ছে ‘আই অ্যাম কলকাতা’। মার্লিন গ্রুপের (Merlin Group) একটি সমাজসৃজন (CSR) উদ্যোগ এই ‘আই অ্যাম কলকাতা’ (I Am Kolkata)। এই উদ্যোগের নামকরণ করা হয়েছে, “পড়াশোনা দাঁড়াবে না”।

দারিদ্র্যসীমার নীচে থাকা পরিবারের স্কুল পড়ুয়াদের ডিজিটাল ডিভাইস দিয়ে তাদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার উৎসাহ দেবে এই উদ্যোগ। ক্রাই (CRY) এবং এয়ারটেল (Airtel)-ও যুক্ত হয়েছে এই উদ্যোগে।

মঙ্গলবার একটি প্রতীকি অনুষ্ঠানে ‘আই অ্যাম কলকাতা’-র প্রতিষ্ঠাতা এবং মার্লিন গ্রুপের এমডি সাকেত মোহতা ৫০টি স্মার্ট ফোন উপহার দিলেন কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার, বিশেষ টাস্কফোর্স অপরাজিতা রাইয়ের উপস্থিতিতে। এই স্মার্ট ফোনগুলি অনলাইন ক্লাসের জন্য সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের হাতে পৌঁছে যাবে।

এই উদ্যোগের কথা বলতে গিয়ে সাকেত মোহতা বলেন, “কলকাতা পুলিশের মাধ্যমে ডিজিট্যাল শিক্ষার এই উদ্যোগ শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। সকলের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষার প্রসারের দিকে আরেকটি পদক্ষেপ, যা আমরা মহৎ উদ্যোগে যোগদান করতে পেরে নিজেদের সৌভাগ্যবান মনে করি। আমরা আশা করি আমাদের অবদান কম সুবিধাপ্রাপ্ত শিশুদের কোনো রকমের বাধা ছাড়াই তাদের পড়াশোনা করতে অনুপ্রাণিত করবে। এটি শিক্ষার প্রাথমিক পর্যায়ে ড্রপ আউটের মোট সংখ্যা কমিয়ে আনবে। কোভিড অতিমারি সকলের জন্য ডিজিট্যাল শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা তৈরি করেছে এবং এই পদক্ষেপটি আমার মতে সঠিক। আমি কলকাতায় বিভিন্ন কল্যাণমূলক উদ্যোগের মাধ্যমে অর্থপূর্ণ উপায়ে আমাদের সমাজে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ”।

উদ্যোক্তারা জানান, প্রযুক্তিগত অক্ষমতার কারণে প্রায় ৪০ শতাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পড়ুয়ারা অতিমারি চলাকালীন অনলাইনে ক্লাস করতে পারেনি, নোবেল বিজয়ী অমর্ত্য সেনের প্রতীচী (ইন্ডিয়া) ট্রাস্টের প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে এর উল্লেখ আছে। এই গবেষণাটি কলকাতার ২১টি রাজ্য সরকার পরিচালিত প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শত শত শিক্ষকের দেওয়া অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে তৈরি হয়েছে। হয় এই ৪০ শতাংশ পড়ুয়ার একটি ডিজিট্যাল ডিভাইস নেই, অথবা তাদের কাছে পর্যাপ্ত ইন্টারনেট সংযোগ নেই, অথবা দু’টোই নেই। সব মিলিয়ে উচ্চ বিদ্যালয়ের পড়ুয়াদের জন্য অভিজ্ঞতা ভিন্ন হবে এমন ভাবার কোনো কারণ নেই। যার ফলে দরিদ্র এবং যাদের কাছে ডিজিট্যাল ডিভাইস নেই, অনলাইন ক্লাসের জন্য তাদের সমস্যায় পড়তে হবে।

কলকাতা পুলিশের কর্মকর্তারা বুঝতে পেরেছেন যে অনেক এ ব্যাপারে কলকাতা পুলিশের তরফেও বিশেষ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যার লক্ষ্য শিশুদের শিক্ষা এবং অন্যান্য সহযোগী পাঠ্যক্রমিক কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে অনলাইন শিক্ষা তাদের দোরগোড়ায় নিয়ে আসা। আশাপ্রকাশ করা হয়েছে, ই-লার্নিংয়ের একটি বিশাল সম্ভাবনা রয়েছে এবং এটি নতুন উদীয়মান বিশ্বের জন্য একটি নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করবে।

খবর অনলাইন-এর আজকের আরও কিছু উল্লেখযোগ্য খবর পড়তে পারেন এখানে:

বদলির প্রতিবাদে আত্মহত্যার চেষ্টা করা ৫ শিক্ষিকার বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু

নিরাপত্তা সুনিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত বাড়িতেই থাকুন মহিলারা, এটা তালিবানের স্রেফ ‘পরামর্শ’ না কি ‘ফতোয়া!’

তালিবানের কাজ দেখে তবেই স্বীকৃতি, একমত ভারত-রাশিয়া

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন