শ্রীভূমিতে ঠাকুর দেখার ভিড়, পঞ্চমীর সন্ধ্যায়।

কলকাতা: পুজোর দিনগুলোয় মহানগরীর সেই চেনা ছবিটা তিন বছর পরে ফিরে এল। বরং বলা যায়, শহর যেন বাঁধনছাড়া। দু’ বছরের বন্দিদশা কাটিয়ে মানুষ বেরিয়ে পড়েছে পথে। আর তর সইছে না। পঞ্জিকামতে পুজো শুরু হওয়ার আগেই মণ্ডপে উপচে পড়ছে ভিড়। করোনার ভয় কাটিয়ে ফের চেনা ছন্দে ফিরল দুর্গাপুজো।

২০২০-তে করোনাভাইরাস ছিল অচেনা এক শত্রু। একটা ভয়ভীতি লোকের মধ্যে কাজ করেছিল। যার ফলে বেশির ভাগ মানুষই ঘর থেকে বের হননি। আর ২০২১-এ সেই শত্রু অনেকটাই চেনা হয়ে গিয়েছিল। ঠাকুর দেখার জন্য ঘরের বাইরে পা রাখা মানুষের সংখ্যা নিঃসন্দেহে বেড়েছিল, তবে খুব বেশি নয়। আর এ বার একেবারেই সেই পুরোনো ছবি।

তখনও সন্ধে নামেনি। পুজোমণ্ডপের কাছে রাস্তায় ভিড়।

কোভিড-পূর্ববর্তী বছরগুলোতে তৃতীয়ার দিন থেকেই যে লাগামছাড়া ভিড় দেখা যেত, এ বারও সে রকমটি দেখা যাচ্ছিল। পঞ্চমীর রাতে তা একেবারে চূড়ান্ত রূপ নিল। টালা থেকে টালিগঞ্জ, সর্বত্র এক ছবি। মানুষে মানুষে ছয়লাপ শহরের রাস্তা। ভালো বিক্রি হয়েছে খাবারের স্টলগুলিতে।

উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতা শহরের পূজামণ্ডপ দেখতে হলে এবং প্রতিমা দর্শন করতে হলে কোনো রকম সুরক্ষাবিধি মানতে হচ্ছে না। মণ্ডপে প্রবেশ করা যাচ্ছে অবাধে। কোনো মণ্ডপেই স্বেচ্ছাসেবকদের মাস্ক আর স্যানিটাইজার হাতে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়নি। থার্মাল স্ক্রিনিং-এরও ব্যবস্থা কোথাও রাখা হয়নি। আর মাস্ক পরা দর্শনার্থী? হয়তো হাজারে একটার দেখা মিলেছে।

দেশপ্রিয় পার্কের প্রতিমা।

অন্যান্য বছর কলকাতার পূজামণ্ডপগুলির উদ্বোধন শুরু হয় মহালয়ার পরদিন প্রতিপদ থেকে। এ বার মহালয়ার দু’-তিন দিন থেকে আগে থেকেই পূজামণ্ডপের উদ্বোধন শুরু হয়। এই উদ্বোধন চলেছে চতুর্থী পর্যন্ত। স্বাভাবিক ভাবেই এ ব্যাপারে সব চেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

গত বছরেই থিম ফিরে এসেছিল কলকাতায়। কিন্তু চার দিক খোলা মণ্ডপ তৈরি করার নির্দেশ থাকায় বেশির ভাগ সর্বজনীন পুজো থিমে যেতে পারেনি। কিন্তু এ বার আর মণ্ডপ নিয়ে কোনো নির্দেশ নেই। ফলে এ বছর থিমের জোয়ার এসেছে। এ বারের দুর্গাপূজায় নানা ধরনের থিম দেখা যাচ্ছে।

তেলেঙ্গাবাগান।

যত দূর খবর পাওয়া গিয়েছে, এ বার আর কোনো পুজোই কোভিড সম্পর্কিত থিম করেনি। প্রত্যেক বছর যারা থিমে চমক দেয় সেই তেলেঙ্গাবাগান গত বার করেছিল ‘অক্সিজেন প্ল্যান্ট’। এ বার তাদের থিম বৌদ্ধদের ‘তোরমা’। ‘তোরমা’ হল বৌদ্ধদের পুজোর নৈবেদ্য, এক বৌদ্ধিক ধর্মীয় উপাচার। বিভিন্ন আকারের ‘তোরমা’ দিয়ে সেজে উঠেছে তেলেঙ্গাবাগানের মণ্ডপ।

দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় পুজো বাবুবাগান। গত বছর তারা দেশের স্বাধীনতায় ছিল, এ বছরেও কার্যত সেখানেই আছে। এ বার তাদের পুজোর থিম ‘মা তুঝে সেলাম’। এ বারের থিমে এক অর্থে মা এখানে যেমন মা দুর্গা তেমনই দেশমাতৃকাও। দু’জনকেই বন্দনা করা হয়েছে।

বাবুবাগানের প্রতিমা।

কিন্তু চমক লুকিয়ে আছে অন্য জায়গায়। এ বছর দেশের স্বাধীনতার ৭৫ বর্ষ পূর্তি হচ্ছে। সেই উপলক্ষ্যে বাবুবাগানে তৈরি হয়েছে আস্ত ‘ইন্ডিয়ান কয়েন পার্ক’।  মণ্ডপে এক দিকে যেমন গান্ধীজি, নেতাজি, স্বামী বিবেকানন্দ, রবীন্দ্রনাথ, সন্ত টেরেজা, রাজেন্দ্রপ্রসাদের মতো ব্যক্তিত্বদের দেখা মিলবে তেমনই কয়েন পার্কের মিউজিয়ামে দেখা যাবে স্বাধীন ভারতের সব রকমের মুদ্রা।  

শোভাবাজার রাজবাড়িতে চলছে মায়ের সাজ।

রাত পোহালেই ষষ্ঠী। মা দুর্গার বোধন। তাই বনেদিবাড়ির পুজোয় শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি চলছে। বাড়ির মহিলারাও হাত লাগিয়েছেন মা-কে সাজানোর কাজে। কোনো কোনো বাড়িতে কাজ চলেছে রাতভর। নানা ভাবে সাজানো হচ্ছে মাকে। পরানো হচ্ছে মায়ের তুলে রাখা সব গয়না। পারিবারিক প্রথা মেনে জমিয়ে রাখা গয়নাগাটি ও আনুষঙ্গিক সাজ দিয়ে মা-কে সাজানো হচ্ছে।

ছবি: রাজীব বসু

আরও পড়তে পারেন

ধুনুচি নাচের কারণ কী, জানা আছে?

সন্ধিপুজোর কী মাহাত্ম্য? জেনে নিন

কুমারী পুজো করার কারণ কী? জানুন আসল তথ্য

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন