মাদ্রাসা চাকরিপ্রার্থীদের অনশন তুলে দিল পুলিশ

0
madrasa hungerstrike
মাদ্রাসা চাকরিপ্রার্থীদের অনশন। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব প্রতিনিধি: মাদ্রাসা দুর্নীতির অভিযোগে অনশনরত পড়ুয়াদের মেরে তুলে দিল পুলিশ। এই ঘটনায় তিন জনকে আটক করা হয়। পরে তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়। মারমুখী পুলিশের হাত থেকে বাঁচতে এ-দিক ও-দিক লুকিয়ে পড়েন অনশনরত চাকরিপ্রার্থীরা।

ধর্মতলায় এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের অনশনমঞ্চে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় হাজির হওয়ার দিনেই রাতে ঢিল ছোড়া দূরত্বে অনশনে বসেন মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চাকরিপ্রার্থীরা। মাদ্রাসা কমিশনের দুর্নীতি দূর করার পাশাপাশি চাকরির দাবি নিয়ে প্রায় দু’শো চাকরিপ্রার্থী অনশনে বসেন। বুধবার রাতে শুরু  হয় অনশন আন্দোলন। বৃহস্পতিবার সকালেই অনশনকারীদের সঙ্গে দেখা করতে আসেন মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান আবদুল রউফ। কিন্তু সমস্যার সমাধান হয়নি। ফলে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার দাবিতে অনড় থাকেন মাদ্রাসার চাকরিপ্রার্থীরা। মাদ্রাসা কমিশনের চেয়ারম্যান বলেন, অনশনকারীরা কমিশনের গেজেট ও শীর্ষ আদালতের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা করছেন। কলা ও বাণিজ্য শাখায় ২৮০০টি শূন্য পদ আছে। অনশনকারীদের দাবি, শূন্যপদগুলি অন্য বিষয়ে বদল করে তাঁদের চাকরি দিতে হবে, যেটা কোনো ভাবেই সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন প্রধান শিক্ষক নিয়োগের কাউন্সেলিংয়ে ফের স্থগিতাদেশ হাইকোর্টের

বৃহস্পতিবার বিকেলে এসএসসি চাকরিপ্রার্থীদের ২৯ দিন ধরে অনশন উঠে যাওয়ার পর থেকেই আশঙ্কা ছিল, মাদ্রাসা চাকরিপ্রার্থীদেরও তুলে দিতে পারে পুলিশ। কিন্তু ওই দিন রাতে কিছু না হলেও শুক্রবার ভোরে অনশনকারীরা যখন নিদ্রাচ্ছন্ন ছিলেন তখন প্রায় একশো জন পুলিশ অনশনমঞ্চে উপস্থিত হয়। এদের মধ্যে সাদা পোশাকে ছিল ৫০ পুলিশকর্মী। কিছু বুঝে ওঠার আগেই অনশনকারীদের ত্রিপল ছিঁড়ে দেওয়া হয়। মহিলা-পুরুষ নির্বিশেষে সকলকেই টেনে হিঁচড়ে বের করে দেওয়া হয়। অনশনকারীরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের ঘাড় ধাক্কা দেওয়া হয়। অনেকেই পড়ে গিয়ে চোট পান। আচমকাই এই ঘটনায় আন্দোলনকারীরা দিশাহারা হয়ে পড়েন। ভয়ে অনেকে এ-দিক ও-দিক আশ্রয় নেন।

জানা গিয়েছে, আটক তিন জনকে পুলিশ পরে ছেড়ে দিয়েছে। এই ঘটনার জেরে জখম হন ৫-৬ জন আন্দোলনকারী। পুলিশ দিয়ে অনশন তুলে দেওয়ার ঘটনার নিন্দা করে শুক্রবার বিকেলে এক সাংবাদিক বৈঠকে আন্দোলনকারীরা জানান, এর প্রতিবাদে আগামী বুধবার বিভিন্ন সংগঠনকে নিয়ে নবান্ন অভিযান করবেন তাঁরা। যদি প্রশাসনের পক্ষ থেকে নবান্ন অভিযানে বাধা দেওয়া হয় তবে তাঁরা নির্বাচন কমিশনের দ্বারস্থ হবেন।

আন্দোলনকারীদের প্রতিনিধি মিঠু শেখ বলেন, “আমাদের মূল দাবি, শূন্য পদের সর্ব শেষ তালিকা মাদ্রাসা সার্ভিস কমিশনকে প্রকাশ করতে হবে। কমিশনের ২০১৩ সালের গেজেট অনুযায়ী ৩১০০টি শূন্য পদে নিয়োগ করার কথা। ২০১৪ সালে পরীক্ষা হল। ফল প্রকাশ হয় ২০১৬-এর সেপ্টেম্বরে। শীর্ষ আদালতের রায় অনুযায়ী ১৪৮টি মাদ্রাসায় ২৬০০টি শূন্য পদে কমিশনকে শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। কিন্তু কমিশন সেই নির্দেশকে মান্যতা না দিয়ে প্রায় ২০০০ শূন্য পদে নিয়োগ করেছে।”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.