নিজস্ব সংবাদদাতা: সকালবেলার বিক্ষোভ সন্ধ্যা নামতেই ধারণ করল অন্য চেহারা। এমপি বিড়লা স্কুলে শিশুছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে প্রতিবাদে সরব হয়েছিলেন যে অভিভাবকেরা, ঘিরে রেখেছিলেন রাজপথ, তাঁদের উপরে লাঠিচার্জ করল পুলিশ।

পুলিশের অভিযোগ, অভিভাবকদের একাংশ শুধু বিক্ষোভ দেখিয়ে, রাজপথ অবরোধ করে-ই ক্ষান্ত থাকেননি। সন্ধ্যার দিকে তাঁরা দাঁড়িয়ে থাকা একটি স্কুলের বাস ভাঙচুর করার চেষ্টা করেন। ফলে বাধ্য হয়েই সেই রোষের আগুনে জল ঢালতে লাঠিচার্জ করতে হয় তাঁদের। ঘটনায় বেশ কিছু অভিভাবক আহত হয়েছেন বলে খবর পাওয়া গিয়েছে।

রবিবার থেকেই অভিভাবকদের বিক্ষোভ ঘিরে রেখেছিল রাজপথ। কার্যত অচল হয়ে গিয়েছিল জেমস লং সরণি। সোমবারও সেই ছবি রইল অব্যাহত। সকাল থেকেই দফায় দফায় অবরোধে রুদ্ধ হয়েছে সড়ক। পাশাপাশি, অভিভাবকদের এই বিক্ষোভ মিছিল থেকে জানিয়েছে এমপি বিড়লার এক পড়ুয়া – খোদ প্রিন্সিপাল শিশুছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনা বাইরে প্রকাশ করতে বারণ করেন।

mp birla

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ছাত্রের বিবৃতি, অনেক দিন আগে থেকেই প্রত্যেক শ্রেণিতে গিয়ে ঘটনার কথা স্কুলের বাইরে চাউর করতে নিষেধ করেন প্রিন্সিপাল। “আমাদের স্কুলের সুনাম এবং পড়াশোনার ক্ষতি হবে, এই যুক্তি দেখানো হয়েছিল। প্রিন্সিপাল বলে গিয়েছিলেন, এ কথা যেন কোনো ভাবেই বাইরে না যায়। সেটা উচিত নয়। আমরা স্বাভাবিক ভাবেই ভয় পেয়েছিলাম। নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেছিলাম ঘটনার কথা। তখন আমাদের এক টিচারও এ সব নিয়ে আলোচনা করতে বারণ করেন”, জানিয়েছে ওই পড়ুয়া।

এ ছাড়াও ওই ছাত্রের বিবৃতিতে উঠে এসেছে গণেশ ও মনোজ নামে স্কুলের দুই অশিক্ষক কর্মীর নাম। “গণেশ আর মনোজ, দু’ জনেরই ব্যবহার অত্যন্ত খারাপ। মনোজ বিশেষ করে মেয়েদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করে। তাদের খারাপ কথা বলে, কথায় কথায় বকাঝকা করে। এ-ও বলে, ওর কথা না শুনলে প্রিন্সিপালকে বলে শাস্তির ব্যবস্থা করবে”, বিস্ফোরক এই তথ্য কবুল করেছে ছাত্রটি।

সোমবার সকাল থেকেই দফায় দফায় বেহালার জেমস লং সরণি ঘিরে বিক্ষোভ চলছে অভিভাবকদের। পুলিশ এসে অনেক বোঝানোর পরে সাময়িক ভাবে পথ অবরোধ তুলে নেন তাঁরা। কিন্তু কিছুক্ষণের মধ্যেই শুরু হয় দ্বিতীয় দফার অবরোধ ও বিক্ষোভ। স্বাভাবিক ভাবেই ঘটনায় যানজটের মুখে পড়েছে বেহালা।

যদিও চাপের মুখে অবশেষে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। স্কুলের গেটের সামনে এসে, মাইক নিয়ে ঘোষণা করেন প্রিন্সিপাল, শিশুছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের ঘটনায় দুই অভিযুক্তর একজনকে সাসপেন্ড করা হয়েছে। এ দিকে সোমবার-ই ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করেছে পুলিশের তদন্তকারী দল।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here