hindu hostel
হিন্দু হস্টেল। নিজস্ব চিত্র।

কলকাতা: ঘোষিত সময়ের মধ্যে ছাত্রদের হিন্দু হস্টেল ফিরিয়ে দিতে পারল না প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এ ব্যাপারে আরও ১৫ দিন সময় চাওয়া হয়েছে।

“আমরা কোনো সময় বেঁধে দিইনি, সময় বেঁধেছে সরকার” – নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে হস্টেল ছাত্রদের হাতে তুলে দিতে না পেরে এ ভাবেই সরকারের ঘাড়ে দায় ঠেলে দিলেন উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া। আন্দোলনকারী ছাত্রদের তরফে সায়ন চক্রবর্তী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ছাত্রদের যে কী চোখে দেখে, এই ঘটনাই তার প্রমাণ।

প্রেসিডেন্সি বিশ্ববিদ্যালয়ে পূর্ত বিভাগের ইঞ্জিনিয়ার, ডেভেলপমেন্ট অফিসার, ডিন অফ স্টুডেন্টস, রেজিস্ট্রার এবং উপাচার্য বৃহস্পতিবার এক বৈঠকে বসেন। জানা গিয়েছে, হস্টেলের অধিকাংশ কাজ সম্পূর্ণ হয়ে গেলেও বসবাসের উপযোগী হওয়ার জন্য এখনও বহু খুঁটিনাটি কাজ বাকি। তা ছাড়া হস্টেলের অগ্নিসুরক্ষা ব্যবস্থা ও নিরাপত্তাজনিত শংসাপত্র এখনও মেলেনি। সব কাজ শেষ করতে আরও ১৫ দিন সময় লাগবে। আগামী ৩০ নভেম্বরের মধ্যে এই কাজ সম্পূর্ণ হয়ে যাবে বলে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আশাবাদী।

উপাচার্য অনুরাধা লোহিয়া বলেন, ১৫ নভেম্বরের মধ্যে হিন্দু হস্টেল ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি কোনো সময়সীমা দেননি। এই সময়সীমা সরকারের তরফে দেওয়া হয়েছিল। তিনি আগেই বলেছিলেন, জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির আগে হস্টেলের কাজ শেষ হবে না।

সংস্কারের কাজ চলবে বলে ২০১৬ সালের ১৫ জুলাই হিন্দু হস্টেল ফাঁকা করে দেওয়া হয়। শেষ পর্যন্ত ছাত্রদের অনশন ও আন্দোলনের জেরে সরকারের তরফে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, মানবিক ভাবে বিষয়টি দেখে ২০১৮-এর ১৫ নভেম্বরের মধ্যে সমস্ত কাজ শেষ করে হিন্দু হস্টেল পড়ুয়াদের হাতে তুলে দিতে হবে। ১৫ নভেম্বরের মধ্যে যে হস্টেল ফিরিয়ে দেওয়া হবে সে কথা ছাত্রদের লিখিত ভাবে জানিয়েছিল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।

জানা গিয়েছে, পূর্ত দফতর হস্টেল হাতে নেওয়ার আগে যে এজেন্সি কাজ করছিল, তারা বিল্ডিং ১-এর সমস্ত কাজ শেষ করেছে। খাওয়ার ঘর ও ছাত্রদের ক্যান্টিনের কাজ এখনও শেষ হয়নি। সুপার ও সহকারী সুপারের ঘরের কাজও বাকি আছে।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here