নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: ফুটবলের মক্কায় ফুটবলপ্রেমীরা যখন যুবভারতীমুখী, তখন যুব বিশ্বকাপের জন্য সল্টলেক এবং বাইপাস সংলগ্ন এলাকা থেকে উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দারা প্রতিবাদ জানাতে জমায়েত হয়েছিলেন শিয়ালদায়। স্টেডিয়াম মুখী হতে গিয়ে তারা বাধা পেলেন পুলিশের কাছে। ব্যারিকেড করে আন্দোলনকারীদের আটকে রেখে স্টেডিয়ামের দিকে যেতে দিল না পুলিশ।

শনিবার আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসেছিলেন বিধাননগর পুরসভার মেয়র সব্যসাচী দত্ত। উচ্ছেদ বিরোধী যুক্তমঞ্চের নেতা শক্তিমান ঘোষ জানালেন, ‘‘ মেয়র আমাদের অনুরোধ করেন খেলা যতদিন চলবে ততদিন কোনো আন্দোলন করবেন না। খেলা শেষ হয়ে গেলে ১ অক্টোবর বসে আলোচনা করব।’’ কিন্তু আন্দোলকারীদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ‘‘যতদিন না পুনর্বাসন মিলছে ততদিন আন্দোলনও চলবে আলোচনাও চলবে।’’

সেইমতো রবিবার কলকাতায় যুব বিশ্বকাপের প্রথম খেলার দিনই তারা মিছিল করে স্টেডিয়ামে গিয়ে বিক্ষোভ দেখানোর কর্মসূচি নিয়েছিলেন। পুলিশ শিয়ালদা বিগ বাজারে সামনেই ব্যারিকেড করে মিছিলকে আটকে রাখে।

এসএন বোস রোডের ধারে খাল পারের বাসিন্দা নমিতা মৃধা জানালেন, ‘‘আঠারো বছর ধরে আমরা ওখানে আছি। আধার কার্ড আছে। তাসত্ত্বেও আমাদের উচ্ছেদ করে দিল।’’ ফুটপাতের উপর খোলা আকাশ নিচে রাত কাটাচ্ছেন তারা। ‘‘বৃষ্টি পড়লে প্লাস্টিক মুড়ি দিয়ে বসে আছি’’ জানালেন জয়ন্তী মণ্ডল। তাঁর একটি ছেলে এবং একটি মেয়ে আছে। ছেলেটি স্কুল পড়ত। উচ্ছেদের সময় পুলিশ বই খাতা সব নিয়ে চলে গেছে। তাই বাচ্চার স্কুলে যাওয়া বন্ধ হয়ে গেছে বলে তিনি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুন : আদানির কয়লা খনি প্রকল্পের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ অস্ট্রেলিয়ায় 

শনিবার রাতেও পুলিশ এসে জিনিসপত্র ভাঙচুর করেছে, ‘অশ্রাব্য’ ভাষায় তাদের গালিগালাজ করে। যেখানে তারা এখন বসে রয়েছেন সেখান থেকেও সরে যেতে বলেছে পুলিশ, বলে অভিযোগ উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দাদের।

শক্তিমান ঘোষ জানালেন, এই উচ্ছেদের ফলে হকার-বাসিন্দা এবং তাদের পরিবার মিলিয়ে প্রায় ১লক্ষের বেশি মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।  পুনর্বাসনের দাবিতে আগামী দিনেও তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে জানিয়েছেন শক্তিমান ঘোষ।

উচ্ছেদ হওয়া বাসিন্দা রূপা দাস জানিয়েছেন,‘‘ জমি-জায়গা থাকলে আমরা কী আর ফুটপাতের উপর থাকতাম। আমাদের পুনর্বাসন দিক আমরা আর কিছু চাই না।’’

বাসিন্দারা অভিযোগ করেছেন, উচ্ছেদের সময় তৃণমূলের অন্তর্দ্বন্দও প্রকাশ্যে এসেছে। যারা মেয়র সব্যসাচী দত্তের অনুগামী তাদের নিরাপদ আশ্রয়ে রেখে উচ্ছেদ হয়েছে বলে তারা অভিযোগ জানিয়েছেন।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here