বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী স্বপন গুপ্ত প্রয়াত

0
Swapan Gupta

কলকাতা: প্রয়াত হলেন বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী স্বপন গুপ্ত। মহাষষ্ঠীর সকালেই এল এই দুসংবাদ। বয়স হয়েছিল ৭৫ বছর। রেখে গেলেন স্ত্রী ও কন্যাকে। মাসখানেক আগে শিল্পীর কোলন ক্যানসার ধরা পড়েছিল।

দেবব্রত বিশ্বাস ও মায়া সেনের এই গুণী ছাত্রের প্রয়াণের খবরে বাংলার শিল্পীমহলে বিষাদের ছায়া নেমে আসে। বাঙালির সব চেয়ে বড়ো উৎসবের মাঝে এই শোকসংবাদ সকলকে ব্যথিত করে দেয়।

বাদ যাননি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। তিনি তাঁর শোকবার্তায় বলেন, ‘‘বিশিষ্ট রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী স্বপন গুপ্তের প্রয়াণে আমি গভীর শোকাহত। তিনি আজ কলকাতায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তাঁর বিশেষ গায়নশৈলী শ্রোতাদের দীর্ঘদিন মুগ্ধ করে রেখেছে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার ২০১৫ সালে তাঁকে ‘সঙ্গীত মহাসম্মান’ প্রদান করে। তাঁর মৃত্যুতে সংগীত জগতের অপূরণীয় ক্ষতি হল। আমি স্বপন গুপ্তের পরিবার-পরিজন ও অনুরাগীদের আন্তরিক সমবেদনা জানাচ্ছি।’’

দৃষ্টি প্রতিবন্ধী স্বপন কোনো দিনই ভাবেননি গায়ক হবেন। তাঁর জন্ম অবিভক্ত বঙ্গের অধুনা বাংলাদেশের বরিশালে। দেশ ভাগের সময় যখন স্বপনের পরিবার কলকাতায় যখন চলে আসে, তখন স্বপন নিতান্তই শিশু। ১৯৬৫-তে নরেন্দ্রপুর রামকৃষ্ণ মিশন কলেজ থেকে ইংরেজিতে স্নাতক হওয়ার পর ১৯৬৭-তে স্নাতকোত্তর হন স্বপন।

Shyamsundar

পিয়ানো অ্যাকর্ডিয়ান বাজাতেন স্বপন, শখ করে গানও গাইতেন। কিন্তু গোড়ার দিকে গানের কোনো প্রথাগত শিক্ষা ছিল না। ১৯৬৫-তেই নরেন্দ্রপুরের কাছে জগদ্দলে সরস্বতী পুজোর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ঘটনাচক্রে আলাপ হয়ে যায় তখনকার দিনে খ্যাতির তুঙ্গে থাকা দেবব্রত বিশ্বাসের সঙ্গে।

দেবব্রত বিশ্বাসের আসতে দেরি হচ্ছিল। তাই পিয়ানো অ্যাকর্ডিয়ান বাজিয়ে শ্রোতা-দর্শকদের ধরে রাখছিলেন স্বপন। শেষ পর্যন্ত সংগঠকদের অনুরোধে গানও ধরলেন। আর সেই সময় দেবব্রত বিশ্বাস উপস্থিত। স্বপনের গান শুনে তিনি বিস্মিত। সংগঠকদের মারফত দেবব্রত বলে পাঠালেন স্বপন যেন তাঁর গাওয়া কোনো গান গায়। প্রচণ্ড নার্ভাস স্বপন গাইলেন ‘আকাশভরা সূর্যতারা’। দেবব্রত বুঝলেন ছেলেটির এলেম আছে। আলাপ হল দু’ জনে। দেবব্রত জানতে চাইলেন, স্বপন কোথায় গান শেখেন। স্বপন অকপটে জানিয়ে দিল, কোথাও না। রেডিও শুনে শুনে গান তোলে সে।

প্রখ্যাত শিল্পীর গান শেখানোর প্রস্তাবে সায় দিয়ে শিল্পীর রাসবিহারী অ্যাভেনিউয়ের বাড়িতে গানের তালিম নেওয়া শুরু করলেন স্বপন। প্রথম প্রথম অনেকের সঙ্গে গান শিখেছেন স্বপন, তার পর আলাদা করে একলা শেখার সুযোগ পেয়েছেন। বছর দুয়েক পরে রেডিওয় গান গাওয়া শুরু। এর বছর খানেক পরেই মায়া সেনের তত্ত্বাবধানে এইচএমভি থেকে প্রকাশিত হল তাঁর প্রথম গানের রেকর্ড – এক পিঠে ‘লুকালে বলেই খুঁজে বাহির করা’, অন্য পিঠে ‘আমায় থাকতে দে-না আপন মনে’। বাংলা পেল সুকণ্ঠের অধিকারী এক সংগীতশিল্পীকে – স্বপন গুপ্ত।

চোখ বুঁজে স্বপন গুপ্তের গান শুনে মনে হত, দেবব্রত বিশ্বাসই বুঝি গাইছেন। সেই স্বপন গুপ্ত চিরবিদায় নিলেন। বাংলা সত্যিই এক গুণী শিল্পীকে হারাল, যাঁর অভাব কখনোই পূরণ হওয়ার নয়।

আরও পড়তে পারেন

ভারত-বাংলাদেশ মৈত্রীর ৫০ বছর উপলক্ষ্যে রোকেয়া সুলতানার একক শিল্পকর্ম প্রদর্শনী

আন্তর্জাতিক আর্ট ফেস্টিভ্যালে বিচারকের ভূমিকায় বঙ্গতনয়া স্বাতী ঘোষ

মোহিনী চৌধুরীকে খুঁজে পাওয়ার এক সহজ পথ ‘মোহিনী চৌধুরী ১০১ গানে গানে’

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন