কলকাতা: ভাদ্রের পচা গরম থেকে কিছুটা মুক্তি দিয়ে স্বস্তির বৃষ্টি নামল কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের কিছু অংশে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস, মহালয়ার পরে ফের সক্রিয় উঠতে পারে বর্ষা।

গত ২ সেপ্টেম্বর, শেষ বার উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছিল কলকাতায়। তার পর থেকে সেই যে বর্ষা নিষ্ক্রিয় হয়েছিল, পরের দশ দিন বৃষ্টির কোনো নামগন্ধই ছিল না। এ দিকে তাপমাত্রার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছিল আর্দ্রতা। ফিরে এসেছিল গরম কালের অস্বস্তিকর আবহাওয়া। এই পরিস্থিতি থেকে মুক্তি দিতে পারত একমাত্র ভালো একটা বৃষ্টি। সেটাই হল সোমবার রাতে।

সোমবার দুপুরের পর থেকেই কলকাতার পার্শ্ববর্তী জেলাগুলিতে অল্পস্বল্প বৃষ্টি হয়েছিল, কিন্তু তা কলকাতায় আসেনি। শহরের শিকে ছিঁড়ল মঙ্গলবার ভোর রাতে। ঘন্টাখানেকের জোর বৃষ্টির সঙ্গে ছিল ঝোড়ো হাওয়া। তাতে তাপমাত্রা অনেকটাই কমে যায়। তবে শহরের বিভিন্ন জায়গায় বৃষ্টির পরিমাণ ছিল আলাদা। দমদমে বৃষ্টির পরিমাণ যখন ৫৯ মিমি, তখন সাকুল্যে ৬ মিমি বৃষ্টি হয়েছে আলিপুরে। তবে দক্ষিণ শহরতলিতে বৃষ্টির দাপট ভালোই ছিল। উল্লেখযোগ্য বৃষ্টি হয়েছে ডায়মন্ড হারবার (৫২ মিমি), কৃষ্ণনগর (৪৫ মিমি), হলদিয়ায় (৪০ মিমি)।

এই বৃষ্টির কারণ কী?

বঙ্গোপসাগরে কোনো ঘূর্ণাবর্ত বা নিম্নচাপ নেই। আপাতত সে রকম কিছু তৈরি হওয়ার কোনো সম্ভাবনাও নেই। এই বৃষ্টির কারণ সম্পূর্ণ ভাবে মৌসুমী অক্ষরেখা। বেসরকারি আবহাওয়া সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার আবহাওয়াবিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কার মতে, “মৌসুমী অক্ষরেখা দক্ষিণবঙ্গের দিকে সরে আসতে শুরু করেছে। অন্য দিকে বাংলাদেশের ওপরে একটি ঘূর্ণাবর্তও রয়েছে। এর ফলে দক্ষিণবঙ্গের ওপরে জলীয় বাষ্প ঢোকা শুরু হয়েছে, তাই এই বৃষ্টি।” রবীন্দ্রবাবুর মতে, আপাতত আগামী দু’একদিন বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টিপাত চলতে থাকবে। তার পর আবার নিষ্ক্রিয় হয়ে যাবে বর্ষা।

পুজোর আবহাওয়ার কোনো ইঙ্গিত?

সে ভাব এখনও পুজোর আবহাওয়ার ব্যাপারে কোনো পর্যালোচনা রবীন্দ্রবাবু করেননি। তবে মহালয়ার পরের কয়েক দিন আবহাওয়া কেমন থাকবে সে ব্যাপারে একটা আন্দাজ পেয়ে গিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, মহালয়ার পরে আবার সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে বর্ষা। অন্তত পঞ্চমী-ষষ্ঠী পর্যন্ত ভালো বৃষ্টি হতে পারে বলে মত রবীন্দ্রবাবুর।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন