নিজস্ব সংবাদদাতা, কলকাতা: চাকরিতে অবসরের আগেই জীবন থেকে চির ছুটি নিয়ে চলে গেলেন হরিমোহন রাম। রবিবার ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের পরমা আইল্যান্ডের সামনে পথ দুর্ঘটনায় মৃত বিহারের বাসিন্দা হরিমোহন রাম। ময়না তদন্তের পর তাঁর দেহ পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয় সোমবার। এ দিনই তাঁর দেহ নিয়ে ভাই ও ছেলে রওনা হয়েছেন বিহারের আদি বাড়িতে। মৃতের পরিবার প্রগতি ময়দান থানায় একটি এফআইআর দায়ের করেছে। পরিবারের পক্ষ থেকে মদ্যপ ওই তরুণীর কঠোর শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে।

হরিমোহনের আদিবাড়ি বিহারের খাতরায়। চাকরির জন্য দীর্ঘ ৩০ বছর ধরে ৮ নম্বর পাগলাডাঙা অঞ্চলে থাকতেন তিনি।কাজ করতেন ট্যাংরার একটি চামড়া কারখানায়।

আরও পড়ুন : 
ওদের রাম থাকলে আমাদের আছে মা দুর্গা,’ ঝাড়গ্রামের সভায় হুংকার মুখ্যমন্ত্রীর

রবিবার সকালে আকষ্মিক দুর্ঘটনায় হরিমোহনের মৃত্যুতে হতচকিত ছেলে মিথুন রাম। বাবার মৃত্যুর খবর পেয়ে ওই দিনই কলকাতায় আসেন মিথুন। তিনি বলেন, বাবার আয়ে সংসার চলত। এখন সংসার কী ভাবে চলবে সেটিই চিন্তা। হরিমোহনের দাদা চন্দ্ররাম। তিনিও হরিমোহনের সঙ্গেই কাজ করতেন। তবে বর্তমানে তিনি অবসর নিয়েছেন। ভাইয়ের আকষ্মিক মৃত্যুতে তিনিও বাকরুদ্ধ। চন্দ্ররাম ঘটনাটি বিশ্বাস করতে পারছেন না।

hariram

সোমবার হরিমোহনের মৃতদেহ নীলরতন সরকার হাসপাতালে নিয়ে আসেন মিথুন আর চন্দ্ররাম। চন্দ্ররাম বলেন, দুর্ঘটনার ঠিক ১০ মিনিট আগেও ভাইয়ের সঙ্গে মোবাইল ফোনে কথা বলেছেন তিনি। তার পরই তাঁর ফোনে স্থানীয় মানুষদের ফোন আসে। বলা হয়, একটি বড়ো গাড়ির ধাক্কায় গুরুতর ভাবে আহত হয়েছেন হরিমোহনের। তিনি পরমা আইল্যান্ডের সামনের রাস্তায় পড়ে আছেন। তিনি  তাড়াতাড়ি সেখানে পৌঁছে দেখেন, একটি গাড়িকে পুলিশ ঘিরে রেখেছে। পুলিশ তাঁকে জানায়, হরিমোহনকে নীলরতনে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। চন্দ্ররাম দ্রুত সেখানে পৌঁছোতেই জানতে পারেন তাঁর ভাই মারা গিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, ইস্টার্ন মেট্রোপলিটন বাইপাসের সামনে পরমা আইল্যান্ডে যে গাড়ির ধাক্কায় হরিরাম প্রাণ হারান, সেই গাড়িটি চালাচ্ছিলেন এক জন মদ্যপ তরুণী। তরুণী পেশায় ইন্টিরিয়ার ডিজাইনার। সূত্রের মাধ্যমে জানা গিয়েছে, গাড়ির গতি অত্যন্ত বেশি ছিল। ধাক্কা খাওয়ার পর হরিরাম কিছুক্ষণ সময়ের জন্য শূন্যে উঠে গিয়েছিলেন। তার পর সজোরে আছড়ে পড়েন মাটিতে। পুলিশ ওই তরুণীকে গ্রেফতার করেছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here