শুভদীপ রায় চৌধুরী

বনেদিবাড়ির ঠাকুরদালানে পা দিলেই একটা অন্য রকম অনুভূতি কাজ করে প্রতিটি মানুষের মধ্যে। উত্তর কলকাতার বটকৃষ্ণ পালের বাড়ির জগদ্ধাত্রীপুজো বিখ্যাত। সেই পুজোর ঐতিহ্য ও আভিজাত্য আজও প্রতিটি মানুষ পরতে পরতে অনুভব করেন। শুধুমাত্র জগদ্ধাত্রীপুজোই নয়, বটকৃষ্ণ পাল একই সঙ্গে সরস্বতীপুজোরও প্রচলন করেছিলেন তাঁর বাড়িতে।

পালবাড়ির সরস্বতীপুজো ১২১ বছর পূর্ণ করে এ বছর ১২২তম বছরে পদার্পণ করল। ১৯০০ সালে বেনিয়াটোলা স্ট্রিটের পালবাড়িতে শুরু হয় বাগদেবীর আরাধনা। এই বাড়ির দেবীর বিগ্রহে সাবেকিয়ানার ছোঁয়া থাকলেও কোনো রকম বাহন থাকে না। ডাকের সাজের বিগ্রহে পরানো হয় পারিবারিক গহনা। অতীতে এই বাড়ির পাশেই একটি পাঠশালা ছিল। সরস্বতীপুজোর দিন সকালে প্রতিটি ছাত্রকে মালসায় ভোগ দেওয়া হত।

কথা হচ্ছিল পরিবারের সদস্য অভিরূপ পালের সঙ্গে। তিনি বললেন, মাঘ মাসের প্রথম দিকে বাড়ি থেকে দেবীর মূল কাঠামো কুমোরটুলিতে দিয়ে আসা হয় এবং পুজোর তিন দিন আগে বিগ্রহকে বাড়িতে আনা হয়, তার পর সাজসজ্জা হয়। বস্তুতপক্ষে প্রথম যে কাঠামোয় প্রতিমা নির্মাণ শুরু হয়েছিল, প্রতি বছর সেই একই কাঠামোয় প্রতিমা তৈরি হয়ে আসছে। পঞ্চমীর দিন সকাল থেকেই পুজো শুরু হয়ে যায় পালবাড়ির ঠাকুরদালানে।

দেবীকে নিবেদন করা হয় নানা রকমের ফল ও মিষ্টান্নের নৈবেদ্য। অতীতে জগদ্ধাত্রীপুজোর মতন সরস্বতীপুজোতেও শোভাযাত্রা করে দেবীপ্রতিমা নিরঞ্জন হত। বর্তমানে সেই প্রথা বন্ধ রয়েছে।

এ বছর করোনা ভাইরাসের কারণে শারীরিক দূরত্ববিধি মেনেই পুজো হবে। কোনো রকমের জনসমাগম করা যাবে না বলে জানিয়েছেন অভিরূপবাবু। প্রশাসনের সমস্ত নিয়মবিধি মেনে পুজো হবে পালবাড়িতে।

আরও পড়ুন: সোনামুখীর দে বাড়ির ১১৫ বছরের সরস্বতীপুজো

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন