পশ্চিম পুটিয়ারির পল্লি উন্নয়ন সমিতির পুজোয় এ বার ৬০০ বছরের প্রাচীন সৌরা চিত্রকলা

0
পল্লি উন্নয়ন সমিতি, পশ্চিম পুটিয়ারি।
জোরকদমে চলছে মণ্ডপের কাজ।

বঙ্গাব্দের ক্যালেন্ডারে শরৎ এসে গিয়েছে প্রায় সপ্তাহ দুয়েক আগে, পল্লিবাংলায় কাশফুলও শরতের আগমন সূচিত করছে, যদিও এখনও বৃষ্টির কোনো কমতি নেই। কিন্তু তা বলে তো আর মা দুর্গার আবাহন থেমে থাকতে পারে না। মা আসছেন তাঁর বাপের বাড়িতে আর পক্ষকাল পরেই। করোনার আবহের মধ্যেই তার প্রস্তুতি চলছে সর্বত্র।

থেমে নেই পশ্চিম পুটিয়ারির পল্লি উন্নয়ন সমিতিও। সেখানেও জোরকদমে চলছে সপরিবার মা দুর্গাকে আবাহনের প্রস্তুতি।

পল্লি উন্নয়ন সমিতির পুজো এ বার ৬৭ বছরে পড়ল। এ বার তাদের পুজোর থিম ‘অধিকার’। তেলঙ্গানা রাজ্যের সীমানা ঘেঁষে ওড়িশায় বাস করে সৌরা উপজাতি। তাদের শিল্পকলা ৬০০ বছরের প্রাচীন। এই শিল্পকলায় তারা সমানাধিকারের বিষয়টি সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলে, যে সমানাধিকারের চর্চা চলে তাদের প্রাত্যাহিক জীবনে, তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও। এই সৌরা শিল্পকলার সঙ্গেই সাধারণ মানুষকে পরিচিত করানো হচ্ছে পল্লি উন্নয়ন সমিতির পূজা থিমে। শিল্পী সোমনাথ তামলি ফুটিয়ে তুলছেন এই শিল্প এবং প্রতিমাশিল্পী আলোক কুমার দে।

সৌরা শিল্পকলার নমুনা, পল্লি উন্নয়নের মণ্ডপে।

এক সমৃদ্ধ, সম্পদশালী সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উত্তরাধিকার বহন করে চলেছে ওড়িশার এই প্রাচীন উপজাতি। এদের মুরাল চিত্রকলা ভারতের বিভিন্ন ধরনের চিত্রকলার মধ্যে বিশিষ্ট স্থান দখল করে রেখেছে।

Shyamsundar

সৌরাদের এই প্রাচীন চিত্রকলার সঙ্গে সাধারণ মানুষকে পরিচিত করানোর দায়িত্ব তুলে নিয়েছে পল্লি উন্নয়ন সমিতি। তারা চায়, এই উপজাতি মানুষগুলোর সৃষ্টিকে পাদপ্রদীপের আলোয় নিয়ে আসতে। আর এই কাজ করার প্রশস্ত সুযোগ যে বাঙালির সব চেয়ে বড়ো ও প্রিয় উৎসব দুর্গাপুজোতেই মিলতে পারে তাতে আর সন্দেহ কী!

সৌরা শিল্পকলার আরও নমুনা, পল্লি উন্নয়নের মণ্ডপে।

কথা হচ্ছিল পল্লি উন্নয়ন সমিতি দুর্গাপুজো কমিটির সম্পাদক শুভম চক্রবর্তীর সঙ্গে। তাঁর আশা, তাঁদের এই উদ্যোগ সার্থক হবে। তাঁরা এই উপজাতি আর্ট ফর্মের সঙ্গে মানুষকে পরিচিত করাতে পারবেন। এ নিয়ে তাঁরা একটি গবেষণামূলক কাজও করছেন। শুভমবাবুর আশা, পুজোর ঠিক আগেই এই কাজটি তাঁরা প্রকাশ করতে পারবেন।

উল্লেখ্য, এই পল্লি উন্নয়ন সমিতিই গত মার্চ মাসে সাড়া ফেলে দিয়েছিল ‘ব্রিগেড চলো’ স্লোগানে ক্লাবের সারা দেওয়াল ভরিয়ে দিয়ে। আর সেই ব্রিগেড সমাবেশে প্রধান বক্তার নাম ছিল ‘শ্রীমতী দুর্গাদেবী’। তাজ্জব হয়ে গিয়েছিল সবাই। ক্লাবের কর্মকর্তারা পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছিলেন, সময়ের সঙ্গে তাল রেখে যে ট্রেন্ড দেখা যায়, সেই ট্রেন্ডটা ধরতে চেয়েই তাঁরা এটা করেছেন। এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো যোগ নেই। নতুন শৈল্পিক প্রচেষ্টার লক্ষ্যেই তাঁদের এই উদ্যোগ।

সৌরা শিল্পকলার আরও নমুনা, পল্লি উন্নয়নের মণ্ডপে।

তখনই পুজো কমিটির সম্পাদক জানিয়েছিলেন, তাঁদের এ বারের দুর্গাপূজার থিম ঠিক হয়ে গিয়েছে, তেমনই শিল্পীও নির্দিষ্ট হয়েছেন। কিন্তু স্বাভাবিক ভাবেই তিনি তখন আর স্পষ্ট করে কিছু বলেলনি। যে পুজো কমিটির মাথা থেকে ‘ব্রিগেড চলো’র মতো এমন সুন্দর আইডিয়া বেরোতে পারে, তারা যে এ বারের পুজোয় এমন সুন্দর একটি থিম উপহার দেবে, তা তখনই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী দক্ষিণ কলকাতার পশ্চিম পুটিয়ারির পল্লি উন্নয়ন সমিতির পুজো চাক্ষুষ করে সৌরা-কলার পরিচিত হওয়া যাবে কিনা তা জানা যাবে ভবানীপুর কেন্দ্রের উপনির্বাচনের পরে। তবে দর্শনের অনুমতি মিললেও কোভিড স্বাস্থ্যবিধি যে মানতে হবে তা বলাই বাহুল্য – মাস্ক পরা, হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করা, শারীরিক দূরত্ববিধি মানা ইত্যাদি করতে হবে।

সৃষ্টিকাজে নিমগ্ন শিল্পী।

কোথায় এই মণ্ডপ

নেতাজি (কুদঘাট) মেট্রো স্টেশনের কাছে পল্লি উন্নয়ন সমিতির পুজো বললেই সবাই চিনিয়ে দেবে। টালিগঞ্জ ট্রামডিপো থেকে কুদঘাটগামী অটো বা বাসেও যাওয়া যায়।

আরও পড়তে পারেন

পুজোর মরশুমে ভিড়ে যেতে হলে টিকার দু’টি ডোজ নেওয়া বাঞ্ছনীয়, জানাল স্বাস্থ্য মন্ত্রক

পুজোয় মণ্ডপে গিয়ে ঠাকুর দেখা যাবে কি না তার সিদ্ধান্ত ভোটের পর, জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

খুঁটিপুজো দিয়ে শুরু দেবীবন্দনার প্রস্তুতি, দুঃস্থদের বিনামূল্যে ভ্যাকসিন দেওয়ার চেষ্টা করছে শিলিগুড়ির রথখোলা নবীন সংঘ

টিকার দু’টো ডোজ নেওয়া থাকলে তবেই মিলবে ভিআইপি পাস, অভিনব উদ্যোগ কলকাতার বহু পুজো কমিটির

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন