Covid Crisis: অভুক্ত মানুষের পাশে জাতীয় বাংলা সন্মেলনের দক্ষিণ কলকাতা শাখা

0

নিজস্ব প্রতিনিধি: করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ক্ষতিগস্ত হচ্ছেন বহু মানুষ, প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ভাবে। অনেকেই যেমন তাঁদের স্বজন-পরিচিতজনকে হারানোর ব্যথায় কষ্ট পাচ্ছেন, তেমনই অনেকেই রুটি-রুজি হারিয়ে পড়েছেন দুর্দশায়। সেই সব দুর্দশাগ্রস্ত মানুষগুলোর পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নিল জাতীয় বাংলা সন্মেলনের দক্ষিণ কলকাতা শাখা। আগামী ১৯ মে থেকে তারা বিনামূল্যে কমিউনিটি কিচেন খুলতে চলেছে।

‘বাংলাপক্ষ’ নামে বৃহত্তর সংগঠন থেকে বিভক্ত হয়ে একদল সদস্য তৈরি করেছেন ‘জাতীয় বাংলা সন্মেলন’। ২০১৯ সালের ৯ ডিসেম্বর এর পথ চলা শুরু। মূলত বাঙালি সমাজকে রক্ষা করতে এবং ঐতিহ্যকে অটুট রাখতে তারা বহু বার বহু উদ্যোগ গ্রহণ করেছে – যেমন ‘হিন্দি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি’, ‘কলকাতার হ্রদগুলিতে ছটপূজার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচি’ ইত্যাদি। গত বছর করোনার প্রথম ঢেউয়ে এই সংগঠন নানা সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছিল। এ বারেও তারা এগিয়ে এসেছে।

কথা হচ্ছিল এই সন্মেলনের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য সিদ্ধব্রত দাসের সঙ্গে। তিনি জানালেন, এই সংগঠনটি সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন এবং তাঁরা যে এই উদ্যোগটি নিতে চলেছেন সেটাও সম্পূর্ণ ভাবে রাজনীতির বাইরে। কমিউনিটি কিচেন তৈরি করার প্রস্তাবটি প্রথম দেন সন্মেলনের সদস্য মৈনাক সিকদার, তার পর অন্য সদস্যদের সম্মতিতে আগামী দিনে তাঁরা প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ হাজার অভুক্তের মুখে বিনামূল্যে খাবার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

সিদ্ধব্রতবাবু বলেন, পশ্চিমবঙ্গের বাইরেও দিল্লি, বেঙ্গালুরু প্রভৃতি শহরে তাঁদের সংগঠন রয়েছে। তবে দক্ষিণ কলকাতার শাখাই প্রথম এমন উদ্যোগ নিল। আগামী দিনে অন্য শাখাতেও কমিউনিটি কিচেন হবে।

আগামী ১৯ তারিখ ডোভার লেনে গড়িয়াহাট থানার পাশেই ‘ডোভার গেস্টহাউস’ চালু হবে কমিউনিটি কিচেন। সেখান থেকে খাবার সংগ্রহ করা যাবে এবং হোম ডেলিভারি ব্যবস্থাও থাকবে। কমিউনিটি কিচেনের মেনুতে থাকছে ভাত, সবজি, মাংস/ডিম ইত্যাদি নানা পদের রান্না। হোম ডেলিভারির পাশাপাশি কিছু ভ্যানেরও ব্যবস্থা থাকবে। তারা বিভিন্ন অঞ্চলে গিয়ে খাবার বিতরণ করবে। এই কমিউনিটি কিচেন চলবে রোজ সন্ধে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। তিনটি নম্বরে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে – ৯৮৩০১২২৪৭৬, ৯৪৩২৩৭০৫৮৬ এবং ৮৯১০০৬৯৮৬৮।  

তবে ১৯ তারিখকেই বেছে নেওয়ার কারণ কী? উত্তরে সিদ্ধব্রতবাবু জানালেন, বাংলা ভাষার মর্যাদার দাবিতে ১৯৬১ সালের এই দিনটিতে অসমের শিলচরে ১১ জন প্রাণ দিয়েছিলেন। তাই সেই দিনটিকেই বেছে নেওয়া হয়েছে এই মহৎ উদ্যোগের সূচনার দিন হিসাবে।

আরও পড়ুন: Covid Vaccine: পর্যাপ্ত ভ্যাকসিন সরবরাহ নিয়ে আশার কথা শোনালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন