birla

নিজস্ব সংবাদদাতা: জিডি বিড়লা কাণ্ডে দুই ধৃত শিক্ষকের ১২ দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিল আলিপুর আদালত। অর্থাৎ আগামী ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত তাঁরা পুলিশি হেফাজতে থাকবেন। পাশাপাশি এদিন নির্যাতিতা শিশুটির গোপন জবানবন্দি নেওয়ারও নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। জানা গেছে আগামী ২-৩ দিনের মধ্যেই শিশুটির বয়ান রেকর্ড করা হবে। এদিনই ঘটনার তদন্তে স্কুলে যান গোয়েন্দারা। লালবাজারে যান নির্যাতিতা শিশুর বাবা-মা। এদিন ঘটনার নিন্দা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুলিশ এ ব্যাপারে যথাযথ পদক্ষেপ করছে।

এদিন ঘটনার তদন্তে বিশেষ কমিটি গঠন করেছে রাজ্য সরকার। কমিটিতে কলকাতা পুলিশের তরফে আছেন নীলু শেরপা চক্রবর্তী। এছাড়া চার জনের কমিটিতে রয়েছেন শিক্ষা দফতর, শিশু সুরক্ষা দফতর ও আইসিএসসি নয়াদিল্লির প্রতিনিধি।

অন্যদিকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া অবধি স্কুল না খোলার সিদ্ধান্তে সোমবারও অনড় রইল জিডি বিড়লা স্কুল কর্তৃপক্ষ। বন্ধ করে রাখল স্কুলের গেট। পরীক্ষা থাকায় নির্দিষ্ট সময়ে ছাত্রছাত্রীরা জমায়েত হলেও স্কুল খোলা হল না। ফলে অভিভাবকদের বিক্ষোভ বাড়ল বই কমল না। স্কুলের সামনেই প্রতিবাদ বিক্ষোভে জমায়েত হলেন তাঁরা। সোমবার সকাল থেকে এই ছবিই ধরা দিল স্কুলের সামনে। এখনও সেই অবরোধ চলছে।

শিশুছাত্রীকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে অভিভাবকদের অনেকেই দাবি তুলেছিলেন, পড়ুয়াদের নিরাপত্তার বিষয়টি সুরক্ষিত না করা পর্যন্ত স্কুল বন্ধ রাখতে হবে। বিক্ষোভের মুখে স্কুল এবং শিক্ষিকাদের নিরাপত্তার অভাবের যুক্তি দেখিয়ে রবিবারই স্কুলের গেটে তালা ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। সোমবার পরীক্ষা থাকলেও স্কুল খোলেনি। এমনকি, এই স্কুল বন্ধ রাখার কথা পড়ুয়াদের জানায়নিও স্কুল। ফলে এখন পড়ুয়াদের নিরাপত্তার পাশাপাশি স্কুল খোলা এবং পরীক্ষা চালু করার দাবিতেও সরব হয়েছেন অভিভাবকেরা।

বিনা নোটিশে এ রকম ভাবে স্কুল বন্ধ করায় শিশু সুরক্ষা কমিশনের ক্ষোভের মুখেও পড়েছেন স্কুল কর্তৃপক্ষ। কমিশনের চেয়ারপার্সন অনন্যা চক্রবর্তীও প্রতিবাদে পৌঁছে যান ঘটনাস্থলে। “স্কুল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিলেন তাঁরা পড়ুয়াদের সুরক্ষার ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু তা না করে উলটে স্কুল বন্ধ করে রেখেছেন। এটা নিয়মের পরিপন্থী। স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে, ওঁদের সততার অভাব রয়েছে। তাই স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে”, জানিয়েছেন তিনি।

পাশাপাশি, সোমবার সকাল এগারোটায় জিডি বিড়লা স্কুলের সামনে উপস্থিত হন বিজেপি নেত্রী রূপা গঙ্গোপাধ্যায়। তাঁর উপস্থিতি নিয়েও বিক্ষোভ তীব্র হয়। অভিভাবকেরা জানিয়ে দেন তাঁকে, এখানে রাজনীতি করা যাবে না। “আমি রাজনীতি করতে আসিনি। স্কুলের সামনে আপনাদের সঙ্গে আমিও বসে থাকব। এ আমার ছোটোবেলার পাড়া। সেই জন্যই এসেছি। গত দু’দিন দিল্লিতে থাকায় আসতে পারিনি ঠিকই, কিন্তু ঘটনাটি শোনার পর থেকে ঘুমোতেও পারিনি”, অভিভাবকদের জানান রূপা। এখনও তিনি তাঁদের সঙ্গে বসে রয়েছেন স্কুলের সামনে।

প্রসঙ্গত, ধ‌ৃত দুই শিক্ষককে আলিপুর জেলা আদালতে বিশেষ পকসো কোর্টে পেশ করা হয়েছে। তাঁদের ধিক্কার জানিয়ে আদালতের বাইরেও শুরু হয়েছে বিক্ষোভ। পাশাপাশি, লালবাজারে বিশেষ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডাকা হয়েছে স্কুলের প্রিন্সিপালকে। অন্য দিকে, আগামী কাল স্কুল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মুখোমুখি বৈঠকে বসছেন অভিভাবকেরা। স্কুলের সামনের জমায়েত বিক্ষোভ থেকে এ কথা জানিয়েছেন তাঁরা। সঙ্গে শুরু হয়েছে স্কুলের সামনে থেকে প্রাক্তনীদের মিছিল। ঘটনাকে ধিক্কার জানিয়ে পথে নেমেছেন তাঁরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here