vc taken to hospital
হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে উপাচার্যকে। নিজস্ব চিত্র।

নিজস্ব প্রতিনিধি: ছাত্র সংসদ নির্বাচনের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠল যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়। পড়ুয়াদের বিক্ষোভের জেরে অসুস্থ হয়ে পড়লেন উপাচার্য সুরঞ্জন দাস। মঙ্গলবার তিনি ক্যামপাস ছাড়লেন স্ট্রেচারে করে।

দু’ দল পড়ুয়াদের মধ্যে হাতাহাতিতে আহত হলেন বেশ কয়েক জন।

ইতিমধ্যে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়ে  দিয়েছেন, লোকসভা নির্বাচনের আগে কোনো ভাবেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র সংসদ নির্বাচন সম্ভব নয়।

এ দিন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের একজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক ছিল। এই বৈঠকের মূল আলোচ্য ছিল, ছাত্র সংসদ নির্বাচন। ছাত্র ইউনিয়নের বদলে স্টুডেন্ট কাউন্সিল গড়া নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে রাজ্য সরকার। তার পরেও বছর দুয়েক হয়ে গেল ছাত্র সংসদ নির্বাচন হচ্ছে না।

ছাত্রদের তরফ থেকে দাবি করা হচ্ছে, অবিলম্বে ছাত্র সংসদ নির্বাচন করাতে হবে এবং পুরোনো যে পদ্ধতিতে ইউনিয়ন নির্বাচন হত, সেই পদ্ধতিতেই ভোট করাতে হবে।

আরও পড়ুন সংগীতশিল্পী প্রতীক চৌধুরী প্রয়াত

এ দিন একজিকিউটিভ কাউন্সিলের বৈঠক শুরু হওয়ার সময় প্রচুর পড়ুয়া অরবিন্দ ভবনের সামনে জড়ো হয়। উপাচার্য যখন ভবন থেকে বেরোতে যান, তখন তাঁকে ঘিরে ছাত্ররা বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করে। এর ফলে কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন তিনি।

এরই মধ্যে পড়ুয়াদের দুই দলের মধ্যে ধস্তাধস্তি শুরু হয়ে যায়। দু’ পক্ষেরই দাবি, তারা নিজেদের দাবিদাওয়া নিয়ে উপাচার্যের কাছে স্মারকলিপি জমা দেবে। সেই সময় উপাচার্য গাড়িতে উঠতে গেলে তাঁকে বাধা দেওয়া হয়। গাড়িতে ওঠার সময় উপাচার্য পরিষ্কার জানিয়ে দেন, ভোট নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কিছু করতে পারবে না।

তবু ছাত্ররা নিজেদের দাবিতে অনড় থাকে এবং বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকে। বাধা পেয়ে উপাচার্য ফের অরবিন্দ ভবনের ভিতরে চলে যান। ভবনের বাইরে ও ভিতরে ছাত্ররা অবস্থান বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে থাকে, উপাচার্য ঘরে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েন। অ্যাম্বুল্যান্স ডাকা হয় এবং তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। আপাতত তিনি ঢাকুরিয়ার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি।

জানা গিয়েছে, ছাত্রদের হাতাহাতিতে ৬ জন জখম হয়েছে। এসএফআই, ফেস্টু-সহ বেশ কিছু ইউনিয়নের অভিযোগ, তারা যখন উপাচার্যের সঙ্গে কথা বলতে যাচ্ছিল তখন টিএমসিপি সদস্যরা ধাক্কা দেয় এবং তাতেই হাতাহাতি শুরু হয়। টিএমসিপি অবশ্য এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

পড়ুয়াদের আন্দোলনের প্রেক্ষিতে শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায় বলেছেন, ‘‘সামনেই লোকসভা নির্বাচন। আর কয়েক দিনের মধ্যেই নির্বাচনী আচরণবিধি ঘোষণা করা হবে। এই পরিস্থিতিতে কলেজ নির্বাচন হলে কোনো প্রশাসনিক সহায়তা পাওয়া যাবে না। তাই এই মুহূর্তে কলেজ নির্বাচন হওয়া বেশ কঠিন।’’

 

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন