টাকা নিয়ে ভর্তি

কলকাতা: ফের সামনে এল কলেজে ভর্তি প্রক্রিয়ার সময় টাকা নেওয়ার ঘটনা৷ টাকা দিয়েও এখনও পর্যন্ত ভর্তি হতে পারেনি সোনারপুরের বাসিন্দা আসিফ সরকার ও সৄজিতা কর৷ অভিযুক্ত তমাল মণ্ডল টাকা নেওয়ার কথা স্বীকার করেছে। সে নিজেই জানিয়েছে, সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের সভাপতি ছিল সে৷

আসিফ ও সৃজিতার অভিযোগ, উচ্চ মাধ্যমিকের রেজাল্ট বার হওয়ার পর পরই সাউথ সিটি কলেজে ভর্তি হওয়ার জন্য তমাল মণ্ডল নামে এক যুবকের কাছে আসিফ ২০ হাজার টাকা ও সৃজিতা পনেরো হাজার পাঁচশো টাকা দেয়৷ এখনও পর্যন্ত তারা ভর্তি হতে পারেনি৷ আর টাকাও ফেরত পায়নি৷ শুধু তা-ই নয়, এত দিন ধরে এই দু’জনের অরিজিনাল মার্কশিট অ্যাডমিট সহ বেশ কিছু নথিও তমালের কাছে ছিল৷

বৃহস্পতিবার সন্ধেবেলা শিয়ালদহে নথিপত্র চেয়ে তমালের সঙ্গে দেখা করে আসিফ ও সৃজিতার পরিবারের লোকজন৷ সেখান থেকেই তাকে ধরে গাড়িতে তুলে নিয়ে আসা হয় সোনারপুরে৷ নথিপত্রের পাশাপাশি পুরো টাকা তার কাছ থেকে চাওয়া হয়৷ তমাল নথিপত্র ফেরত দিলেও এখনও পর্যন্ত টাকা দিতে পারেনি৷ তাই তাকে আটকে রাখা হয়েছে৷ শুক্রবার সকালে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সে সেখানেই রয়েছে। তমাল কিছু টাকা ও গয়না নিয়ে এলেও পরিবারের লোকজন পুরো টাকা তার কাছে দাবি করে৷ শুক্রবারের মধ্যে পুরো টাকা মিটিয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছে সে৷

অভিযুক্ত তমাল মণ্ডল স্বীকার করে নিয়েছে টাকা নেওয়ার কথা৷ সে জানিয়েছে, ২০১২ সালে সুরেন্দ্রনাথ কলেজের ছাত্র সংসদের সভাপতি ছিল সে৷ বিগত সাত আট বছর ধরে সে এই ভাবে টাকা নিয়ে ভর্তি করাচ্ছে বলে নিজের মুখেই জানিয়েছে৷ এ বারও অনেকের কাছ থেকেই টাকা নিয়ে সে ভর্তি করিয়েছে বলে জানায়৷ সে বলেছে, বঙ্গবাসী কলেজ ছাত্র ইউনিয়নে আশুতোষ গুপ্ত নামে তার এক বন্ধু আছে৷ আশুতোষ বঙ্গবাসী কলেজের এজিএস বলে দাবি তমালের৷ তার আরও দাবি, আশুতোষের সঙ্গে পরামর্শ করেই এদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছে সে৷ আশুতোষ অবশ্য তমালের এ সব দাবি অস্বীকার করেছে৷ অভিযুক্ত তমালকে আটকে রাখা হলেও এখনও পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়নি৷

ছবিতে অভিযুক্ত

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here