খবর অনলাইন ডেস্ক: কুঁদঘাটে ম্যানহোলে নেমে ৪ তরুণের মৃত্যুর ঘটনায় খুনের মামলা দায়েরের দাবি করল মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর (APDR)।

প্রসঙ্গত, গত ২৫ ফেব্রুয়ারি রিজেন্ট পার্ক এলাকায় কলকাতা পুরসভার ১১৪ নম্বর ওয়ার্ডে এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের টাকায় নিকাশি নালার কাজ চলছিল। সেখানে পুরনো নিকাশি নালার সঙ্গে নতুন নিকাশি নালার সংযুক্তিকরণের কাজ হচ্ছিল। কাজ করতে করতেই পা পিছলে ডুবে যান শ্রমিকরা। নালায় জমে থাকা বিষাক্ত গ্যাসে দমবন্ধ হয়ে মারা যান চার তরুণ।

মৃত চার, গুরুতর অসুস্থ তিন

নিকাশি নালার বর্জ্য পরিষ্কারের সময় যে ধরনের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, সে সব মেনে চলা হয়নি বলে জানা যায়। মৃত্য়ু হয় সাবির আলি (১৯), লিয়াকত আলি (২০), জাহাঙ্গির আলম এবং মহম্মদ আলমগির (৩৫) নামে চার তরুণের। সইফুল ইসলাম (২৪), মহম্মদ সলোমন (৩৫) এবং মাহাবুল হক (২২) নামে আরও তিন চুক্তিভিত্তিক কর্মীও গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন।

এপিডিআরের অভিযোগ, “আইন অনুযায়ী এ ভাবে ম্যানহোলে নেমে বর্জ্য পরিষ্কার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। শুধু তাই নয়, ম্যানহোলে নামার সময় কোনো সুরক্ষাবিধিও মানা হয়নি। এমনকী তাঁদের কোমরে দড়ি পর্যন্ত ছিল না। এই ঘটনায় প্রহিবিশন অব ম্যানুয়েল স্ক্যাভেঙ্গিং অ্যাক্ট ২০১৩ আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে। একই সঙ্গে ভারতীয় সংবিধানের ২১ ধারায় বর্ণিত প্রত্যেক নাগরিকের মর্যাদাপূর্ণ জীবনের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে”।

এপিডিআরের দাবি

যেহেতু শহরের ম্যানহোল তৈরি ও রক্ষণাবেক্ষণের মূল দায়িত্ব কলকাতা পুরসভার তাই এই মৃত্যুর মূল দায়িত্ব অবশ্যই কলকাতা পুরসভার বলেই দাবি করেছে এপিডিআর। একই সঙ্গে যারা এই ঠিকাদার সংস্থাকে নিয়োগ করেছিল, সেই কেইআইআইপি সংস্থা এবং যে ঠিকাদার সংস্থা শ্রমিকদের কাজ করাচ্ছিল তারাও আইন লঙ্ঘন ও মৃত্যুর জন্য দায়ী।

এপিডিআর দাবি করেছে, “এই মৃত্য়ুর ঘটনায় খুনের মামলা রুজু করতে হবে। দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিক এবং সংশ্লিষ্ট অন্য়ান্যদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। ম্যানহোলে মানুষ দিয়ে বর্জ্য পরিষ্কার বন্ধ করতে হবে। মৃত শ্রমিকদের পরিবার পিছু ২০ লক্ষ এবং আহতদের ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, ইত্যাদি”।

আরও পড়তে পারেন: ম্যানহোলের কাজ করতে নেমে কুঁদঘাটে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, মৃত ৪ শ্রমিক

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন