kashi mitra ghat 3

শৌভিক পাল, কলকাতা: এ যেন মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা। একেই তো রাজ্যের ট্যাঁকে টাকার অভাব। তার উপর আবার আয়ের থেকে ব্যয় বেশি। কলকাতা পুরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত কাশী মিত্র শ্মশানঘাট নিয়ে এমনই অভিযোগ উঠে এসেছে। যেখানে দেখা যাচ্ছে অন্যান্য শ্মশানের তুলনায় এখানে মৃতদেহ আসে অনেক কম, অথচ সরকারি খরচ পাহাড়সমান!

সরকারি কর্মচারীদের মাসিক বেতন, বেসরকারি সংস্থার নিরাপত্তাকর্মী, বৈদ্যুতিক চুল্লির খরচ হিসাব করলে কাশী মিত্র শ্মশানঘাটের মাসিক খরচের হিসাব দাঁড়ায় প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। কিন্তু আয় কয়েক হাজারের ঘরেই রয়ে গেছে।

বাগবাজার সংলগ্ন গঙ্গার পাড়ের খানিকটা অংশ জুড়ে রয়েছে শ্মশানঘাটটি। এখানে একটি মাত্র বৈদ্যুতিক চুল্লি রয়েছে, আর কাঠে দাহকার্য করার জন্য রয়েছে দু’টি চুল্লি। যার মধ্যে একটি সর্বসাধারণের জন্য নয়। সেটি ব্যবহার হয় শোভাবাজার রাজবাড়ির কাজে। মাস খানেক আগে ১২২৮৩২ টাকা ব্যয় করে শ্মশানটির পুনর্নবীকরণের কাজ করেছে পুরসভা। কিন্তু স্থানীয় মানুষের প্রশ্ন, এত খরচ কীসের জন্য? যেখানে আয়ই নেই, সেখানে অহেতুক এই ব্যয়ের প্রয়োজন ছিল কি? প্রশ্নের উত্তরে পুরসভার ১ নম্বর বরোর চেয়ারপার্সন তরুণ সাহা জানান, “নিমতলা ও অন্যান্য শ্মশানঘাটের মতো এখানে অত মৃতদেহ না এলেও মাসিক ১৫০ থেকে ৫০০ মৃতদেহের দাহকার্য সম্পন্ন হয় এখানে।”

টানা এক সপ্তাহ অনুসন্ধান করে অবশ্য যা তথ্য পাওয়া গিয়েছে তার সঙ্গে পুরকর্তার হিসাবের কোনোই মিল পাওয়া যায় না। অনুসন্ধানে দেখা গিয়েছে এক সপ্তাহে দাহ হওয়া মৃতদেহের সংখ্যা দুই অঙ্ক পার হয়নি। স্থানীয় বাসিন্দারা এ বিষয়ে একমত হলেও, এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্য পাশ কাটিয়ে গিয়েছেন তরুণবাবু।

পুরসভার একটি সূত্র বলছে, কাশী মিত্র শ্মশানে কর্মচারীর সংখ্যা বর্তমানে ছ’ জন, অতিরিক্ত তিন জন নিরাপত্তা কর্মী কাজ করেন। যাঁদের মাসিক বেতন মাথাপিছু ১১৫০০ টাকা। প্রভিডেন্ট ফান্ড ও ইএসআই-এর সুবিধে প্রাপ্ত এই ন’ জন কর্মীর জন্য পুরসভা খরচ করছে মাসিক ১০৩৫০০ টাকা। এ ছাড়াও দিনরাত বৈদ্যুতিক চুল্লির জন্য মোটা অঙ্কের ইলেকট্রিক বিল গুনতে হছে পুরসভাকে।

kashi mitra

শ্মশানের কর্মীদের কাছ থেকে মৃতদেহর পরিসংখ্যান চাইতে গেলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ব্যক্তি বলেন, “সংবাদ মাধ্যমের কাছে আমরা মুখ খুলব না। এই বিষয় কোনো প্রশ্ন করবেন না। এখান থেকে চলে যান।” স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন ওঠে, কী এমন উত্তর লুকিয়ে আছে এখানে?

একটি সূত্রের খবরে জানা যাচ্ছে, বহু দূর থেকে যে সমস্ত মৃতদেহ আসে তাদের অনেকেই অন্য কোনো শ্মশানঘাট থেকে ফেরত এলে এখানে না কি ব্যবস্থা হয়ে যায়।

এলাকার বহু মানুষের দাবি, শ্মশানটির পরিসর বৃদ্ধি করলে অনেক মানুষই সুবিধে পাবেন। কিন্তু পুরসভার কর্তা বলেন, এই এলাকা কলকাতা পোর্ট ট্রাস্টের। গঙ্গার পাড় থাকার জন্য সম্প্রসারণ সম্ভব নয়। শ্মশানের এক পাশের জায়গা জুড়ে রয়েছে বস্তি। সেখানে হাত দিলে সমস্যার মুখে পড়তে হতে পারে পুরসভাকে।

পাশাপাশি নিমতলা মহাশ্মশানের পরিসংখ্যান বলছে, কম-বেশি ৭০টা মৃতদেহ দাহ হয় সেখানে। যার এক ভাগও দেখা যায় না কাশী মিত্র শ্মশানঘাটে।  কাশী মিত্র শ্মশানঘাটের প্রধান ডোম মানিকবাবু জানান, প্রত্যেক মাসের ১৮ তারিখ সকাল ৬টা থেকে বিকেল ৪টে পর্যন্ত নিমতলা বন্ধ থাকার জন্য এখানে একটু চাপ থাকে।

হাতে গোনা কয়েকটি মৃতদেহ সৎকারের জন্য সরকারের এত ব্যয়? প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here