দক্ষিণ কলকাতার পুজোমণ্ডপে ভিড়। ছবি: রাজীব বসু।

কলকাতা: যতটা গর্জাচ্ছে, ততটা বর্ষাচ্ছে না। পুজোয় বৃষ্টি হওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে আবহাওয়া দফতরের। সেই পূর্বাভাস সত্যি প্রমাণ করে মহাসপ্তমীর দিন সকাল থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষিপ্ত ভাবে ঝড়বৃষ্টি হয়েছে। কোথাও কোথাও অল্প সময়ের জন্য ভারী বৃষ্টিও হয়েছে। তবে ঠাকুর দেখায় তেমন কোনো অসুবিধা হয়নি। মোটামুটি বাধাবিঘ্ন ছাড়াই আবালবৃদ্ধবনিতার ঠাকুর দেখা চলছে।

সপ্তমী শুরু হয়েছিল নবপত্রিকা স্নান দিয়ে। ভোর থেকেই গঙ্গার ঘাটে ঘাটে ভিড়। যাঁদের পক্ষে গঙ্গায় যাওয়া সম্ভব হয়নি, তাঁরা স্থানীয় পুকুর-ঝিলে নবপত্রিকা স্নান সমাপন করেন। মণ্ডপে বা বাড়িতে ফিরে এসে নবপত্রিকা স্থাপন এবং যথাবিহিত আচার আচরণ সম্পন্ন করে পূজা শুরু হয়।

নবপত্রিকা স্নানের পরে। বাগবাজার ঘাটে তোলা ছবি। ছবি: রাজীব বসু।

সর্বত্র কমবেশি বৃষ্টি হওয়ায় অথবা বৃষ্টি-বৃষ্টি ভাব থাকায় এক দিকে ভালোই হয়েছে। মহাষষ্ঠীর তুলনায় এ দিন অস্বস্তিকর অবস্থা কিছুটা কম ছিল। মানুষকে গরমে খুব একটা ছটফট করতে দেখা যায়নি।

মহানগরীতে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সারা দিনই দর্শনার্থীদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। কিন্তু সন্ধের পর ভিড় একেবারে উপচে পড়ে। এ ক্ষেত্রে নামী, অনামী কোনো পূজামণ্ডপই বাদ যাচ্ছে না। বিভিন্ন ধরনের আলোকমালায় সজ্জিত মহানগরীকে যেন সন্ধের পর স্বপ্নপুরী মনে হচ্ছে।

মহানগরের যে সব অঞ্চলে নামকরা পূজামণ্ডপ বেশি, সে সব জায়গায় সকাল থেকেই যান নিয়ন্ত্রণে পুলিশ তৎপর ছিল। ফলে সে সব জায়গায় যানজট থাকলেও সাধারণ মানুষকে তেমন ভুগতে হয়নি।  

বিক্ষিপ্ত বৃষ্টি হলেও সারা দিনই মহানগরীর মণ্ডপগুলিতে ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। ছবি: রাজীব বসু।

যানবাহনের মধ্যে মেট্রোকে ভিড়ের চাপ সহ্য করতে হলেও শহরের বাদবাকি যানে  ভিড় তেমন ছিল না। আসলে কলকাতার অধিকাংশ নামীদামি পূজা মেট্রো স্টেশন থেকে খুব একটা দূরে নয়। উত্তরের বিখ্যাত পুজোগুলির সঙ্গে দক্ষিণের বিখ্যাত পুজোগুলির যোগাযোগ সব চেয়ে সহজ হয়েছে মেট্রোর দৌলতে।

তা ছাড়া যানজট এড়িয়ে কম সময়ে গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়ার সব চেয়ে ভালো মাধ্যম মেট্রো। তাই মানুষ এই পরিবহণ ব্যবস্থাটিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছেন। পুজা উপলক্ষ্যে মেট্রো চলাচলের সময়সীমাও বাড়ানো হয়েছে।

ইতিহাস কথা কয়

কলকাতার প্রাচীন পুজোগুলোর মধ্যে অন্যতম নিমতলা সর্বজনীন। এই পুজোতেই এ বার যেন কলকাতার ইতিহাস কথা বলছে। তাই থিমেরও নাম দেওয়া হয়েছে, ‘ইতিহাস কথা কয়!’

নিমতলা সর্বজনীনের মণ্ডপ। ছবি: শ্রয়ণ সেন।

উত্তর কলকাতা অর্থাৎ চিৎপুর অঞ্চল মানেই যে ব্যাপারগুলো আপনার মাথায় প্রথম আসবে সেগুলো হল চিৎপুরের যাত্রাপাড়া, বাঙালির জীবনে জড়িয়ে থাকা পঞ্জিকা, জুড়িগাড়ি, জোড়াসাঁকো এবং সন্নিহিত অঞ্চলের বিভিন্ন বনেদিবাড়ি, উত্তর কলকাতার ঐতিহ্যশালী বারান্দা-সহ বাড়ি এবং অবশ্যই রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

মণ্ডপসজ্জার ক্ষেত্রে বড়ো অবদান রেখেছেন বীথি কর। খবর অনলাইনকে তিনি বলেন, “চিৎপুরের গোটা ইতিহাসটা আমরা পটচিত্রের মধ্যে দিয়ে তুলে ধরার চেষ্টা করেছি।” শিল্পী দম্পতি সুমি এবং শুভদীপ মজুমদারের হাত ধরে সুন্দর ভাবে ফুটে উঠেছে গোটা ভাবনাটা।

বনেদি বাড়ির পুজো

শুধু মহানগরীর সর্বজনীন পূজামণ্ডপ গুলিতেই নয়, ভিড় হচ্ছে শহরের বনেদিবাড়ির পূজাগুলিতেও। দক্ষিণে সাবর্ণদের আটচালা বাড়ির পুজোই হোক, বা মধ্য কলকাতার রানি রাসমণির বাড়ির পুজো, কিংবা শোভাবাজারের দেবেদের বাড়ির পুজো, দর্শনার্থী সমাগমে কেউই কম যায় না।

প্রসাদের ডালি সাজিয়ে উত্তর কলকাতার বনেদিবাড়ি। ছবি: রাজীব বসু।

গত দু’ বছর কোভিড সংক্রমণের জন্য বনেদিবাড়ির পূজা দর্শনে অনেক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এ বছর আর সে সব নিষেধাত্মক নির্দেশ নেই। ফলে বনেদিবাড়ির পূজার এ বার অবারিত দ্বার। ফলে পুজোর জন্য খ্যাত কলকাতার বনেদিবাড়িতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ করা যাচ্ছে।

আরও পড়তে পারেন

সপ্তমীর রাতেও পুজোর প্ল্যানে জল ঢালবে বৃষ্টি? কী বলছে আবহাওয়ার পূর্বাভাস

ভ্রামণিকদের আকর্ষণ করছে একুশ পল্লীর উদ্ভাবনী থিম

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন