আজ মহানবমী: স্বাস্থ্যবিধি মেনেই অষ্টমীর রাতে মণ্ডপে মণ্ডপে চলেছে প্রতিমা দর্শন

0
মহাষ্টমীর কলকাতা।
মহাষ্টমীতে ঠাকুর দর্শন। ছবি: রাজীব বসু।

কলকাতা: গুপ্তপ্রেস পঞ্জিকা মতে বুধবার রাত ১১টা ৪৯ মিনিটের পরে আর বিশুদ্ধ সিদ্ধান্ত মতে রাত ৮টা ৮ মিনিটের পরেই পড়ে গেল নবমী। আর নবমী পড়া মানেই তো মনটা কেমন কেমন করা। ঘরের মেয়ের স্বামীর ঠিকানায় ফিরে যাওয়ার সময় যে ঘনিয়ে এল।

তিথি-নক্ষত্র যা-ই বলুক, বুধবার রাত শেষে সূর্যোদয়ের পরে মহানবমীর দিনক্ষণ গোনা শুরু হবে। আর মহানবমীর রাতে মণ্ডপে মণ্ডপে শোনা যাবে সেই বিখ্যাত গান – ‘নবমী নিশি রে তোর দয়া নাই রে, এত করে সাধিলাম, তবু হইলি ভোর…’।

নবমীর কথা থাক, আমরা অষ্টমীতেই থাকি। অষ্টমীর সকালে বাঙালি ব্যস্ত ছিল পুজো ও অঞ্জলি নিয়ে। তাই শহরের রাস্তাঘাট ছিল প্রায় শুনশান। সর্বজনীন পূজামণ্ডপে যাঁদের অঞ্জলি দেওয়ার অধিকার ছিল হাইকোর্টের নির্দেশমতো, তাঁরা অঞ্জলি দিয়েছেন। বেলুড় মঠ-সহ যেখানে যেখানে কুমারীপুজো হয়, সে সব জায়গায় স্বাস্থ্যবিধি মেনে কুমারীপুজো হয়েছে।

হাজরা পার্কের পুজোয় আরতি করছেন শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। ছবি: রাজীব বসু।

শহরের সকালের চেহারাটা আমূল বদলে গিয়েছে বিকেল থেকে। মানুষ বেরিয়ে পড়েছেন ঠাকুর দেখতে। করোনার ভয়ে মানুষ আর ঘরবন্দি থাকতে চাইছে না। তার দু’টো কারণ – প্রথমত, ভয় কাটানোর সাহস অর্জন করেছেন অনেকেই, আর দ্বিতীয়ত অনেকেরই একটি বা দুটি টিকা নেওয়া হয়ে গিয়েছে।

উত্তর থেকে দক্ষিণ – শহরের সব পূজামণ্ডপেই ভিড় হয়েছে। তবে সচেতন সবাই। মাস্কবিহীন অবস্থায় কাউকেই প্রায় দেখা যায়নি। কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনেই উৎসবের আনন্দ উপভোগ করছে বাঙালি। মণ্ডপ থেকে মণ্ডপে দল বেঁধে ঘোরাঘুরি হয়েছে, যাকে বলে প্যান্ডেল হপিং। তার সঙ্গে চলেছে দেদার আড্ডা আর খাওয়াদাওয়া। তবে সব কিছুই হয়েছে কোভিডবিধি মেনে।   

ঠাকুর দেখতে জনতার ভিড়। বুধবার সিঙ্গি পার্কে। ছবি: রাজীব বসু।

তবে শহরবাসীর এই আনন্দে কোনো কোনো জায়গায় একটু সেধেছে আবহাওয়া। বিক্ষিপ্ত ভাবে হালকা বৃষ্টি হয়েছে। তবে পুজোর আনন্দ উপভোগে তা ব্যাঘাত সৃষ্টি হয়নি।

পুজোর গত কয়েক দিন শহরের যে চেহারা ছিল, বুধবার তার সঙ্গে খুব একটা মিল ছিল না। মণ্ডপে ভিড় রোজই একটু একটু করে বেড়েছে। এ দিন বহু জায়গায় পুলিশকে ময়দানে নামতে হয়েছে ভিড় নিয়ন্ত্রণ করার জন্য।

সচেতনতা প্রচারে পুলিশ। বুধবার গড়িয়াহাট অঞ্চলে। ছবি: রাজীব বসু।

আর কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্য সারা শহর জুড়ে পুলিশ সর্বক্ষণ প্রচার চালিয়ে এসেছে। এ ব্যাপারে সর্বজনীন পূজাকমিটিগুলিও এ বার বেশ সতর্ক। মাস্ক ছাড়া কাউকেই মণ্ডপের কাছে আসতে দেওয়া হচ্ছে না। আর মাস্ক পরে থাকলেও প্রতিমা দর্শন করতে হচ্ছে বেশ দূর থেকে।

এ কথা নির্দ্বিধায় বলা যায়, কোভিড স্বাস্থ্যবিধি মেনেই শারদোৎসব চুটিয়ে উপভোগ করছে আমজনতা।

আরও পড়তে পারেন

আজ মহাষ্টমী, বেলুড় মঠে কুমারীপূজা সম্পন্ন, অঞ্জলির পর শুরু হবে ঠাকুর দেখা

৩৩ বছর ধরে চলছে বাহরাইন বঙ্গীয় সমাজের পুজো

পটলডাঙার বসুমল্লিক বাড়ির পুজোর এ বার ১৯১ বছর

অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুরের শিল্পকলায় সেজে উঠেছে জয়নগরের ১২৯টি পুজো মণ্ডপ

বড়িশা ক্লাবে এ বার ‘ভাগের মা’

হীরকজয়ন্তী বর্ষে লাইব্রেরি বানিয়ে বাবুবাগান শ্রদ্ধা জানাচ্ছে বাংলার মনীষীদের

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন