আজ ষষ্ঠী: পঞ্চমীর রাতে কলকাতার মণ্ডপগুলিতে অল্পস্বল্প ভিড়, মাস্ক পরে প্রতিমাদর্শন

0
পঞ্চমীর সন্ধ্যায় কলকাতা।
পঞ্চমীর সন্ধ্যায় একডালিয়া এভারগ্রিন। ছবি: রাজীব বসু।

কলকাতা: পঞ্চমীর কলকাতার ছবিটা গত বছরের মতো না হলেও খুব বেশি আলাদা নয়। মহানগরীতে পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। কিন্তু নামীদামি কয়েকটি পুজো ছাড়া খুব একটা ভিড় কোথাও চোখে পড়েনি।

পঞ্চমীর সন্ধ্যায় ঢুঁ মারা গেল দক্ষিণ কলকাতার নামী এবং ঐতিহ্যবাহী পুজো একডালিয়া এভারগ্রিনে। মুখ্যমন্ত্রীর হাত ধরে পুজোর উদ্বোধন হয়ে গিয়েছে তৃতীয়ার রাতে। পঞ্চমীর সন্ধ্যায় ভিড়ের যে ছবি দেখা গেল তা একেবারেই অচেনা। অন্যান্য সাধারণ পূজার তুলনায় এই ভিড় হয়তো বেশি, কিন্তু এভারগ্রিনের মানে তা নিতান্তই কম।   

মণ্ডপে ‘নো এন্ট্রি’। পঞ্চমীর সন্ধ্যায় একডালিয়া এভারগ্রিন। ছবি: রাজীব বসু।

গত বার করোনাভাইরাস ছিল অচেনা এক শত্রু। একটা ভয়ভীতি লোকের মধ্যে কাজ করেছিল। যার ফলে অনেকেই ঘর থেকে বের হননি। আর এ বার সেই শত্রু অনেকটাই চেনা। ঠাকুর দেখার জন্য ঘরের বাইরে পা রাখা মানুষের সংখ্যা এ বার নিঃসন্দেহে বেশি। তবে খুব বেশি নয়। আগের বছরগুলোতে তৃতীয়ার দিন থেকেই যে লাগামছাড়া ভিড় দেখা যায়, এ বার সে রকমটি দেখা গেল না পঞ্চমীর রাত পর্যন্ত।

আর একটি বিষয়। সুরক্ষাবিধি মেনে চললে যে এই শত্রুকে অনেকটাই ঠেকিয়ে রাখা যায়, তা সাধারণ মানুষ বুঝেছেন। তাই এ বার নিজেদের স্বাস্থ্যরক্ষার ব্যাপারে দর্শনার্থীদের অনেক বেশি সচেতন মনে হল। মাস্কের ব্যবহার এ বার যেন অনেক বেশি। মাস্ক ছাড়া প্রায় কাউকে দেখাই যায়নি। অনেকেই সঙ্গে স্যানিটাইজার রেখেছেন।   

উত্তর থেকে দক্ষিণ, কলকাতা শহরের পূজামণ্ডপ দেখতে হলে এবং প্রতিমা দর্শন করতে হলে প্রতিটি দর্শনার্থীকে বিভিন্ন সুরক্ষাবিধি মান্য করতে হচ্ছে। বহু মণ্ডপেই স্বেচ্ছাসেবকরা মাস্ক আর স্যানিটাইজার হাতে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। থার্মাল স্ক্রিনিং-এরও ব্যবস্থা করা হয়েছে কোথাও কোথাও।

সুরুচি সংঘের পুজো উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ছবি: রাজীব বসু।

কলকাতার পূজামণ্ডপগুলির উদ্বোধন শুরু হয়ে গিয়েছিল মহালয়ার পরদিন প্রতিপদ থেকেই। চতুর্থী পর্যন্ত বিভিন্ন পূজামণ্ডপের উদ্বোধন হয়েছে। আর এ ব্যাপারে সব চেয়ে বেশি ব্যস্ত ছিলেন রাজ্যের মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রবিবার পঞ্চমীর দিন শহরের বাদবাকি অধিকাংশ পূজামণ্ডপের উদ্বোধন হয়। এ দিনও মুখ্যমন্ত্রী পূজা উদ্বোধনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন।

গত বছর কোভিড নিয়ে হাইকোর্টের নির্দেশিকা এসেছিল একেবারে শেষ মুহূর্তে। তত দিনে সর্বজনীন পূজাগুলির কাজ প্রায় শেষ হয়ে গিয়েছিল। হাইকোর্টের নির্দেশ মেনে চলতে তড়িঘড়ি অনেক ব্যবস্থা নিতে হয়েছিল। কিন্তু এ বার হাইকোর্টের রায় এসেছে অনেক আগেই। আর হাইকোর্ট কী রায় দিতে পারে সে ব্যাপারে সর্বজনীন পূজাগুলির একটা মানসিক প্রস্তুতিও ছিল। তাই এ বারের কলকাতার পুজো অনেক বেশি গোছালো মনে হয়েছে।

দক্ষিণ শহরতলিতে পাটুলি সর্বজনীনের মেলায় অল্পস্বল্প ভিড়। ছবি: শ্রয়ণ সেন।

পূজামণ্ডপের ভিতরে প্রবেশ একেবারেই নিষিদ্ধ। ছোটো ও বড়ো পূজা মণ্ডপগুলির ক্ষেত্রে হাইকোর্ট যে দুরত্ব বেঁধে দিয়েছে, তা সর্বত্র অক্ষরে অক্ষরে পালন করা হচ্ছে। মানা হচ্ছে স্বাস্থ্যবিধিও। এবং বেশির ভাগ মণ্ডপই চার দিক খোলা।  

থিম আবার ফিরে এসেছে। এ বারের দুর্গাপূজায় নানা ধরনের থিম দেখা যাচ্ছে। তার মধ্যে কোভিড সম্পর্কিত থিমও রয়েছে। যেমন, তেলেঙ্গাবাগানের ‘অক্সিজেন প্ল্যান্ট’। মণ্ডপে ঢুকলে মনে হবে যেন একটা অক্সিজেন প্ল্যান্টে পৌঁছেছেন আপনারা। মানুষের জীবন বাঁচানোর জন্যই শুধু নয়, শিল্প হিসাবে একটা অক্সিজেন প্রকল্প যে অত্যন্ত কার্যকর হয়ে উঠতে পারে, সেটাই বোঝানোর চেষ্টা হয়েছে তেলেঙ্গাবাগানের থিমে।

করোনার বিধিনিষেধ মানা প্রসঙ্গে তেলেঙ্গাবাগানের অফিস সেক্রেটারি অমৃত সাউ জানালেন, মাস্ক ছাড়া কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। প্রবেশপথে থার্মাল গান দিয়ে পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং হাতে স্যানিটাইজার দিয়ে দর্শনার্থীদের মণ্ডপে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে। তবে মূল মণ্ডপে কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।        

গড়িয়ার জনপ্রিয় প্রাচীন পুজো কানুনগো পার্কে নামমাত্র দর্শক। ছবি: শ্রয়ণ সেন।

দক্ষিণ কলকাতার অন্যতম জনপ্রিয় বাবুবাগানের পূজা। স্বাধীনতা-পূর্ব কালে এবং স্বাধীনতোত্তর কালে বাংলার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নে যে সব মনীষীর অবদান রয়েছে, তাঁদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বানানো হয়েছে লাইব্রেরি। মণ্ডপে ঢুকলে মনে হবে আপনি একটা বিশাল লাইব্রেরিতে ঢুকেছেন। সেই লাইব্রেরিতে রয়েছে সেই সব মনীষীর লেখা বই এবং তাঁদের সম্পর্কে লেখা বই।  

এ বছরও তাঁরা সাধারণ দর্শনার্থীদের সুরক্ষার কথা মাথায় রেখে স্যনিটাইজারের ব্যবস্থা করেছেন, রয়েছে থার্মাল স্ক্রিনিংএর ব্যবস্থাও। এ ছাড়া দর্শনার্থী প্রবেশেও রয়েছে কড়াকড়ি।

পল্লি উন্নয়ন সমিতির পুজো। ছবি: রাজীব বসু।

থিম প্রসঙ্গে আলোচনায় অবশ্যই উঠে আসবে পশ্চিম পুটিয়ারির পল্লি উন্নয়ন সমিতির কথা। এ বার তাদের পুজোর থিম ‘অধিকার’। তেলঙ্গানা রাজ্যের সীমানা ঘেঁষে ওড়িশায় বাস করে সৌরা উপজাতি। তাদের শিল্পকলা ৬০০ বছরের প্রাচীন।

এই শিল্পকলায় তারা সমানাধিকারের বিষয়টি সুন্দর ভাবে ফুটিয়ে তোলে, যে সমানাধিকারের চর্চা চলে তাদের প্রাত্যাহিক জীবনে, তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডেও। এই সৌরা-শিল্পকলার সঙ্গেই সাধারণ মানুষকে পরিচিত করানো হচ্ছে পল্লি উন্নয়ন সমিতির পূজা থিমে।

আরও পড়তে পারেন

বড়িশা ক্লাবে এ বার ‘ভাগের মা’

পুজোর জন্য পশ্চিমবঙ্গে আরও কিছুটা শিথিল হল করোনাজনিত বিধিনিষেধ

হীরকজয়ন্তী বর্ষে লাইব্রেরি বানিয়ে বাবুবাগান শ্রদ্ধা জানাচ্ছে বাংলার মনীষীদের

দুর্গাপুজোর মণ্ডপসজ্জায় ‘রাজনৈতিক ইস্যু’, পুজো কমিটিকে আইনি নোটিশ

নোটিশ পেয়েও জুতো সরাতে নারাজ পুজো কমিটি, আইনি পথেই জবাব

অক্সিজেন প্রকল্প যে কত জরুরি সেই ভাবনাই তুলে ধরা হচ্ছে ৫৬তম বর্ষে তেলেঙ্গাবাগানের পুজোয়

পশ্চিম পুটিয়ারির পল্লি উন্নয়ন সমিতির পুজোয় এ বার ৬০০ বছরের প্রাচীন সৌরা চিত্রকলা

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন