kolkata bus accident
pradip hazra
প্রদীপ হাজরা
বিশ্বজিৎ ভুঁইয়া
জন্ম – ১৮ ডিসেম্বর, ১৯৯৮  চির বিদায় – ৩ ফেব্রুয়ারি, ২০১৮
গত বৃহস্পতিবার রাতেও মোহনবাগান বনাম লাজংয়ের ম্যাচ নিয়ে অনেক কথাই হয়েছিল। পাহাড়ে গিয়ে মোহনবাগান কি স্বমহিমায় ফিরে আসবে? পত্ পত্ করে কি উড়বে নৌকার পাল?  কত কী প্রশ্ন আর আলোচনায় উঠে আসা হরেক উত্তর।
শুধু ওই বৃহস্পতিবারই নয়, নিয়মিত ফেসবুকে উঠত আলোচনার ঝড়। মোহনবাগানকে বুকের খাঁজে আটকে নেওয়া বিশ্বজিতের নখদর্পণে থাকত তাঁর প্রিয় ক্লাবের সমস্ত ঘটনা। ফেসবুকে আগাম খবর দিয়ে তো কখনও-সখনও তাক লাগিয়েও দিতেন।
বঙ্গবাসী কলেজের প্রথম বর্ষের ছাত্র,  কট্টর মোহনবাগান সমর্থক বিশ্বজিৎ জানতেই পারলেন না তাঁর প্রাণের ক্লাব শনিবার সন্ধ্যায় ইস্টবেঙ্গলকে পিছনে ফেলে তিন নম্বরে উঠে এল। কারণ তার আগেই যে সকাল সোয়া এগারোটা নাগাদ সাঁতরাগাছি-নিউটাউন রুটের একটা রাক্ষুসে বাস নির্মম ভাবে তাঁকে পিষে দিয়ে গেছে। না, মুখ তুলে তাকানোর মতো ন্যূনতম শক্তিটুকুও তাঁর ছিল না। তাঁর সঙ্গেই ছিল বন্ধু সঞ্জয়, তিনিও আর নেই।
বিশ্বজিতের সঙ্গে আমার পরিচয় ফেসবুকেই। কিন্তু ফুটবল পাগল বিশ্বজিতের আবেগ ফেসবুকের দেওয়াল ডিঙিয়ে আমাদের সম্পর্কটাকে অনেক বেশি কাছাকাছি নিয়ে চল এসেছিল। ওই যে আবেগের সঙ্গে আবেগের মিশেলে যা হয় আর কী! সকালে খবরটা টিভিতে দেখে প্রথমে ঠাওর করে উঠতে পারেনি। কিন্তু বেলা গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যত বেশি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে চিংড়িঘাটা, ততই যেন ওঁর মুখটা আমার কাছে স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে।
এখনও ওঁর ফেসবুক পেজটা আমার মোবাইলে ভাসছে। মনে হচ্ছে টাইপ করি- বিশ্বজিৎ, দেখুন আমাদের পালতোলা নৌকার পাল কেমন জোরসে উড়ছে। দেখতে পাচ্ছেন বিশ্বজিৎ, আমাদের ডিকা, আক্রম, ফৈয়াজ কেমন তিন-তিনটে গোল পুরে দিল লাজংয়ের গোলে। ওরা কিন্তু শূন্যই রয়ে গেছে। আর আপনি?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here