Connect with us

কলকাতা

ওলা, সুইগি, উবেরের প্রথম মহিলা চালক রূপার দিদিগিরি

সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নানান সামগ্রী সরবরাহের কাজের পর যাত্রী পরিবহণের কাজ করেন।

Published

on

Rupa Chowdhury
রূপা চৌধুরী।

অর্ণব দত্ত

পিচবোর্ডে ফুটো করে আলোর সরলরেখা বরাবর চলনের এক্সপেরিমেন্ট স্কুলে পড়ার সময় সকলকেই করতে হয়েছে।মানুষের জীবন আলোর বার্তাবহ। তাৎপর্যপূর্ণ এই কথাটাও সকলেই জানি। কিন্তু আলো কি সহজে আসে? নাকি পিচবোর্ডের সেই এক্সপেরিমেন্টের মতো পরীক্ষানিরীক্ষা চালাতে হয় জীবনে আলো প্রবেশ করাতে?

পরীক্ষানিরীক্ষা ছাড়া জীবনের কোনো মানেই হয় না। কিন্তু জীবনকে নিয়ে পরীক্ষা চালানোর সাহস ক’ জনের আছে? তা ছাড়া ব্যাপারটা শুধু সাহসের নয়, জীবনকে আলোকিত করা মুখের কথা নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা গুণের সমাহার। যেমন, সহ্যশক্তি, সততার সঙ্গে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মনোবলের মতো আনুষঙ্গিক বিষয়।

রূপা চৌধুরী (Rupa Chowdhury) সম্পর্কে বলতে গিয়ে এই কথাগুলি বলতেই হল। রূপা লড়াইয়ের প্রতীক বলা যায়। রূপার জীবনসংগ্রামের কাহিনি শুধুমাত্র মহিলাদেরই নয়, প্রেরণা দিতে পারে যে কোনো লড়াকু মানুষকে।

বয়স ত্রিশ পেরিয়েছে রূপার।আর জীবনসংগ্রাম চালাতে গিয়ে এই বয়সেই দৃষ্টান্ত তৈরি করেছেন। সুইগি (Swiggy), ওলা (Ola), উবেরের (Uber) প্রথম মহিলা ড্রাইভার তিনি। ২০১৮ সাল থেকে এ কাজ করছেন। বর্তমানে ওলা, উবেরের মাধ্যমে যাত্রী পরিবহণের কাজও করেন। সকাল আটটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত নানান সামগ্রী সরবরাহের কাজের পর যাত্রী পরিবহণের কাজ করেন। বলা বাহুল্য, এ জন্য অমানুষিক পরিশ্রম করতে হয় প্রতি দিন।

রূপার জীবনটা রুক্ষ হয়ে যায় বিয়ের পরপরই। রূপা জানালেন, ২০০৮ সালে অবস্থাপন্ন পাত্র খুঁজে মেয়ের বিয়ে দিয়েছিলেন বাবা। কিন্তু বিয়ের কিছু দিন পর থেকে বারাসতে শ্বশুরবাড়িতে লাগাতার অত্যাচারের শিকার হন। তত দিনে রূপা এক পুত্রসন্তানের মা বনে গিয়েছেন। তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে সময় লাগছিল। রূপা বললেন, “শেষে ছেলেকে কেড়ে নিয়ে ওরা আমায় তাড়িয়ে দিল।”

এ দিকে ২০০৬ সালে রূপার বিয়ের দু’ বছর আগে ওর মায়ের মৃত্যু হয়েছে। দুই দিদির মধ্যে একজন ২০১৮ সালে মারা গিয়েছেন। আর বাবার মৃত্যু হয়েছে ২০১৯ সালে।সাকুল্যে সাড়ে তিন বছর শ্বশুরবাড়িতে ছিলেন রূপা। এর পর টের পান, তাঁকে নিজের লড়াই নিজেকেই লড়তে হবে।

রূপা জানালেন, প্রথম দিকে টুকিটাকি কাজ করতেন। যেমন মশলা বিক্রি। কিন্তু তাতে আয় এত সামান্য যে একা মানুষেরই দিন চলত না। কিন্তু তখনও বাবা আর দিদি বেঁচে। তাই ভরসা একটা ছিল। বাবা ছিলেন ব্যবসায়ী।

লড়াকু রূপা।

রূপা জানালেন, এর পর কাজের খোঁজে হন্যে হয়ে ঘুরতে ঘুরতে ২০১৮ সালে তিনি ওলা, সুইগির সঙ্গে যুক্ত হন। রীতিমতো ইন্টারভিউ দিতে হয়েছিল। সম্বল বলতে ছিল মনের জোর আর একটি স্কুটি।

২০০৮ সালে বাবার দেখা পাত্রকে বিয়ের সময় কলেজে পড়ছিলেন রূপা। এর পরই জড়িয়ে পড়লেন নানা ঘাত-প্রতিঘাতের সঙ্গে। এক দিদি জীবিত। রূপা জানালেন, তিনি বোনের কোনো খবর রাখেন না।

বর্তমানে রূপা একটি বাড়িভাড়া নিয়ে বাঘাযতীন এলাকায় বসবাস করেন। একা থাকতে তেমন কোনো অসুবিধা হচ্ছে না? রূপার কথায়, পাড়ার লোকজন আমায় ভালোবাসেন, সম্মান করেন।

রূপা বললেন, “আমার দু’জন বন্ধুর কথা অবশ্যই লিখবেন।” অপর্ণা দাস আর শ্রেয়শ্রী ব্যানার্জি নামে দুই তরুণীর নাম জানালেন রূপা। এ-ও জানালেন, দু’ জনেই তাঁর বিপদের সাথী।

শিশুসন্তান সায়ন্তনের সঙ্গে মায়ের যোগাযোগ ঘটে মাঝেমাঝে। রূপা বললেন, সে কাজটা ফোনেই সারতে হয়। কারণ শ্বশুরবাড়িতে ঢোকার উপায় নেই। শ্বশুরবাড়িতে এত অত্যাচারিত হয়েও স্থানীয় পুলিশের অসহযোগিতায় তিনি ন্যায্য বিচার পাননি বলে অভিযোগ রূপার।

ইতিমধ্যেই রূপা পরিচিত মুখ। বিভিন্ন টিভিশোতে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত হয়েছেন। আমন্ত্রিত হয়েছিলেন দিদি নম্বর ওয়ানেও। রূপার দিদিগিরি অনেক মানুষকে জীবনে চলার পথে অবশ্যই প্রেরণা দেবে।

রূপা ভালোবাসেন পাখি। রূপার বাড়িতে পা রাখলে অনেক পাখির গুঞ্জন শোনা যায়। ইচ্ছেডানায় ভর করে রূপাও তাঁর পোষ্যদের সঙ্গে পাড়ি দেন অনাগত ভবিষ্যতের দিকে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

ঘরের চৌকাঠ পেরিয়ে এগিয়ে চলেছেন পার্ক সার্কাসের তিন মুসলিম তরুণী

কলকাতা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে এ বার আর বিজয়া সম্মিলনী নয়

নেতা-কর্মীদের ফোনে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরামর্শ দেন পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

Published

on

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ফাইল ছবি

কলকাতা: মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) বাড়িতে এ বছরে বিজয়া সম্মিলনীর আয়োজন করছে না তৃণমূল কংগ্রেস (TMC)। করোনাভাইরাস মহামারির (Coronavirus pandemic) কারণেই তৃণমূল সুপ্রিমোর বাড়িতে প্রতিবছরের মতো বিজয়া দশমীর জমায়েত বাতিল করেছে দল।

তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় শুক্রবার জানান, করোনা পরিস্থিতিতে এ বার কালীঘাটে বিজয়া সম্মিলনী বাতিল করা হয়েছে। পাশাপাশি দলের নেতা-কর্মীদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, বিজয়া দশমী পালনের সময় কোভিডবিধির কথা মাথায় রাখেন। তাঁরা যেন শারীরিক দূরত্ব বজায় রেখে বিজয়া দশমী পালন করেন।

বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে এক জায়গায় মিলিত না হয়ে নেতা-কর্মীদের ফোনে বিজয়ার শুভেচ্ছা বিনিময়ের পরামর্শ দেন পার্থবাবু।

পাশাপাশি তিনি বলেন, আমরা জানি প্রতিবছর এই দিনটিতে অসংখ্য মানুষ তাঁর (মুখ্যমন্ত্রীর) কালীঘাটের বাড়িতে জড়ো হন শুভেচ্ছা জানাতে। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্যসুরক্ষা বিধির কথা মাথায় রেখে মুখ্যমন্ত্রী এই ধরনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে পারবেন না।

বিজয়া দশমীতে শুভেচ্ছা বিনিময়ের পাশাপাশি মিষ্টি মুখের ব্যবস্থা থাকে কালীঘাটে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে। কিন্তু এ বারের নিউ নরমাল দুর্গোৎসবে অতিথিদের জন্য দলনেত্রীর বাড়ির দরজা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল।

এ বারের পুজোর আনন্দে কোপ পড়েছে করোনার। হাইকোর্টের রায়ে ‘মণ্ডপ দর্শকশূন্য’ রাখার নির্দেশে দর্শনার্থীদের পাশাপাশি হা-হুতাশ পুজো উদ্যোক্তাদের মনেও। অন্য়ান্য বছরের মতো রাস্তায় সেই চেনা ঢেউ না থাকলেও নিয়মবিধি মেনেই দূর থেকেই প্রতিমা দর্শনের চেষ্টা করছে একাংশ। এমন পরিস্থিতিতে মুখ্যমন্ত্রীর বাড়িতে বিজয়া সম্মিলনী বাতিল করার সিদ্ধান্তেও রয়েছে তারই রেশ।

আরও পড়তে পারেন: এ বছর বিসর্জনে বিলম্ব করতে চায় না কলকাতার অধিকাংশ পুজো কমিটি

Continue Reading

কলকাতা

বারোয়ারি পুজোর মতো বনেদিবাড়ির পুজোতেও নানা বিধিনিষেধ

কোথাও সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আবার কোথাও দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারছেন তবে রয়েছে নানা বিধিনিষেধ।

Published

on

হরিঘোষ স্ট্রিটে পালবাড়ির দুর্গাপ্রতিমা।

শুভদীপ রায় চৌধুরী

পুজো শুরু হয়ে গিয়েছে। বহু দিনের অপেক্ষার পর ঘরের মেয়ে এসে গিয়েছেন তাঁর বাপের বাড়িতে সপরিবার। উমার আরাধনায় মেতে উঠেছে গোটা কলকাতা-সহ বঙ্গদেশ।

তবে এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে বনেদিবাড়িতেও দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন নিয়মকানুন। কোথাও সাধারণ দর্শনার্থীদের প্রবেশ সম্পূর্ণ ভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে, আবার কোনো কোনো বনেদিবাড়িতে দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারছেন তবে রয়েছে নানা বিধিনিষেধ।

দর্শনার্থীহীন শোভাবাজার রাজবাড়ি।

কলকাতার বনেদি দুর্গাপুজোর মধ্যে অন্যতম শোভাবাজার রাজবাড়ির পুজো। তবে এ বছর শোভাবাজার রাজবাড়িতে (গোপীনাথ বাড়ি) সাধারণ দর্শনার্থীরা প্রবেশ করতে পারছেন না। তাঁদের শোভাবাজারের দেবীপ্রতিমা দর্শন করতে হলে রাজবাড়ির ফেসবুক পেজের মাধ্যমে দর্শন করতে হবে। প্রতি বছর যে ভাবে দর্শনার্থীদের ঢল নামে, এ বছর সেই চেনা ছবি দেখা যাচ্ছে না শোভাবাজার রাজবাড়ির ঠাকুরদালানে।

১৭৫৭ সালে রাজা নবকৃষ্ণ দেব প্রথম শুরু করেছিলেন রাজবাড়ির পুজো। তার পর তাঁর পুত্র রাজা রাজকৃষ্ণ দেবের জন্ম হলে নবকৃষ্ণ তাঁর পুত্রের জন্য আরও একটি প্রাসাদ নির্মাণ করেন এবং সেই বাড়িতে ১৭৯০ সালে দুর্গাপুজো শুরু হয়। শোভাবাজার বড়ো রাজবাড়িতে সাধারণের প্রবেশের অধিকার থাকলেও নাটমন্দিরে প্রবেশের অধিকার নেই।

অপর দিকে হরকুটির রায়বাড়িতেও এ বছর কোনো সাধারণ দর্শনার্থীর প্রবেশাধিকার নেই জানালেন অর্চিষ্মান রায় ব্যানার্জি। তিনি আরও জানালেন, এ বছর পুষ্পাঞ্জলি হবে না। বাড়ির সদস্যদের দিতে হবে ফুল ছাড়া অঞ্জলি। অর্থাৎ ঠাকুরমশাই দালান থেকে মন্ত্রপাঠ করবেন আর সদস্যরা উঠোন থেকে দাঁড়িয়ে মায়ের কাছে প্রার্থনা করবেন। এই বাড়ির ঠাকুরদালানে এবং আর ঢাকি আসেনি তাই যন্ত্রচালিত ঢাকই ব্যবহার করা হবে ও বিগ্রহের উচ্চতাও কিছুটা কমানো হয়েছে এবার।

হরকুটির রায়বাড়ির দুর্গাপ্রতিমা।

হরকুটির রায়বাড়িতে আজও গেলে দেখতে পাওয়া যাবে দেবীর বেদির নীচে রয়েছে সুতানুটি গ্রামের মাটি। অতীতে দেবীকে মাটির গোবরের বেদিতে বসিয়ে আরতি করা হত। হরকুটির নাম হওয়ার পেছনেও রয়েছে একটি বিশেষ কারণ। এই বাড়িতে দেবী দুর্গার পাশাপাশি সারা বছর সেবা হয় হরি এবং হরের। তাই এই বাড়ির নাম হরকুটির।

কথায় কথায় জানা গেল বর্তমান বসতবাড়িটির বয়স ২৭৭ বছর তবে। যখন গ্রামের বাড়ি ছিল তখনও দুর্গাপুজো হত। সেই হিসাব করলে দেখা যাবে হরকুটির রায়বাড়ির পুজোর বয়স ৩৩৯ বছর।

উত্তর কলকাতার হরিঘোষ স্ট্রিটে পালবাড়ির পুজোতেও এ বার রয়েছে নানা বিধিনিষেধ। আত্মীয়পরিজন ছাড়া এ বার সাধারণ মানুষের অনুমতি নেই ঠাকুরদালানে প্রবেশ করার। এ বছর এই বাড়ির দেবীপ্রতিমাও উচ্চতায় ছোটো করা হয়েছে।

এই বাড়ির সদস্য বীরেন্দ্রনাথ পাল বললেন, অতীতে এই বাড়িতে ঘটপূজা হত তবে বর্তমানে মূর্তিপুজোই হয়। বাড়ির মহিলা সদস্যারা সকলে মিলে দেবীর নৈবেদ্যভোগ সাজান, এ বাড়িতে অন্নভোগ হয় না। প্রতি বছর দর্শনার্থীরা উপস্থিত হন পালবাড়িতে। তবে এ বছর সেই সুযোগ তাঁরা পাবেন না বলেই জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

সাবর্ণদের দুর্গাপ্রতিমা।

সাবর্ণদের বাড়িতেও রয়েছে সাধারণ দর্শনার্থীদের জন্য নানা সুরক্ষাবিধি। কলকাতার প্রাচীনতম দুর্গাপুজো আজও নিষ্ঠার সঙ্গে আয়োজিত হয় বড়িশায় সাবর্ণ রায় চৌধুরী বাড়িতে। এ বছর তাঁদের পুজো ৪১১তম। তবে প্রতি বছর দূরদূরান্ত থেকে দর্শনার্থীরা আসেন রায় চৌধুরী বাড়িতে। কিন্তু এ বছর তাঁদের ঠাকুরদালানে প্রবেশের অধিকার নেই। দূর থেকেই দর্শন করতে হবে এ বার জগত্তারিণী দুর্গাকে।

বর্তমানে ৮টি দুর্গাপুজো হয় এই বাড়িতে। বড়িশাতে ছ’টি (আটচালা, বড়োবাড়ি, মেজোবাড়ি, মাঝেরবাড়ি, কালীকিঙ্করবাড়ি এবং বেনাকিবাড়ি), বিরাটিবাড়ি ও   নিমতাবাড়িতে। তবে বড়োবাড়ির পুজো এ বার অন্নপূর্ণা মন্দিরে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ বছর আটচালা বাড়ি থেকে ভোগ বিতরণ বন্ধ রয়েছে। বন্ধ রয়েছে সাধারণের প্রবেশও।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

মহাসপ্তমীতে কলকাতা মহানগরীর অচেনা ছবি

Continue Reading

কলকাতা

মহাসপ্তমীতে কলকাতা মহানগরীর অচেনা ছবি

পুজোর বাজারে যে ভিড় হয়েছিল, সপ্তমীর দিন তার নামমাত্র ভগ্নাংশ বেরিয়েছে মহানগরীর পুজো দেখতে। এবং যাঁরা বেরিয়েছেন তাঁরা সকলেই মাস্ক পরে দূরত্ব রেখে সুরক্ষাবিধি মানার চেষ্টা করছেন।

Published

on

মহাসপ্তমীর বিকেলে ফরোয়ার্ড ক্লাবের মণ্ডপের সামনে।

বিশেষ প্রতিনিধি: দুর্গাপুজোয় মহানগরীর এমন চেহারা কবে দেখেছি মনে পড়ে না। গত শতকের ষাটের দশক থেকে নেই নেই করে অনেক পুজোই তো জ্ঞানত পেরিয়ে এলাম, কিন্তু মহাসপ্তমীতে শহরের এমন শুনশান পথঘাট? উঁহু, আগে কখনও দেখিনি।

সকালে বেরিয়ে পড়েছিলাম, কলকাতা থেকে কিছুটা দূরে হাওড়ার আমতার কাছে মা সারদার পূজা দর্শনে। স্বামী বিবেকানন্দ মা সারদাকে ‘জ্যান্ত দুর্গা’ বলতেন। স্বামীজির সেই অনুভূতিকে অনুসরণ করেই আমতার কাছে খড়িয়পে শ্রীরামকৃষ্ণ প্রেমবিহার আশ্রমে সারদাদুর্গার পূজা করা হয় অর্থাৎ এখানে শ্রীশ্রীমা দুর্গা রূপে পূজিত হন।

কলকাতা একেবারে দক্ষিণ প্রান্ত থেকে আমতা যাওয়ার পথ ছিল ইএম বাইপাস, মা ফ্লাইওভার, দ্বিতীয় হুগলি সেতু, কোনা এক্সপ্রেসওয়ে, বোম্বে রোড এবং আমতা রোড হয়ে। যাওয়ার পথে সায়েন্স সিটি পর্যন্ত বাইপাসের উপরে যে ক’টি পুজো চোখে পড়ল, সেখানে সপ্তমীর সকালের কোনো ক্রিয়াকলাপ দেখা গেল না। কোনো কোনো মণ্ডপ একেবারেই ফাঁকা, কোনো কোনোটায় দু’ চার জন রয়েছেন, তবে তাঁরা দর্শনার্থী নন, পূজা আয়োজক। খোঁজ নিয়ে জানা গেল, সপ্তমীপুজো সম্পন্ন হয়েছে, তবে অঞ্জলি প্রদানের কোনো ব্যবস্থা রাখা হয়নি।

এ বার দুটি পঞ্জিকা মতেই প্রতি দিনই পুজো খুব সকাল সকাল হয়ে যাচ্ছে। খুব সকালে বেরোলে হয়তো মণ্ডপে মণ্ডপে পুজোর কিছু কাজ দেখা যেত। কিন্তু একটু বেলা হতেই সব ফাঁকা। আজ শুক্রবার, দুর্গাপূজার মহাসপ্তমী। কিন্তু মণ্ডপ একেবারে নিরিবিলি।

মহাসপ্তমী, বিকেল সোয়া ৪টের একটু পরে। হাজরা রোড ও হরিশ মুখার্জি রোডের ক্রসিং-এ।

ফেরার সময় ভেবেছিলাম, শহরের ছবিটা হয়তো একটু পালটাবে। খড়িয়পের আশ্রম থেকে বেরিয়ে যখন কলকাতার কাছাকাছি চলে এসেছি, তখন পুরো বিকেল। অন্যান্য বার এই সময়, বোম্বে রোডে, কোনা এক্সপ্রেসওয়েতে কলকাতাগামী বহু টু-হুইলার চোখে পড়ে, যার বেশির ভাগেরই গন্তব্য থাকে কলকাতার পুজোমণ্ডপ। এ বার সেই টু-হুইলার প্রায় চোখেই পড়ল না।

দ্বিতীয় হুগলি সেতুতে টোল দেওয়ার জন্য গাড়ির কোনো লাইনই নেই। কাউন্টার একেবারে ফাঁকা। সেতু থেকে নেমে হরিশ মুখার্জি রোডে ঢোকার আগে কোনো সিগন্যালে দাঁড়াতে হল না।

হরিশ মুখার্জি রোডে বেশ কয়েকটা পুজো আছে। তার মধ্যে মুক্তদল, ২৩ পল্লি বেশ বিখ্যাত। রাস্তা থেকেই দেখলাম মুক্তদলের মণ্ডপ। দর্শনার্থী প্রায় নেই। ২৩ পল্লির মন্দিরও ফাঁকা। হাজরা রোড পেরিয়ে ফরোয়ার্ড ক্লাবের পুজো। এক সময় বেশ রমরম করে পুজো হত এই ক্লাবের। এ বারে যেন বেশ ম্রিয়মাণ, করোনার কারণে কি না জানি না।

মহাসপ্তমী, বিকেল প্রায় সাড়ে ৪টে। রাসবিহারী থেকে টালিগঞ্জগামী রাস্তায় মুদিয়ালি মোড়ের কাছে।

মহিম হালদার স্ট্রিট ধরে এগোতেই বাঁ দিকে পড়ল সঙ্ঘশ্রীর পুজো। হাতে গোনা দর্শনার্থী। ইচ্ছে ছিল বাদামতলা আষাঢ় সংঘ, ৬৬ পল্লি আর নেপাল ভট্টাচার্য স্ট্রিটের পুজো একযোগে যে ‘ড্রাইভ-ইন-দর্শন’-এর ব্যবস্থা করেছে, তার সুযোগ নিয়ে গাড়িতে বসে ঠাকুর দেখব। তা আর হল না। বাদামতলা আষাঢ় সংঘের রাস্তায় ‘নো-এন্ট্রি’। নামমাত্র কিছু দর্শনার্থী হেঁটে চলেছেন মণ্ডপের দিকে। একই দৃশ্য মুদিয়ালির রাস্তায়।

সাদার্ন অ্যাভেনিউ ধরে সোজা চলে এলাম গোলপার্ক। তার পর ঢাকুরিয়া ব্রিজ পেরিয়ে বাবুবাগান, ৯৫ পল্লি, সেলিমপুর পল্লি ও যোধপুর পার্কের পুজোকে ডাইনে-বাঁয়ে রেখে একেবারে অবাধে এগিয়ে চললাম যাদবপুর পেরিয়ে আমাদের গন্তব্যের পথে।

যাদবপুরে সুকান্ত সেতুর পাশে ‘তরুণ সাথী’র পুজো।

রাস্তায় কোনো জ্যাম নেই, মণ্ডপে কোনো ভিড় নেই। কোনো মণ্ডপে প্রবেশাধিকার নেই, সব বাঁশ দিয়ে আটকানো। পুজোর বাজারে যে ভিড় হয়েছিল, সপ্তমীর দিন তার নামমাত্র ভগ্নাংশ বেরিয়েছে মহানগরীর পুজো দেখতে। এবং যাঁরা বেরিয়েছেন তাঁরা সকলেই মাস্ক পরে দূরত্ব রেখে সুরক্ষাবিধি মানার চেষ্টা করছেন।

বোঝাই যাচ্ছে, কলকাতা হাইকোর্টের রায় কাজে দিয়েছে।

খবরঅনলাইনে আরও পড়ুন

কাশীবোস লেনে ‘দেবীঘট’, হাতিবাগানে ‘অসমাপ্ত’, নলীন সরকারে ‘পুজো এবার কাঠামোতে’, নর্থ ত্রিধারার ‘শ্রদ্ধার্ঘ্য’, সিকদারবাগানে ‘উৎসব’

Continue Reading

Amazon

Advertisement
দেশ22 mins ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৫০১২৯, সুস্থ ৬২০৭৭

currency notes
শিল্প-বাণিজ্য37 mins ago

মোরাটোরিয়াম: কয়েক দিনের মধ্যেই অ্যাকাউন্টে বাড়তি সুদের টাকা ফেরত পাবেন গ্রাহক

দেশ1 hour ago

কোভ্যাকসিনের ট্রায়াল শেষ হতে পারে এপ্রিলের পর, তবে জরুরি ব্যবহারের সম্ভাবনা তার আগেই!

বিদেশ2 hours ago

কোভিড আক্রান্ত হওয়ার পর ক্ষমা চেয়ে নিলেন পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট

ক্রিকেট10 hours ago

নাটকীয় প্রত্যাবর্তন! হারের দরজা থেকে জয় ছিনিয়ে নিল পঞ্জাব

খাওয়াদাওয়া11 hours ago

মহানবমীতে পেঁয়াজ রসুন ছাড়া নিরামিষ পাঁঠার মাংস

শরীরস্বাস্থ্য11 hours ago

শ্বাসকষ্ট কেন হয়? জেনে নিন ৯টি কারণ

দুর্গা পার্বণ12 hours ago

দুর্গোৎসব বাংলাদেশে: রাজধানীর সব চেয়ে বড়ো দুর্গাপূজার আয়োজন রমনা কালীমন্দিরে

দেশ22 mins ago

কোভিড আপডেট: নতুন করে আক্রান্ত ৫০১২৯, সুস্থ ৬২০৭৭

রাজ্য3 days ago

সপ্তমীর দুপুরে সুন্দরবনে আঘাত হানবে অতি গভীর নিম্নচাপ, ভারী বর্ষণে ভাসতে পারে কলকাতা ও পার্শ্ববর্তী জেলা

কলকাতা2 days ago

কাশীবোস লেনে ‘দেবীঘট’, হাতিবাগানে ‘অসমাপ্ত’, নলীন সরকারে ‘পুজো এবার কাঠামোতে’, নর্থ ত্রিধারার ‘শ্রদ্ধার্ঘ্য’, সিকদারবাগানে ‘উৎসব’

ক্রিকেট2 days ago

হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভরতি কপিল দেব

covaxin
দেশ2 days ago

ভারত বায়োটেকের ‘কোভ্যাকসিন’কে তৃতীয় দফার পরীক্ষার জন্য ছাড়পত্র

কলকাতা1 day ago

মহাসপ্তমীতে কলকাতা মহানগরীর অচেনা ছবি

ক্রিকেট2 days ago

মনীশ, বিজয়ের রেকর্ড জুটিতে রাজস্থানকে হারিয়ে দিল হায়দরাবাদ

ক্রিকেট2 days ago

ব্যাটে-বলে দাপট মুম্বইয়ের, ছিন্নভিন্ন চেন্নাই

কেনাকাটা

কেনাকাটা2 weeks ago

মেয়েদের কুর্তার নতুন কালেকশন, দাম ২৯৯ থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজো উপলক্ষ্যে নতুন নতুন কুর্তির কালেকশন রয়েছে অ্যামাজনে। দাম মোটামুটি নাগালের মধ্যে। তেমনই কয়েকটি রইল এখানে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা3 weeks ago

‘এরশা’-র আরও ১০টি শাড়ি, পুজো কালেকশন

খবর অনলাইন ডেস্ক : সামনেই পুজো আর পুজোর জন্য নতুন নতুন শাড়ির সম্ভার নিয়ে হাজর রয়েছে এরশা। এরসার শাড়ি পাওয়া...

কেনাকাটা3 weeks ago

‘এরশা’-র পুজো কালেকশনের ১০টি সেরা শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো কালেকশনে হ্যান্ডলুম শাড়ির সম্ভার রয়েছে ‘এরশা’-র। রইল তাদের বেশ কয়েকটি শাড়ির কালেকশন অ্যামাজন থেকে। প্রতিবেদন...

কেনাকাটা4 weeks ago

পুজো কালেকশনের ৮টি ব্যাগ, দাম ২১৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : এই বছরের পুজো মানে শুধুই পুজো নয়। এ হল নিউ নর্মাল পুজো। অর্থাৎ খালি আনন্দ করলে...

কেনাকাটা4 weeks ago

পছন্দসই নতুন ধরনের গয়নার কালেকশন, দাম ১৪৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজোর সময় পোশাকের সঙ্গে মানানসই গয়না পরতে কার না মন চায়। তার জন্য নতুন গয়না কেনার...

কেনাকাটা4 weeks ago

নতুন কালেকশনের ১০টি জুতো, ১৯৯ টাকা থেকে শুরু

খবর অনলাইন ডেস্ক : পুজো এসে গিয়েছে। কেনাকাটি করে ফেলার এটিই সঠিক সময়। সে জামা হোক বা জুতো। তাই দেরি...

কেনাকাটা1 month ago

পুজো কালেকশনে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকার মধ্যে চোখ ধাঁধানো ১০টি শাড়ি

খবর অনলাইন ডেস্ক: পুজোর কালেকশনের নতুন ধরনের কিছু শাড়ি যদি নাগালের মধ্যে পাওয়া যায় তা হলে মন্দ হয় না। তাও...

কেনাকাটা1 month ago

মহিলাদের পোশাকের পুজোর ১০টি কালেকশন, দাম ৮০০ টাকার মধ্যে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : পুজো তো এসে গেল। অন্যান্য বছরের মতো না হলেও পুজো তো পুজোই। তাই কিছু হলেও তো নতুন...

কেনাকাটা1 month ago

সংসারের খুঁটিনাটি সমস্যা থেকে মুক্তি দিতে এই জিনিসগুলির তুলনা নেই

খবরঅনলাইন ডেস্ক : নিজের ও ঘরের প্রয়োজনে এমন অনেক কিছুই থাকে যেগুলি না থাকলে প্রতি দিনের জীবনে বেশ কিছু সমস্যার...

কেনাকাটা1 month ago

ঘরের জায়গা বাঁচাতে চান? এই জিনিসগুলি খুবই কাজে লাগবে

খবরঅনলাইন ডেস্ক : ঘরের মধ্যে অল্প জায়গায় সব জিনিস অগোছালো হয়ে থাকে। এই নিয়ে বারে বারেই নিজেদের মধ্যে ঝগড়া লেগে...

নজরে