নষ্ট হতে বসা একগুচ্ছ তৈলচিত্রের পুনরুদ্ধারে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়

চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ। ছবি: সংগৃহীত

অরুণাভ ঘোষ, কলকাতা: কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের আনাচে-কানাচে ইতিহাস লুকিয়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী সেনেট হলে দীর্ঘদিন ধরে টাঙানো ছিল সেই খ্যাতনামা ব্যক্তি এবং মনীষীদের তৈলচিত্র, যাঁরা কোনো না কোনো ভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন অথবা এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছিলেন। তাঁদের অবদান শুধু ভারত নয়, বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছিল এই বিশ্ববিদ্যালয়কে। তাঁদের তৈলচিত্রগুলির যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচর্যার অভাবে নষ্ট হতে বসেছিল। এ বার সেনেট হলের বিখ্যাত ২১টি ছবিকে পুনরুদ্ধার করতে চলেছেন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন বর্তমান উপাচার্য সোনালি চক্রবর্তী বন্দ্যোপাধ্যায়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বাংলার অন্যতম পোট্রেট শিল্পী শশী হোসের আঁকা উমেশচন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়ের দুর্লভ ছবি নষ্ট হতে বসেছিল রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে। তাঁর আঁকা দু’টি ছবি ভারতে রয়েছে। যার মধ্যে একটি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ে। এ ছাড়া রয়েছে অতুল বসুর আঁকা স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়ের ছবি। জি পি গঙ্গোপাধ্যায়ের মতো বিখ্যাত ব্যক্তির আঁকা ছবিও নষ্ট হতে বসেছিল। সেই নষ্ট হতে বসা বহুমূল্যের ছবিগুলির পুনরুদ্ধারের কাজই চলছে।

প্রসঙ্গত, ১৮৫৭ সালের ২৪ জানুয়ারি ৪১ জন সেনেট সদস্য নিয়ে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের যাত্রা শুরু হয়। দীর্ঘ দেড়শো বছরে নানা উত্থান-পতনের সাক্ষী এই বিশ্ববিদ্যালয়। দেশ-বিদেশ থেকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে এসে পড়াশোনা করেছেন বহু বরেণ্য ব্যক্তি।

তৈলচিত্রগুলি পুনরুদ্ধারের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে হেরিটেজ কমিশনকে। হেরিটেজ কমিশনের বর্তমান চেয়ারম্যান বাংলার অন্যতম চিত্রশিল্পী শুভাপ্রসন্ন। তিনি বলেন, “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের যা ইতিহাস, তা অত্যন্ত গর্বের। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরামর্শের তাদের হাতে থাকা তৈলচিত্রগুলি পুনরুদ্ধার করছি”।

এই তৈলচিত্রগুলির মধ্যে রয়েছে স্যার আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, রাসবিহারী বসু, মহাত্মা গান্ধীর পাশাপাশি বেশ কয়েকজন বিদেশি ব্যক্তিত্বেরও ছবি। শুভাপ্রসন্ন বলেন, “কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান উপাচার্য তাঁর ব্যক্তিগত উদ্যোগে কী ভাবে তৈলচিত্রগুলির রক্ষণাবেক্ষণ করা যায়, সে দিকে জোর দিয়েছেন। ঐতিহ্যবাহী সেনেট হলটিও সারানো হচ্ছে”।

সোনালিদেবী জানান, “এই ছবিগুলো এমন ভাবে সেনেট হলে পড়েছিল, যা চেনাই যেত না। শুধু ভারতীয় শিল্পীই নন, অনেক বিদেশি শিল্পীরও ছবি এখানে রয়েছে। সংস্কারের সময় আমরা দেখতে পাই চিন্তামণি করের আঁকা গান্ধীজির ছবি ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের এক কোণে পড়েছিল। একই ভাবে আমরা নরেন্দ্রনাথ সরকারের আঁকা ছবিও খুঁজে পেয়েছি”।

শুভাপ্রসন্ন জানিয়েছেন, “ছ’মাস আগে আমরা এই পুনরুদ্ধারের কাজে হাত দিয়েছি। আরও তিন-চার মাসের মতো সময় লাগবে। তৈলচিত্রগুলিকে লেয়ার বাই লেয়ার ট্রিটমেন্ট্রের মাধ্যমে তেল রং করতে হচ্ছে। যা খুবই কঠিন কাজ”।

Be the first to comment

Leave a Reply

Your email address will not be published.


*


This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.