হেনস্তার ঘটনায় উপাচার্য ব্যবস্থা নিতে রাজি না হওয়ায় ক্ষুব্ধ শিক্ষামন্ত্রী

0
JU VC and Partha Chattopadhyay
যাদবপুরের উপাচার্য ও শিক্ষামন্ত্রী। ফাইল চিত্র।

নিজস্ব সংবাদদাতা: তাঁকে হেনস্তার ঘটনায় পড়ুয়াদের বিরুদ্ধে কোনো রকম কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার বিরুদ্ধে মত প্রকাশ করেছেন যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. সুরঞ্জন দাস। আর এই ঘটনায় বাস্তবিকই ক্ষুব্ধ হয়েছেন রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়।

রবিবার অল বেঙ্গল স্টেট গভর্নমেন্ট কলেজ টিচার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভায় এসে পার্থবাবু বলেন, “শিক্ষামন্ত্রী উপাচার্যকে যদি কিছু বলেন আর উপাচার্য যদি শিক্ষামন্ত্রীর সেই পরামর্শ উড়িয়ে দেন, তা হলে তো শিক্ষামন্ত্রীর আর কোনো কাজ থাকে না।” এই কথার মধ্য দিয়েই পার্থবাবু বুঝিয়ে দেন, ইউনিয়নের দাবিতে পড়ুয়াদের আন্দোলন এবং তাকে কেন্দ্র করে উপাচার্যকে হেনস্তা করার ঘটনায় উপাচার্যের বক্তব্যে তিনি মোটেই সন্তুষ্ট নন।

ইউনিয়নের দাবিতে গত মঙ্গলবার থেকে ফের উত্তাল হয় যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। সে দিনই ছাত্র বিক্ষোভের মাঝে পড়ে হেনস্তার শিকার হন উপাচার্য। তাঁকে স্ট্রেচারে করে স্থানীয় একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরের দিন হাসপাতালে উপাচার্যকে দেখতে গিয়ে শিক্ষামন্ত্রী তাঁকে বলেন, “যাঁরা আপনাকে হেনস্তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিন। বার বার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটছে, এটা বরদাস্ত করা যায় না।”

আরও পড়ুন রাজ্যে সপ্তম বেতন কমিশন চালু নিয়ে স্পষ্ট বার্তা পার্থর

উপাচার্যকে দেখে বেরিয়ে এসে সাংবাদিকদের শিক্ষামন্ত্রী বলেন, যাদবপুরে আন্দোলন এখন বার্ষিক উৎসবে পরিণত হয়েছে। আমি এই ঘটনার ভিডিও ফুটেজ চেয়ে পাঠিয়ে প্রশাসনিক স্তরে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলেছি।”

পার্থবাবুর এই বক্তব্যের ঠিক ২৪ ঘণ্টা পর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়ে উপাচার্য বলেন, “আমি দোষীদের চিহ্নিত করলেও শিক্ষক হিসেবে তাদের বিরুদ্ধে কোনো রকম নালিশ করব না বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করব না।” যদিও উপাচার্যের হেনস্তা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের তরফে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

উপাচার্য-হেনস্তার ঘটনার পরেও ইউনিয়ন নির্বাচন নিয়ে ত্রিপক্ষ বৈঠকের দাবিতে যাদবপুরে ছাত্রদের আন্দোলন অব্যাহত রয়েছে। গত দু’ দিন ধরে সহ-উপাচার্যকে ঘেরাও করে রাখা হয়।

ত্রিপাক্ষিক বৈঠক সম্পর্কে রবিবার শিক্ষামন্ত্রী বলেন, “ত্রিপাক্ষিক বৈঠক কেন হবে? এটা লেবার কমিশন নাকি যে ত্রিপাক্ষিক বৈঠক হবে? বিধানসভায় কাউন্সিল নিয়ে বিল পাশ হয়ে গিয়েছে। ছাত্রদের অসুবিধা কোথায় হচ্ছে? আমরা কোথাও নির্বাচন করছি না। রাজ্যের সমস্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম ভেঙে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে নির্বাচন করব, এটা কি সম্ভব?”

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here