এরকম ভাবেই চলছে রাস্তা পারাপার। নিজস্ব চিত্র
শ্রয়ণ সেন

শরীরটাকে টেরিয়ে-বেঁকিয়ে অদ্ভুত ভাবে রেলিং-এর মধ্যে দিয়ে গলে গেলেন এক মহিলা। তাঁর সঙ্গী তখনও রেলিং-এর অন্য প্রান্তে। তিনিও চেষ্টা করে চলেছেন তাঁর আগের জনের পথ অনুসরণ করতে কিন্তু কিছুতেই পারছেন না, কারণ আগের জনের থেকে তিনি স্বাস্থ্যবান। তবে কিছুক্ষণের মধ্যে তিনি সফল হলেন অবশ্য। এই সফলতায় এই দু’জন হয়তো বিশেষ আনন্দিত হলেন, কিন্তু আমি তখন অন্য চিন্তা করছি। একটু এ-দিক ও-দিক হলেই একটি দুর্ঘটনা ঘটার সমুহ আশঙ্কা ছিল ওই দু’জনের।

বাইপাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা পেরোনোর জন্য জীবনের ঝুঁকি রেখে এই শর্টকাটটা নেওয়া কি আদৌ দরকার ছিল ওঁদের?

দক্ষিণ শহরতলির পাটুলি। পাটুলি মোড় থেকে ঢালাই ব্রিজ পর্যন্ত বাইপাসের দু’টি লেনের মাঝখানে বড়ো রেলিং করে দেওয়া আছে। কোনো ভাবেই রাস্তা পেরোনো যাবে না। রাস্তা পেরোতে হলে পাটুলি মোড়ে আসতে হবে, নয়তো ঢালাই ব্রিজের কাছে পেট্রোল পাম্পে যেতে হবে। এর মধ্যের অঞ্চলটায় রাস্তা পেরোনোর কোনো উপায় নেই।

আরও পড়ুন আর শুধু লেনিন-স্ট্যালিন নয়, বিপ্লবের হাত ধরে ত্রিপুরার ইতিহাসে আসছে অন্য এক বিপ্লব

অবশ্য এই দুই মহিলাই নন। সারা দিনে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই এ রকম ভাবে রেলিংয়ের মধ্যে দিয়ে গলে গিয়ে রাস্তা পারাপার করেন। কিন্তু কেন জীবনকে এ রকম ভাবে বাজি রাখতে হয় তাঁদের?

এর পেছনে কোনো অকাট্ট যুক্তি কেউই খাড়া করতে পারলেন না। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বাসিন্দা বললেন, “কী করব বলুন, ও পারে যাওয়ার জন্য যদি এতটা রাস্তা ঘুরে যেতে হয়, তা হলে অনেক সময় নষ্ট হবে।” কিন্তু সেটা করতে গিয়ে আপনি যদি কোনো দুর্ঘটনা ঘটিয়ে ফেলেন? কোনো উত্তর নেই তাঁর কাছে।

যে জায়গাটার কথা আমি বলছি, সেখানে বাইপাসের এক দিকে রয়েছে এইচ-ব্লক, ও পারে রয়েছে ও-ব্লক। বছর দুয়েক আগে পর্যন্ত এখানে রাস্তা পারাপার করার সুবিধা ছিল। কারণ তখন এইচ-ব্লকের দিকে বাইপাসের ধারেই বাজার ছিল। সে বাজার এখন ঝিলের ওপরে গিয়ে ভাসমান বাজার হয়েছে। যখনই বাজারকে ঝিলের ওপরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা হয়, তখনই ডিভাইডারের ওপরে রেলিং দিয়ে রাস্তা পেরোনো বন্ধ করে দেওয়া হয়। এখন আর বাজার নেই কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দাদের অভ্যাস আর পালটায়নি।

ওই দুই মহিলা যখন রাস্তা পেরোচ্ছিলেন, সেখান দিয়েই শাঁ করে একটা গাড়ি চলে গেল। মুহূর্তের মধ্যে যে ভাবনাটা মাথায় এল, যদি ওই গাড়ির জন্য ওই দুই মহিলার কিছু হয়ে যেত, সবার রোষের শিকার কিন্তু ওই গাড়িটাই হত। অথচ এ ক্ষেত্রে গাড়িটার কোনো দোষই ছিল না।

দিকে দিকে সচেতনতার পাঠ দেওয়া হচ্ছে। এক শ্রেণির মানুষ যে সেই সচেতনতাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দিচ্ছেন এই ঘটনাই তার প্রমাণ। তবুও সাধারণ মানুষের কাছে আবেদন, একটু সচেতন হন, রাস্তার যেখান দিয়ে পেরোনোর কথা, সেখান দিয়েই পেরোন। কারণ কয়েক মিনিট সময় বেশি লাগলে আপনার  কোনো ক্ষতি হবে না। কিন্তু প্রাণটা যদি এ ভাবে চলে যায়, তা হলে?

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন